
শেষ আপডেট: 19 February 2024 18:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কখন কেঁপে উঠবে মাটি, কখন ফুঁসে উঠবে সমুদ্র, কখনই বা ধেয়ে আসবে প্রচণ্ড গতির ঘূর্ণিঝড়—এসবই দুর্যোগ ঘটার ঘণ্টাখানেক আগেই জানিয়ে দেবে বিশেষ যন্ত্র। ভারতে প্রথম ভূমিকম্প ও সুনামির পূর্বাভাস দেওয়ার মতো বিশেষ যন্ত্রপাতি বসল হায়দরাবাদে। কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী কিরেণ রিজিজু জানিয়েছেন, হায়দরাবাদে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশেন ইনফরমেশন সার্ভিসের (INCOIS)উদ্যোগে তৈরি হয়েছে সিনওপস ল্যাব। গবেষকরা এখানে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বলে দিতে পারবেন দেশের কোথাও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাবনা আছে কিনা। এই ল্যাবরেটরি থেকেই সিগন্যাল পাঠানো হবে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দলকে। আগে থেকেই সতর্ক করা হবে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোকে যাতে প্রাণহানির মতো ঘটনা না ঘটে।
সমদ্রের কত গভীরে ওলপালট হচ্ছে ভূস্তর, কোথায় টেকটনিক প্লেটের মধ্যে সংঘর্ষ হচ্ছে তার নিখুঁত বিবরণ দিতে পারবে ভারতীয় বিজ্ঞানীদের তৈরি যন্ত্র। মাটির কয়েক কিলোমিটার গভীরে কোনও পরিবর্তন হলে তা চটজলদি ধরা পড়বে এই যন্ত্রের রেডারে। মিনিটখানেকের মধ্যেই যন্ত্র বলে দিতে পারবে সেখানকার ভূস্তরে কী কী বদল হচ্ছে, ভূমিকম্পের সম্ভাবনা আছে কিনা।
হিমালয়ের নীচে ভূকম্পন বলয় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। যার জেরে ভারতীয় পাতের সঙ্গে ইউরেশীয় পাতের ধাক্কাধাক্কি চলছে। টেকটনিক প্লেটদের লাগাতার ঝামেলা-ঝঞ্ঝাটের কারণে দিল্লি বা উত্তর-পশ্চিম ভারত শুধু নয়, গোটা দেশেই ভয়ানক ভূমিকম্প হতে পারে যখন তখন। বিশেষ করে হিমালয় এলাকায় যে কোনও মুহূর্তে বড়সড় ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়েছে।
গোটা উত্তর-পশ্চিম ভারত দাঁড়িয়ে রয়েছে এমন একটি ‘কম্পন অধ্যুষিত’ অঞ্চলে যাকে ভূকম্প বিশেষজ্ঞেরা ‘হটস্পট’ বলে অভিহিত করেছেন। অর্থাৎ কি না এই অঞ্চলে প্রতিনিয়তই রিখটার স্কেলে ৪, সাড়ে ৪, ৫ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েই থাকে। তার মধ্যে উত্তর-পশ্চিম হিমালয় তুলনামূলক ভাবে বেশি ভূমিকম্পপ্রবণ। ওই অঞ্চলে ভূমিকম্প সব সময় হয়েই চলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বছর দুয়েক ধরে নেপালে পরপর যে সব ভূমিকম্প হয়েছে, তাতে গোটা হিমালয়ের ভূস্তর আরও অস্থির হয়ে গিয়েছে। এর ফলে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের পরেও শক্তিশালী ভূমিকম্পোত্তর কম্পন (আফটার শক) অনুভূত হচ্ছে। গত কয়েকমাসে লাগাতার কম্পন হয়েছে দিল্লি ও সংলগ্ন এাকাগুলিতে।
ভূকম্পন বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ইন্ডিয়ান প্লেটের মধ্যে হওয়া সংঘর্ষের কারণেও ভূগর্ভে ‘চ্যূতি’ তৈরি হচ্ছে। এই রেষারেষির সময়ে ইন্ডিয়ান প্লেটটি যখনই ইউরেশীয় প্লেটের নীচে ঢুকে যাচ্ছে, তখন মাটির নীচে বিশাল পরিমাণ শক্তি মুক্ত হচ্ছে। আর সেই নির্গত শক্তির পরিমাপ কতটা, তার উপরে নির্ভর করছে ভূমিকম্পের মাত্রা। ফলে যে কোনও সময়েই বড়সড় ভূমিকম্প হতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আগামী দিনে কোথায় ভূমিকম্প হবে তার পূর্বাভাস আগে থেকেই দেবে ওই যন্ত্র। সবসময় ভূমিকম্প হলেই যে সুনামির জন্ম হবে তা নয়। তবে সুনামির জন্য ভূঅভ্যন্তরে কম্পন হতেই হবে। দেখা যায়, পৃথিবীর অভিকর্ষজ বলের প্রভাবে যখন একটি ভারী প্লেট অন্য একটি হাল্কা প্লেটের নীচে ক্রমশ ঢুকে যেতে থাকে, তখন ওই এলাকায় একটা ‘সাবডাকশান জোন’-এর সৃষ্টি হয়। দু’টি প্লেটের মধ্যে ঘর্ষণ (ফ্রিকশান)-এর ফলে প্রচুর পরিমাণে চাপ, তাপ আর বল (Force) তৈরি হয়। এই প্রচণ্ড শক্তি যখন বাইরে বেরিয়ে আসে তখনই তীব্র ভূকম্প হয় সমুদ্রগর্ভে। আর সমুদ্রগর্ভে ভূমিকম্প হলেই সুনামির জন্ম হয়।সুনামি কখন আসবে তা আগে থেকে বলা সম্ভব নয়। কিন্তু ওই যন্ত্র সেই অসাধ্য সাধনই করবে বলে দাবি বিজ্ঞানীদের। আগামী দিনে সুনামির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, তাই সাবধান হতেই ওই বিশেষ যন্ত্র তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরা।