
সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 9 April 2025 17:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৪ বছর বয়সেই গোটা বিশ্বের নজর কাড়লেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত সিদ্ধার্থ নন্দ্যালা। টেক্সাসের ডালাসের এই কিশোরের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অ্যাপ সার্কেডিয়ান এআই (Circadian AI) নিয়ে চর্চা চলছে সর্বত্র। কেন? এই অ্যাপের মাধ্যমে মাত্র ৭ সেকেন্ডে হৃদস্পন্দনের শব্দ বিশ্লেষণ করে হৃদরোগ শনাক্ত করা যাবে।
এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের জন্যই তিনি প্রশংসা কুড়িয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন দুই প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং জো বাইডেনের কাছ থেকে। এমনকি সম্প্রতি তিনি দেখা করেছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডুর সঙ্গেও, যিনি সিদ্ধার্থের এই উদ্ভাবন দেখে আপ্লুত। জানিয়েছেন অভিনন্দন।
অ্যাপটি হাসপাতাল বা কোনও ক্লিনিকে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত। কিন্তু ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য এখনও চালু হয়নি। ভারতে অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুর এবং বিজয়ওয়াড়ার সরকারি হাসপাতালে এই অ্যাপের মাধ্যমে পরীক্ষা চালানো হয়। জানা গেছে, গুন্টুরে ৫০৫ জন রোগীকে স্ক্রিনিং করে ১০ জনের হৃদরোগ শনাক্ত হয়, দ্বিতীয় পরীক্ষায় ৮৬৩ জনের মধ্যে ১৬ জনকে শনাক্ত করা হয়। বিজয়ওয়াড়ায় ৯৯২ জনের মধ্যে ১৯ জনের হৃদরোগ ধরা পড়ে। পরে ইসিজি ও ২ডি ইকো স্ক্যানের মাধ্যমে চূড়ান্ত রোগ নির্ণয় নিশ্চিত করেন কার্ডিওলজিস্টরা।
বয়স মাত্র ১৪, কীভাবে এমন অ্যাপ বানালেন, কী নিয়ে পড়াশোনা করছেন ওই কিশোর? অনেকের মনেই এই প্রশ্ন জাগতে পারে। বলে রাখা ভাল, সিদ্ধার্থ ওরাকেল এবং এআরএম পক্ষ থেকে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তায় স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বিশ্বের সবচেয়ে কমবয়সী এআই পেশাদার। তাঁর অ্যাপ সার্কেডিয়ান এআই ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ হাজার বেশি এবং ভারতে ৭০০-র বেশি রোগীর উপর সফলভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে।
টেকনোলজির পাশাপাশি সিদ্ধার্থ গলফ আর দাবা খেলায়ও সমান দক্ষ, যা তাঁর মানসিক স্থিরতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ায় বলে তিনি জানান। ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডঃ এ পি জে আব্দুল কালাম তাঁর অনুপ্রেরণা। বলেন, 'উদ্ভাবনই অগ্রগতির হৃদস্পন্দন। কল্পনাকে রূপান্তরের পথে নিয়ে যাও। নিজের বস নিজে হও, স্বপ্নকে বাস্তব করো।'
নিজের বানানো অ্যাপ নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে সিদ্ধার্থ বলেন, 'সার্কাডিয়ান এআইয়ের মূল লক্ষ্য হৃদরোগের মতো প্রাণঘাতী রোগকে সহজে ও দ্রুত চিহ্নিত করা। মাত্র ৭ সেকেন্ডের হৃদস্পন্দনের শব্দ বিশ্লেষণ করে এটি বলে দিতে পারে আপনার হার্ট ভাল আছে কিনা বা অস্বাভাবিকতা আছে কি না।'
ভাবুন তো, যদি আপনি হার্টের সঙ্গে এভাবে কথা বলতে পারেন! প্রথমে ডেটা সংগ্রহ, মডেল ট্রেনিং ও হাসপাতাল পর্যায়ের পরীক্ষা-সহ সিদ্ধার্থের এই অ্যাপ তৈরিতে সময় লেগেছে মাত্র সাত মাস। এনিয়ে তিনি বলেন, 'আমরা যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে বাস করছি, তখন কেন এই প্রযুক্তিকে এমন জায়গায় কাজে লাগানো হবে না, যেখানে সে প্রাণ বাঁচাতে পারে? অর্থনীতি বা বিপণনে এআই যতটা প্রভাব ফেলে, তার চেয়েও অনেক বেশি তা পারে স্বাস্থ্যসেবায়।'
সিদ্ধার্থ প্রযুক্তিপ্রেমী হলেও বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানেই তিনি আগ্রহী। স্টেম ইট (STEM IT) নামের একটি স্টার্টআপেরও প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর মতে, প্রথাগত শিক্ষাপদ্ধতি বাস্তব জীবনে প্রযুক্তির ব্যবহার শেখায় না—সেই ফাঁকটাই পূরণ করতে তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছেন।