
শেষ আপডেট: 22 March 2024 14:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ত্রিমাত্রিক রকেট। থ্রি-ডি প্রিন্টার থেকে ছেপে বেরিয়েছে এর যন্ত্রপাতি। মানে রকেটের প্রিন্ট আউট?
সেই প্রিন্টেড রকেট (3-D printed rocket) আবার আকাশেও উড়বে?
দেশের প্রথম থ্রি-ডি প্রিন্টেড রকেট মহাকাশে যাওয়ার অপেক্ষায়। এই রকেট কিন্তু ইসরো বানায়নি। দেশে প্রথম থ্রি-ডি প্রিন্টেড রকেট তৈরি করেছে চেন্নাইয়ের বেসরকারি সংস্থা অগ্নিকুল কসমস। তাদের তৈরি রকেটের নাম ‘অগ্নিবাণ’। এই রকেটই মহাকাশে ট্রায়াল দিতে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। সব ঠিক থাকলে কাল বা পরশুর মধ্যেই পৃথিবীর মাটি ছাড়িয়ে আকাশে উড়ে যাবে থ্রি-ডি প্রিন্টেড রকেট অগ্নিবাণ।
প্রিন্টারে রকেটও ছেপে বেরোচ্ছে? ডিজিটাল বিজ্ঞানের যুগে সবই সম্ভব। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে বছরের পর বছর চেষ্টা করে আস্ত একটা রকেট বানানোর ঝক্কি আর নিতে চাইছেন না বিজ্ঞানীরা। যেসব রকেট আছে তার প্রিন্ট আউট নিয়ে নিলেই হল! থ্রি ডি প্রিন্টার থেকেই তৈরি হয়ে যাবে একদম আসলের মতো মহাকাশান। বহু বছরের চেষ্টায় এই কাজে সাফল্য এসেছে। ইসরো বহুদিন থেকেই থ্রি-ডি প্রিন্টেড রকেট বানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার আগেই এমন রকেট আকাশ ওড়ানোর তোড়জোড় করছে অগ্নিকুল কসমস।
১০০ কিলোগ্রাম ওজনের পেলোড নিয়ে যেতে পারবে এই রকেট। দৈর্ঘ্যে প্রায় ১৮ মিটার, ওজন ১৪ টনের মতো। প্রস্থে ১.৩ মিটার। অগ্নিকুলে সিইও অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার শ্রীমাণ রবিচন্দ্রন জানিয়েছেন, এই রকেটটি সেমি-ক্রায়োজেনিক। এমন রকেট যার ইঞ্জিনে ভরা হবে কেরোসিন ও অক্সিজেন। তরল অক্সিজেন ও অ্যাভিয়েশন টার্বাইন ফুয়েল থাকবে রকেটে। চেন্নাইয়ের মহাকাশ প্রযুক্তি স্টার্টআপ সংস্থা অগ্নিকুল কসমস জানিয়েছে, এই রকেটে থ্রি-ডি প্রিন্টেড ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। একেবারে পরিশুদ্ধ কেরোসিন ও হিমশীতল তরল অক্সিজেন থাকবে ইঞ্জিনে। পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার উপরে পাঠানো যাবে এই রকেটকে।
থ্রি-ডি প্রিন্টিং বিষয়টা ঠিক কী?
সোজা ভাষায়, কাগজের উপর শুয়ে থাকা সারি সারি অক্ষরমালা নয়। এমন ছাপা সে, যার দৈর্ঘ্য আছে, প্রস্থও আছে, আবার আছে উচ্চতাও। অর্থাৎ প্রিন্ট হয়ে যা বের হবে তার গঠন ত্রিমাত্রিক। কিন্তু বাস্তবের সঙ্গে হুবহু মিল, অবিকলই একই প্রতিকৃতি হবে।
সাধারণ প্রযুক্তিতে ছাপতে গেলে দরকার হয় কালির। থ্রি-ডি প্রিন্টিংয়ের ক্ষেত্রেও বিষয়টা অনেকটা একই রকম। তবে এখানে কালি হিসেবে সাধারণত ব্যবহার করা হয় ধাতু, সেরামিক কিংবা পলিমার। যদিও দরকারে অন্য রাসায়নিকও ব্যবহার করা যেতে পারে।
আরও সহজ করে ব্যাপারটা বলা যাক। ধরা যাক, একটা ধাতুর রডের থ্রি-ডি প্রিন্ট করতে হবে। ছাপা হবে ত্রিমাত্রিক। রডের নকশা কম্পিউটারে বানিয়ে নিতে হবে। ত্রিমাত্রিক সেই নকশাটা প্রসেসে রাখতে হবে। এবার দরকার বিশেষ ধরনের ‘কালি’র। আর এখানেই অভিনবত্ব। থ্রি-ডি প্রিন্টিং-এ কালির বদলে যে রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে রডটা বানাতে হবে সেটাই ব্যবহার করতে হবে। অর্থাৎ সেটাই কালি। রকেটের মতো মহাকাশযান তৈরি করতে গেলে ধাতব কালিই লাগবে।
ভারী ধাতব যন্ত্রপাতি বা রকেটের যন্ত্রাংশ বানানো বিষয়টা আরও জটিল। এক্ষেত্রে অ্যালুমিনিয়াম, টাইটেনিয়াম, নিকেল, তামা, ক্রোমিয়ামের মতো ধাতু নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। থ্রি-ডি প্রিন্টেড রকেটের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ছাঁচে ফেলে তার উপর চাপসৃষ্টি করলেই তৈরি ইঞ্জিনের কাঠামো বেরিয়ে আসে। নকশা ফুটিয়ে তুলতে ব্যবহার করা হয় লেজার। এমন রকেটে জ্বালানিও বেশি লাগে না।