প্লেটে যত বেশি রং, শরীর পায় তত বেশি পুষ্টি - এই সহজ ভাবনাটিই রেনবো ডায়েটের মূল কথা।

শেষ আপডেট: 16 January 2026 20:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বাস্থ্যকর খাবার এবং 'ডায়েট' মানেই যে একঘেয়ে আর শুধুমাত্র নিরামিষেই সীমাবদ্ধ - এই ধারণা ভেঙে দিচ্ছে ‘রেনবো ডায়েট’ (Rainbow diet)। প্লেটে যত বেশি রং (colourful diet), শরীর পায় তত বেশি পুষ্টি (colourful diet nutrition) - এই সহজ ভাবনাটিই এই ডায়েটের মূল কথা। সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণাও বলছে, প্রতিদিনের খাবারে নানা রঙের শাকসবজি ও ফল (colourful vegetables fruits in diet) রাখলে তা সুস্বাস্থ্যের পথে কার্যকর হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।
কী এই ‘রেনবো ডায়েট’?
রেনবো ডায়েট মূলত মানুষকে উৎসাহ দেয় প্রাকৃতিক রঙে ভরা খাবার খেতে - (লাল) টম্যাটো, (কমলা) গাজর, (হলুদ) ক্যাপসিকাম, (সবুজ) শাকপাতা, (নীলচে) ব্লুবেরি বা (বেগুনি) বেগুন। প্রতিটি রং-ই আলাদা আলাদা ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ইঙ্গিত দেয়, যা শরীরের নানা গুরুত্বপূর্ণ কার্যকলাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
জয়পুরের CK Birla Hospital-এর ডায়েটেটিক্স বিভাগের প্রধান ডা. অংশু চতুর্বেদী বলছেন, “ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট হল এমন মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট, যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও অন্যান্য শারীরিক কাজ ঠিকঠাক রাখতে সাহায্য করে।”
কলকাতার দ্য ক্যালকাটা মেডিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট (CMRI)-এর ডায়েটিশিয়ান দেবলিনা দত্ত জানাচ্ছেন, “লাল রঙের খাবারে থাকে লাইকোপিন ও অ্যান্থোসায়ানিন, সবুজ খাবারে ক্লোরোফিল, ভিটামিন কে ও ফোলেট, আর হলুদ-কমলা খাবারে থাকে বিটা-ক্যারোটিন ও ভিটামিন সি। সব মিলিয়ে এগুলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে।”
স্বাস্থ্যে কী প্রভাব ফেলে রেনবো ডায়েট?
বিশেষজ্ঞদের মতে, নানা রঙের খাবার একসঙ্গে খেলে শরীর পায় সম্পূর্ণ পুষ্টির জোগান। রেনবো ডায়েটের উপকারিতা -
রঙ অনুযায়ী খাবারের আলাদা উপকারিতা
দেবলিনা দত্ত জানাচ্ছেন, প্রতিটি রঙের খাবারের আলাদা ভূমিকা রয়েছে -
প্রতিদিন কতটা 'রং' দরকার?
ধারণাটা আকর্ষণীয় হলেও অনেকেই ভাবেন, প্রতিদিন ঠিক কতটা রঙিন খাবার খাওয়া উচিত? পুষ্টিবিদদের মতে, দিনে অন্তত ৩ থেকে ৫ ধরনের রঙ প্লেটে রাখা ভাল, যা বিভিন্ন মিলের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া যায়। সামান্য বদল, যেমন খাবারের সঙ্গে একটু স্যালাড বা মরসুমি ফল যোগ করলেও বড় পার্থক্য তৈরি হতে পারে। তবে খাবারের পরিমাণ নির্ভর করবে বয়স, দৈনন্দিন কাজকর্ম ও শারীরিক অবস্থার উপর।
ভুল ধারণা ও সীমাবদ্ধতা
প্লেটে রং বাড়ানোর মানে এই নয় যে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন বা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট বাদ দিতে হবে।
দেবলিনা স্পষ্ট করে বলছেন, “রেনবো ডায়েট মানে দামী বা বিদেশি খাবার খাওয়া নয়। ভারতে ঋতুভিত্তিক ফল ও সবজি এমনিতেই এই ডায়েট মেনেই চলে - গরমে আম, শীতে মূলজাত সবজি, বর্ষায় সবুজ শাক।” তিনি আরও জানান, ডায়াবেটিস রোগীদের কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত ফল বেছে নেওয়া উচিত, বয়স্কদের জন্য নরম ও ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার দরকার, আর শিশুদের ঠিকঠাক বৃদ্ধির জন্য চাই প্লেটে বেশি বৈচিত্র্য।
ডা. চতুর্বেদী আবার জুস ও স্মুদি নিয়ে সতর্ক করছেন, “অনেকেই ভাবেন জুস বা স্মুদি হল রেনবো ডায়েটের সেরা উপায়। বাস্তবে ফল বা সবজি থেকে জুস তৈরি করলে খাবারে থাকা ফাইবার নষ্ট হয় এবং তাতে থাকা চিনি বেশি ঘন হয়ে যায়। স্মুদি-ও পুরো ফল বা সবজি চিবিয়ে খাওয়ার যে উপকারিতা, তা দিতে পারে না - যা তৃপ্তি ও হজমের জন্য অত্যন্ত জরুরি।”
জনস্বাস্থ্য কর্মসূচিতে রেনবো ডায়েট
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের অপুষ্টি, স্থূলতা ও জীবনযাপনজনিত নানা ঘাটতি মোকাবিলায় রেনবো ডায়েট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। স্কুলের মিড-ডে মিল বা হাসপাতালের খাবারের পরিকল্পনায় এই ধারণা অন্তর্ভুক্ত করারও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।