
শেষ আপডেট: 27 October 2023 14:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুদূর গ্যালাক্সি। এর সীমা পরিসীমা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। আমাদের সৌরমণ্ডল পেরিয়ে কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরে সেই মায়াময় জগৎ। মহাশূন্যের অতলান্ত আঁধারে সেই বহুদূরের জগৎ থেকে ভেসে আসছে রেডিও সঙ্কেত। ৮০০ কোটি বছর ধরে সেই তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়ছে মহাকাশে। অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীরা অবাক হয়ে শুনলেন সেই তরঙ্গের ওঠাপড়া।
ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক ওয়েভ বা তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ, এমনটাই বলেছেন অস্ট্রেলিয়ার মহাকাশবিজ্ঞানীরা। ইউরোপিয়ান সাদার্ন অবজার্ভেটরির বিশাল রেডিও টেলিস্কোপ রয়েছে চিলিতে। সেই টেলিস্কোপে ধরা পড়েছে সুদূর গ্যালাক্সি থেকে ভেসে আসা সেই রেডিও সঙ্কেত। অস্ট্রেলিয়ার মহাকাশবিজ্ঞানীরা মহাশূন্যে ভেসে আসা সেই তরঙ্গের ওঠাপড়া পরীক্ষা করছেন। কখনও সেই তরঙ্গের মাত্রা তীব্র, আবার কখনও কম, বিক্ষিপ্ত। কারা পাঠাচ্ছে সিগন্যাল? ভিনগ্রহীদের ডাক কি?
২০২০ সালের এপ্রিল ও সেপ্টেম্বরে প্রথম এফএম সিগন্যাল ধরা পড়েছিল টেলিস্কোপে। তবে একটানা নয়। এর নাম দেওয়া হয়েছিল FRB 20190520B। মেক্সিকোর রেডিও অ্যাস্ট্রোনমি অবজার্ভেটরিতেও সেই রেডিও বার্তা ধরা পড়েছিল সেখানকার বিরাট টেলিস্কোপে। এর আগে বৃহস্পতির চাঁদ (উপগ্রহ) জুনো থেকে রেডিও বার্তা ভেসে এসেছিল। সেবারও বিষয়টা নিয়ে হইচই হয়েছিল। উল্লেখ্য়, ১৯৮৮-তে প্রথমবার এই ধরনের বেতার সংকেতের অস্তিত্ব পান জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। তবে ওই সময় কয়েক মিলিসেকেন্ডের জন্য রেডিও সিগন্যাল পেয়েছিলেন তাঁরা।
ভিনগ্রহীরা ডাকছে না তো? বিজ্ঞানীরা কী ব্যাখ্যা দিচ্ছেন
ভিনগ্রহীদের তত্ত্ব মানতে নারাজ মহাকাশবিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা দিচ্ছেন, মহাকাশের সুপারনোভার কারণেই এমন রহস্যময় তরঙ্গ তৈরি হতে পারে। তারার যেমন জন্ম হয়, তেমনি মৃত্যুও হয়। কোনও তারা বা নক্ষত্র যখন মৃত্যুমুখে পৌঁছয় তখন ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ হয়। তাকে বলে সুপারনোভা। এই সুপারনোভার সময় তীব্র আলোর ছটা দেখা যায় মহাকাশে। বিস্ফোরণে তারার শরীর থেকে বেরিয়ে আসে আগুনের গোলা ও গ্যাস। তবে এই ঔজ্জ্বল্য বেশিদিন থাকে না। অল্প সময় পরেই তা ফিকে হতে থাকে। শেষে হারিয়ে যায়। যতদিন সেই বিস্ফোরণ চলে ততদিনই মহাকর্ষীয় তরঙ্গ বিচ্ছুরিত হতে থাকে। সেই তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে মহাকাশে। সুদূর ,সেই গ্যালাক্সিতে এমনই কোনও তারার জন্ম বা মৃত্যু হচ্ছে বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
আরও একটা কারণ থাকতে পারে। হতেই পারে কোনও নিউট্রন তারা ও ব্ল্যাকহোলের মধ্য়ে সংঘাত বেঁধেছে। সেখান থেকেও এমন তরঙ্গ তৈরি হচ্ছে। মহাজাগতিক বস্তুদের মধ্যে সংঘাত এতটাই তীব্র যে তার ধাক্কায় উথালপাথাল হতে পারে মহাশূন্য। মহাকাশবিজ্ঞানীরা বলেন, গ্যালাক্সি সাধারণত হয় একটা জমাট বাঁধা গ্যাসের স্রোতের মতো। তার শরীরে বাসা বেঁধে থাকে কোটি কোটি নক্ষত্র। যাদের আকার ও ভর সূর্যের চেয়েও বহুগুণ বড়। এই বিশালাকায় তারাদের মধ্যে যুদ্ধ চলে অবিরত। আবার কখনও তারা গ্যালাক্সির মাঝে থাকা ব্ল্যাকহোলের সঙ্গেও ঝামেলা শুরু করে দেয়। মহাজাগতিক বস্তুদের এই ধাক্কাধাক্কিতে বিকট বিস্ফোরণে গনগনে লাভার স্রোতের মতো ধোঁয়া ও মৃত তারাদের শরীরের ছিন্নভিন্ন অংশ ছিটকে পড়ে চারদিকে। এই প্রলয় যেমন মৃত্যু ঘটায়, তেমনি জন্ম দেয় নতুন নক্ষত্রের।