
শেষ আপডেট: 5 July 2022 07:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সে এক অবিশ্বাস্য অভিযান! (Adventure) সালটা ১৯৬৯। ১ ফেব্রুয়ারি ছোট্ট একটা কাঠের নৌকায় (Boat) চড়ে কলকাতার গঙ্গা বেয়ে পাড়ি দিলেন দুই অভিযাত্রী। গন্তব্য, ৯০১ নটিক্যাল মাইল দূরে আন্দামান (Andaman)। কাঠের নৌকার নাম 'কানোজি আংরে।' সেই নৌকায় না আছে মোটর, না আছে পাল। ভরসা বলতে শুধুই দাঁড়।
বিপদসংকুল জলপথে পাড়ি দিতে দুই অভিযাত্রীর ভরসা ছিল শুধুই মনের জোর। সেটুকুই সম্বল করে পাড়ি দিলেন দুজন। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ, সমুদ্রপথে কলকাতা থেকে পোর্ট ব্লেয়ারের অ্যাবার্ডিন জেটিতে পৌঁছতে সময় লাগে পাক্কা ১ মাস ৭ দিন। সাগরপাড়ে তখন জনজোয়ার। তৈরি হল নতুন ইতিহাস!
দুজনের মধ্যে একজন খাঁটি বঙ্গসন্তান, নাম পিনাকীরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় (Pinaki Ranjan Chatterjee)। অন্যজন অবশ্য বিদেশি, তিনি হলেন ডিফেন্স অফিসার জর্জ অ্যালবার্ট ডিউক। পিনাকীরঞ্জন তখন বছর তেইশের তরতাজা যুবক। খবরের কাগজে একদিন চোখে পড়ল একটা বিজ্ঞাপন। সেই বিজ্ঞাপনে বিখ্যাত সাঁতারু মিহির সেন কলকাতার সাহসী যুবকদের নৌকায় চেপে কলকাতা থেকে আন্দামানে পৌঁছানোর দুঃসাহসিক অভিযানে অংশ নিতে ডেকেছেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোয়িং চ্যাম্পিয়ন পিনাকীরঞ্জন আর দেরি করেননি, সঙ্গে সঙ্গে গিয়ে হাজির হন মিহিরবাবুর অফিসে। শারীরিক পরীক্ষা ও ইন্টারভিউয়ের পর নির্বাচিত হন তিনি। সঙ্গী পেলেন জর্জ অ্যালবার্ট ডিউককে।
দুঃসাহসিক সেই অভিযানের সুবর্ণজয়ন্তী ছিল ২০১৯ সালে। তবে করোনার প্রকোপে তা উদযাপন করা যায়নি। তার বদলে গতকাল, সোমবার সি এক্সপ্লোরার্স ইনস্টিটিউটের তরফে পালন করা হল ৫০ বছর পূর্তির অনুষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি চালনার দায়িত্বে ছিলেন পিনাকীবাবুর স্ত্রী শিউলি চট্টোপাধ্যায়। পিনাকীবাবু প্রয়াত হলেও এদিনের অনুষ্ঠানে সশরীরে হাজির হয়েছিলেন তাঁর সঙ্গী জর্জ অ্যালবার্ট ডিউক। পিনাকীবাবুর ছেলে আনন্দ চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী ডঃ সুদেষ্ণা চট্টোপাধ্যায় সহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন সেখানে। প্রেস ক্লাবে প্রদর্শন করা হয় সেই অভিযানের ছবির কোলাজ।
মদ্যপ বাবা, স্বামীও অত্যাচারী! পরিচারিকার কাজ করে বেবি এখন ‘বেস্টসেলার’ লেখিকা