Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ইরানের সঙ্গে সংঘাত এবার শেষের পথে? ইঙ্গিত ভ্যান্সের কথায়, দ্বিতীয় বৈঠকের আগে বড় দাবি ট্রাম্পেরওIPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকের

লাহোরের এই বাঙালি ছাত্রনেতাই প্রথম এঁকেছিলেন জাতীয় পতাকার নকশা, স্বাধীনতার চৌষট্টি বছর আগেই

রূপাঞ্জন গোস্বামী অবিভক্ত ভারতের চব্বিশ পরগনার সাতক্ষীরা থেকে বাইশ বছরের শ্যামাচরণ বসু গিয়েছিলেন পঞ্চনদের তীরে। ১৮৪৯ সালে লাহোরের আমেরিকান স্কুলের হেড মাস্টার হয়ে। উচ্চপদস্থ অফিসার হিসেবে ১৮৫২ সালে যোগ দিয়েছিলেন লাহোরের 'ডিরেক্টর অফ পাবলিক

লাহোরের এই বাঙালি ছাত্রনেতাই প্রথম এঁকেছিলেন জাতীয় পতাকার নকশা, স্বাধীনতার চৌষট্টি বছর আগেই

শেষ আপডেট: 11 August 2023 12:09

রূপাঞ্জন গোস্বামী

অবিভক্ত ভারতের চব্বিশ পরগনার সাতক্ষীরা থেকে বাইশ বছরের শ্যামাচরণ বসু গিয়েছিলেন পঞ্চনদের তীরে। ১৮৪৯ সালে লাহোরের আমেরিকান স্কুলের হেড মাস্টার হয়ে। উচ্চপদস্থ অফিসার হিসেবে ১৮৫২ সালে যোগ দিয়েছিলেন লাহোরের 'ডিরেক্টর অফ পাবলিক ইন্সট্রাকশন' অফিসে। প্রচুর অর্থ, প্রভাব ও প্রতিপত্তি লাভ করেছিলেন কিছুদিনের মধ্যেই। বানিয়েছিলে প্রাসাদোপম বাড়ি। অসংখ্য ঠাকুর চাকর নিয়ে দিন কাটছিল বিলাসিতায়।

অন্যদিকে অবিভক্ত পাঞ্জাবের উন্নতির জন্য বানিয়ে চলেছিলেন একের পর এক বিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তার মধ্যে ছিল বাংলা মাধ্যমের স্কুলও। কারণ লাহোরে তখন  প্রচুর বাঙালি বাস করতেন। বেশিরভাগই কাজ করতেন সরকারি দফতরে। এমনকি লাহোরে অবস্থিত পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনেও বাবু শ্যামাচরণের ভূমিকা ছিল। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়টি তিনি দেখে যেতে পারেননি।

[caption id="attachment_250295" align="alignnone" width="600"] উনবিংশ শতাব্দীর লাহোর স্টেশন। এখানেই নেমেছিলেন শ্যামাচরণ বসু।[/caption]

অকালে চলে গিয়েছিলেন বাবু শ্যামাচরণ

বিলাসবহুল জীবন যাপনের জন্য ক্রমশ ধারের পরিমাণ বাড়ছিল। এই অবস্থায়, ১৮৬৭ সালে, মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে মারা গিয়েছিলেন বাবু শ্যামাচরণ বসু, স্ত্রী ও চার ছেলে মেয়ে রেখে। বড় মেয়ের বয়স তখন সাত, বড় ছেলে শ্রীশচন্দ্রের বয়স ছয়, দ্বিতীয় মেয়ের বয়স তিন, সর্বকনিষ্ঠ পুত্র বামাচরণের বয়স মাত্র পাঁচ মাস। পাওনাদারেরা আসবাবপত্র সহ বাড়ি নিলাম করে পাওনা টাকা আদায় করে নিয়েছিল। লাহোরের অভিজাত বসুপরিবারটি প্রাসাদ থেকে নেমে এসেছিল রাস্তায়। সন্তানদের নিয়ে ভাড়াবাড়িতে চলে গিয়েছিলেন শ্যামাচরণের স্ত্রী। তিনি ও তাঁর সন্তানরা বুঝতে পেরেছিলেন দারিদ্র কাকে বলে।

দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই শুরু করেছিল পরিবারটি। ১৮৬৮ সালে লাহোরের মিশন স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন শ্যামাচরণের বড় ছেলে শ্রীশচন্দ্র। মেধাবী ছিলেন শ্রীশচন্দ্র, কিন্তু গৃহশিক্ষক নেওয়ার সামর্থ্য ছিল না তাঁর মায়ের। শ্রীশচন্দ্রকে পড়াতে এগিয়ে এসেছিলেন পাঞ্জাবের চিফ-কোর্টের অফিসার লাহোর নিবাসী বাবু নিখিল কমল লাহিড়ি। ইংরেজির প্রতি শ্রীশের আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। প্রবেশিকা পরীক্ষার আগেই শ্রীশ পড়ে ফেলেছিলেন সেক্সপিয়ার, মিলটন, মুর সহ বিশ্বখ্যাত লেখকদের স্মরণীয় সাহিত্য, নাটক ও কাব্যগন্থ।

[caption id="attachment_250290" align="alignnone" width="572"] ঊনবিংশ শতাব্দীর লাহোর।[/caption]

স্কুলজীবন থেকেই মনে দানা বাঁধতে শুরু করেছিল স্বাধীনতার স্বপ্ন

শ্রীশের মা লক্ষ্য করেছিলেন মিশন স্কুলে যাওয়ার পর থেকে শ্রীশের বাইবেল পড়ার প্রতি ঝোঁক বাড়ছিল। খ্রিস্টান ধর্মকে জানার চেষ্টা করছিলেন। মাসিক ১৩ টাকা বৃত্তি পাওয়া শ্রীশকে অন্য স্কুলে ভর্তি করেছিলেন শ্রীশের মা। নতুন স্কুলে পড়তে পড়তেই কিশোর শ্রীশ লিখে ফেলেছিলেন 'The lay of liberty' নামের একটি বই। ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারতকে মুক্ত করার পরিকল্পনা, তাঁর কিশোর মন দিয়েই সাজিয়েছিলেন শ্রীশ। হয়ে উঠেছিলেন সহপাঠীদের ফ্রেন্ড, ফিলোজফার ও গাইড। সবার মনেই দানা বাঁধতে শুরু করেছিল স্বাধীনতার স্বপ্ন।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাস করার পর, ১৮৭৭ সালে লাহোরের গভর্নমেন্ট কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন শ্রীশচন্দ্র। মাসে ১৬ টাকা স্কলারশিপ পেতেন। সেই টাকা মাকে দিতেন, চলত পড়াশোনা ও সংসারের খরচ। কলেজে ভর্তি হওয়ার পর শ্রীশচন্দ্র জড়িয়ে পড়েছিলেন লাহোরের ব্রাহ্ম সমাজ, আর্য সমাজ ও থিওসফিকাল সোসাইটির সঙ্গে।

[caption id="attachment_250292" align="aligncenter" width="600"] লাহোরের গভর্নমেন্ট কলেজ। এখানেই পড়তেন শ্রীশচন্দ্র।[/caption]

লাহোরের গভর্নমেন্ট কলেজে তখন ইংরেজি, সংস্কৃত, আরবি, ফারসি, উর্দু, ভুগোল, ইতিহাস ও দর্শনশাস্ত্র পড়ানো হতো। অঙ্ক শেখাতেন বাবু শশীভূষণ মুখার্জি, তবে তখনও কলেজে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, বায়োলজি প্রবেশ করেনি। বিজ্ঞান পড়ানো হতো লাহোর মেডিক্যাল কলেজে। লাহোর গভর্নমেন্ট কলেজে এই বিষয়গুলি আনার জন্য আন্দোলন শুরু করেছিলেন শ্রীশচন্দ্র।

