
শেষ আপডেট: 9 November 2023 18:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১ লক্ষ ২৫ হাজার বছরের মধ্যে সবচেয়ে উষ্ণতম বছর ২০২৩, এমনটাই দাবি করেছেন ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের বিজ্ঞানীরা। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০২৩ সালে সবচেয়ে উষ্ণতম ও রুক্ষ মাস হল অক্টোবর। ভারত শুধু নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অক্টোবর মাসে যেভাবে তাপমাত্রা বেড়েছিল ও ভয়ঙ্কর তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছিল তাতে আগামী দিনগুলোতে আরও বড় বিপর্যয়েরই আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা।
ইউরোপের কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের (C3S) ডিরেক্টর সামান্থা বার্গেস বলছেন, চলতি বছর সবদিক থেকেই মারাত্মক। বছরজুড়ে মারাত্মক তাপপ্রবাহ হয়েছে, অতিবৃষ্টি এবং এর ফলে ভয়ঙ্কর বন্যা ভাসিয়ে নিয়ে গেছে সব। ভয়াবহ দাবানল জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করেছে। বর্ষাকাল এলেও তেমনভাবে বৃষ্টি হয়নি। নাসা বলেছে, চলতি বছরে আবহাওয়ার এমন ভোলবদলের জন্য দায়ী ইউরোপে নজির গড়ে ফেলা তাপপ্রবাহ, গোটা সুমেরু ও ইউরেশিয়ার তাপমাত্রা বৃদ্ধি আর পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি।
১৯৫১ থেকে ’৮০, পৃথিবীর তিন দশকের তাপমাত্রাকে ‘বেসলাইন’ ধরে দেখা গেছে, অক্টোবরে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা যা থাকা উচিত, সে তুলনায় এ বছরের অক্টোবর অনেক বেশি উষ্ণ। ‘কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস’ জানাচ্ছে, প্রশান্ত মহাসাগরে উষ্ণ জলস্রোত এল নিনোর কারণে এ বছরে তাপমাত্রা বেড়েছে সমুদ্রপৃষ্ঠের। ফলে তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। ক্যালিফর্নিয়া এবং টেক্সাসে তাপপ্রবাহ (heatwave) চলছে। আগামী দিনে তাপমাত্রা আরও বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ক্যালিফর্নিয়ার ভয়ঙ্কর দাবানল ছারখার করে দিয়েছে সব। কানাডার কিছু জায়গাতেও দাবানল দেখা গেছে এ বছর।
গত ৭-৮ বছর ধরে ইউরোপে খরা লাগাতার ভাবে যতটা তীব্র থেকে তীব্রতর (heatwave) হয়ে উঠেছে, তা গত ২ হাজার বছরে রেকর্ড করেছে। গোটা ইউরোপ মহাদেশে বেড়েছে তাপপ্রবাহের ঘটনা। বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্যই এটা হয়েছে। চলতি এপ্রিল থেকেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তাপমাত্রা রেকর্ড ছুঁয়েছে।
২০২১ সাল ছিল গত ১৫০ বছরে বিশ্বের ষষ্ঠ উষ্ণতম বছর আর গত ১২০ বছরের ইতিহাসে ভারতে পঞ্চম উষ্ণতম বছর। ভারত, আমেরিকা, ইউরোপ-সহ গোটা বিশ্বেই গত এক দশক ধরে বছর বছর তাপমাত্রা বাড়ছে। এর মধ্যে উষ্ণতম ছিল ২০১৬ এবং ২০২০। তাকেও ছাপিয়ে গেছে ২০২৩। গত বছরও তাপমাত্রার পারদ চড়েছিল। নোয়া-র পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ছিল ১৪.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা সাড়ে ৫৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট। আবহবিদেরা বলছেন, প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম হল দক্ষিণ আমেরিকার উপকূল থেকে উষ্ণ সমুদ্রের জল পশ্চিমে সরে গিয়ে কেন্দ্রীভূত হয় এশিয়া-অস্ট্রেলিয়া উপকূলের কাছে। এর উল্টো প্রক্রিয়াটাই ‘এল নিনো’। এর ফলে প্রশান্ত মহাসাগরের যে অংশের অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা থাকার কথা, সেটি উষ্ণ হতে শুরু করে। সমুদ্রের সেই অতিরিক্ত তাপ নির্গত হয় সমুদ্রপৃষ্ঠের বাতাসে। তার জেরে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। ভারতেও একাধিক বার এর প্রভাব পড়েছে।
বিশ্ব উষ্ণায়ণের থাবা একেবারে জাঁকিয়েই বসেছে। তাপমাত্রা যত বাড়ছে ততই বিশাল বিশাল হিমবাহে ফাটল ধরছে। ভেঙে যাচ্ছে মেরুপ্রদেশের হিমশৈল। বরফ গলে জল হয়ে সমুদ্রের জলস্তর বাড়াচ্ছে। আগামী দিনে এর প্রভাবে ভারত সহ একাধিক দেশে ভয়ঙ্কর বন্যা হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা।