
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 28 April 2025 14:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের কাছে একটা বড় সমস্যাই হল- না বলে কয়ে আসা ছাঁটাইয়ের নির্দেশ। এই ভয় যেন তাড়া করে বেড়ায় তাঁদের সবসময়। কারণ তার পরে আবার কবে নতুন চাকরি পাবেন সেই চিন্তা ঘোরে শুধু মাথায়।
কিন্তু এবার এক অন্য রকম ঘটনা ঘটেছে বেঙ্গালুরুতে। চারদিকে যখন এত ছাঁটাইয়ের খবর, তার মধ্যেই এই ঘটনা নজর কেড়েছে মানুষের। বেঙ্গালুরুর এক স্টার্টআপ সিইও তাঁর অফিসের ৭০ জনকে ছাঁটাই করার পর যেভাবে বিষয়টি সামলেছেন, তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। কোম্পানির বাজেট নিয়ে সমস্যার কারণে তারা কর্মীদের ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়।
যেভাবে তিনি পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করেছেন, তা অনেককেই ভাবতে বাধ্য করেছে যে এটাই তো হওয়া উচিত। একাধিক উদ্যোক্তা ও কর্পোরেট লিডাররা তাঁর এই মানসিকতার প্রশংসা করেন।
হর্ষ পোখার্না, ওকে ক্রেডিটের (OkCredit)-এর সিইও এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা, লিংকডইনের একটি পোস্টে জানান, ‘১৮ মাস আগে আমরা ৭০ জনকে ছাঁটাই করতে বাধ্য হই। আমরা খুব দ্রুত নিয়োগ করছিলাম, তাই খরচও বেড়ে যাচ্ছিল। এটা আমাদের ভুল ছিল। আমরা সেটার দায় স্বীকার করছি। কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে এটা আমার জীবনের অন্যতম কঠিন সিদ্ধান্ত। কিন্তু আমরা চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখিনি, চেয়েছি যাতে এই পুরো প্রক্রিয়াতে কাউকে অসম্মান না করা হয়।’
তিনি আরও জানান, প্রত্যেক কর্মীর সঙ্গে আলাদা করে কথা বলে, ছাঁটাইয়ের কারণ ব্যাখ্যা করা হয়। এরপর তিন মাসের নোটিস দেওয়া হয় তাঁদের সবাইকে। পাশাপাশি, যতরকম ভাবে সাহায্য করা সম্ভব, তার চেষ্টা করা হয়। চাকরির রেফারেন্স, পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া, নতুন চাকরির খোঁজে সহায়তা- সবটুকু।
পোখার্না লেখেন ‘এই তিন মাসের মধ্যেই ৭০ জনের মধ্যে ৬৭ জন নতুন চাকরি পেয়ে গেছেন। ‘যাঁরা পাননি, তাঁদের জন্য আমরা অতিরিক্ত দু’মাসের বেতনও দিয়েছি।’
বর্তমানে গোটা আইটি জগতে ছাঁটাই খুব সাধারণ এক চিত্র। সেখানে অনেক সময় কর্মীরা ইমেল দেখে জানতে পারেন তাঁদের ছাঁটাই করা হয়েছে, কোনও ব্যক্তিগত যোগাযোগ ছাড়াই।
পোখার্নার কথায়, ‘কেমনভাবে ছাঁটাই করা হচ্ছে, সেটাই বলে দেয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতি বা পরিবেশ কেমন। আপনি যখন কাউকে ‘পরিবার’ সম্মান দিয়ে নিয়োগ করেন, তখন তাঁকে বিদায় জানানোতেও পরিবারের মতোই আচরণ থাকা উচিত।’
একজন সিইও মন্তব্য করেন, ‘এভাবেই ব্যাপারটা সামলানো উচিত। আরও অনেকে যদি এভাবে এগোতেন, কর্মসংস্কৃতি অনেক বদলে যেত।’
এক সহ-প্রতিষ্ঠাতা লেখেন, ‘এই ঘটনা মনে করিয়ে দেয়, একজন প্রকৃত লিডারের দায়িত্ব কী হওয়া উচিত। আপনি দারুণভাবে বিষয়টা সামলেছেন। আমরা যারা কর্মী-কেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান গড়তে চাই, তাদের জন্য এটা দৃষ্টান্ত।’
একজন স্টার্টআপ সিএফও মন্তব্য করেন, ‘অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের ছাঁটাইয়ের সময় ন্যূনতম সম্মানটুকুও দেখায় না। এই কঠিন সময়ে যাঁরা সম্মান পান, তাঁদের কাছে সেটাই ওই মুহূর্তে অনেক বড় ব্যাপার। আপনি যে সেটা করেছেন, তার জন্য শ্রদ্ধা রইল।’