
গ্রহাণুর দাপটে বিলুপ্ত।
শেষ আপডেট: 28 June 2024 17:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাড়ে ছ'কোটি বছরেরও বেশি সময় আগে, বিশাল এক গ্রহাণু আছড়ে পড়েছিল পৃথিবীর বুকে। ডাইনোসর প্রজাতি বিলুপ্ত হয়েছিল, সেই গ্রহাণু-বিপর্যয়েই। বহু গবেষণার পরে সম্প্রতি এই সিদ্ধান্তে এসেছেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু আরও জানা গেছে, একমাত্র ডাইনোসরই নয়, আরও এক প্রাণী প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটিয়েছিল ওই গ্রহাণু।
নেচার কমিউনিকেশন জার্নালে ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবাশ্মবিদদের একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। তাতেই বলা হয়েছে, ডাইনোসর বিলুপ্তির আগেই ওই গ্রহাণুর গ্রাসে শেষ হয়ে গিয়েছিল অ্যামোনাইট প্রজাতি।
আজ থেকে প্রায় ৮ কোটি বছর আগে আটলান্টিক মহাসাগরে এই অ্যামোনাইট নামের বিচিত্র প্রাণীই বাস করত। প্রাণীটির জীবাশ্ম বিশ্লেষণ করে জানা গিয়েছে, এটির শরীরের অর্ধেক অংশ স্কুইডের মতো আর আধা অংশ আপেল শামুকের মতো পুরু বাঁকানো খোলে মোড়া! বিজ্ঞানীদের দাবি, এই সামুদ্রিক প্রাণীটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৬ ফুটের মতো ছিল।

ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বলছে, এই আইকনিক আপেল শামুকের মতো প্রজাতিটি বিলুপ্ত হওয়ার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত বেড়ে চলেছিল সংখ্যায়। এটি সেফালোপোডা শ্রেণির অন্তর্গত। স্কুইড, অক্টোপাস এবং কাটলফিশ-- সকলের বৈশিষ্ট্য নিয়েই মহাসাগরে দাপিয়ে রাজত্ব করছিল এই প্রজাতি।
এই রিসার্চের অন্যতম মুখ, ডক্টর জোসেফ ফ্ল্যানারি-সাদারল্যান্ড জানিয়েছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীববৈচিত্র্যের বহু পরিবর্তন এসেছে। কত প্রজাতি এসেছে, কতই না হারিয়ে গেছে। এত লক্ষ কোটি বছর পরে সেই সব প্রাণীদের আসা-যাওয়া বোঝা রীতিমতো চ্যালেঞ্জিং। জীবাশ্মের রেকর্ডের উপরেও পুরোপুরি বিশ্বাস করা যায় না। কারণ বহু মিসিং লিঙ্ক রয়েছে এই জীববৈচিত্র্যের ইতিহাসে।

জানা গেছে, অ্যামোনাইটের প্রজাতির বিলুপ্তি এবং সে বিলুপ্তি হওয়ার যে গতি, তা বিভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলে এবং ভূতাত্ত্বিক সময়ে আলাদা আলাদা। এতদিন এই নিয়ে তথ্য খুবই কম ছিল। সম্প্রতি অ্যামোনাইট জীবাশ্মগুলির একটি নতুন ডাটাবেস একত্রিত করে, নমুনাগুলির শূন্যস্থান পূরণে মন দিয়েছিলেন গবেষকরা। তাতেই সামনে এসেছে চমকে দেওয়া তথ্য।
বিশ্বের বৃহত্তম অ্যামোনাইটের জীবাশ্মটি পাওয়া গিয়েছিল ১৮৯৫ সালে, জার্মানিতে। ওই জীবাশ্মটির ব্যাস ছিল প্রায় ৫.৭ ফুট। বিজ্ঞানের ভাষায় একে Parapuzosia seppenradensis বলা হয়। এরপরে অ্যামোনাইট নিয়ে দীর্ঘ গবেষণার মাঝে ২০২১ সালে ইংল্যান্ডে ১৫৪টি অ্যামোনাইট ফসিল পাওয়ার কথা জানা যায়। এছাড়া আরও ১০০টি নতুন ও ছোট জীবাশ্মও পাওয়া যায় মেক্সিকোতে।

লন্ডনের হিস্ট্রি মিউজিয়াম বিশেষজ্ঞ, ডক্টর জেমস উইটস এই অ্যামোনাইট বৈচিত্র্যের আঞ্চলিক পার্থক্য বিবেচনা করার গুরুত্ব তুলে ধরেন প্রথম। তিনি বলেছিলেন, জীবাশ্ম দেখে মনে হচ্ছে, অ্যামোনাইটগুলি কিছু অঞ্চলে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে রীতিমতো সংগ্রাম করছিল, আবার কিছু অঞ্চলে তরতর করে তাদের বাড়বৃদ্ধি হচ্ছিল। দেখে মনে হচ্ছিল, এদের বিলুপ্তি জীববৈচিত্র্যের নিয়ম মেনে, ধারাবাহিক ভাবে, অনিবার্য হয়ে ওঠেনি। কোনও এক নির্দিষ্ট ঘটনা এদের শেষ করে দেয়।
এই রিসার্চের শেষেই মিলেছে গ্রহাণু তত্ত্ব। স্থান-কাল জুড়ে জীববৈচিত্র্যের পরিবর্তনের সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্মতর বিশ্লেষণ করার পরেই এতদিনের থিওরিকে চ্যালেঞ্জ করেন বিজ্ঞানীরা এবং তাদের আকস্মিক বিলুপ্তির কারণ প্রতিষ্ঠা করেন বিশ্বের দরবারে।