সরাসরি লাহোর মেডিক্যাল কলেজে চলে গিয়ে বিজ্ঞানের ক্লাস করা শুরু করেছিলেন। এমনকি শব ব্যবচ্ছেদের ক্লাসেও হাজির হয়ে যেতেন।আন্দোলনের ফলে কলেজে এসেছিল বিজ্ঞান। ইনঅর্গানিক কেমিস্ট্রি  ও ফিজিক্স পড়তে শুরু করেছিলেন শ্রীশচন্দ্র। এফ এ পরীক্ষায় পাশ করেছিলেন প্রথম বিভাগে। পরীক্ষায় সপ্তম হওয়ার জন্য মাসিক বৃত্তি বেড়ে হয়েছিল ৩৫ টাকা।

পাঞ্জাবের বুকে প্রথম ছাত্র বিদ্রোহের নেতা ছিলেন শ্রীশচন্দ্র

বিএ পড়ার সময় চতুর্থবর্ষে ঘটা একটি ঘটনা সারা পাঞ্জাবে ছড়িয়ে দিয়েছিল শ্রীশচন্দ্রের নাম। ইংরেজির অধ্যাপক ছাত্রদের একটি বিষয়ের ওপর প্রবন্ধ লিখে আনতে বলেছিলেন। ভুল বোঝাবুঝির কারণে সে দিন প্রবন্ধটি কোনও ছাত্র লিখে আনেননি। শ্রীরাম নামে এক ছাত্র কিছু বলতে যাওয়াতে মেজাজ হারিয়েছিলেন ইংরেজ অধ্যাপক। চুড়ান্তভাবে ছাত্রদের অপমান করেছিলেন তিনি। ক্লাসের শেষে অপমানিত ছাত্ররা গিয়েছিলেন প্রিন্সিপালের কাছে। ছাত্র শ্রীরামকে ঘরে ডেকে দরজা বন্ধ করে বেধড়ক মেরেছিলেন ইংরেজ প্রিন্সিপাল।

কলেজে হরতাল ডেকেছিলেন শ্রীশচন্দ্র। সেই প্রথম পাঞ্জাবের কোনও কলেজে সংগঠিত ছাত্র বিক্ষোভ ও হরতাল হয়েছিল। এর পরেও কোনও শাস্তি হয়নি অধ্যাপক ও প্রিন্সিপালের, বরং শ্রীরাম নামের ছাত্রটিকে এক বছরের জন্য নির্বাসিত করা হয়েছিল। ছাত্র বিদ্রোহের নেতা হিসেবে সারা পাঞ্জাবে ছড়িয়ে গিয়েছিল শ্রীশচন্দ্রের নাম। কলেজে ফোর্থ ইয়ারে পড়তে পড়তেই লিখে ফেলেছিলেন দ্বিতীয় বই A treatise on yoga philosophy'।

লাহোরের গভর্নমেন্ট কলেজে থেকে ১৮৮১ সালে বিএ পাস করেছিলেন শ্রীশচন্দ্র। কেমিস্ট্রি, জুলজি, জিওগ্রাফি, ফিজিকাল জিওগ্রাফি ও সাইকোলজি নিয়ে। কিন্তু তাঁর বিদ্রোহী সত্ত্বার জন্য তাঁকে এমএতে ভর্তি নেওয়া হয়নি। ডাক্তারি পড়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু পাশ্চাত্যধারার চিকিৎসা পদ্ধতি পাঞ্জাবে তখনও প্রায় অচ্ছুত ছিল। তাই তিনি ডাক্তারির দিকে না গিয়ে, টিচার্স ট্রেনিং নিয়েছিলেন। ট্রেনিং শেষে লাহোরের মডেল স্কুলের হেডমাস্টার পদে যোগ দিয়েছিলেন। শিক্ষকতা করার সময় উর্দুতে ফিজিক্যাল জিওগ্রাফির ওপর বই লিখেছিলেন।

[caption id="attachment_250301" align="aligncenter" width="691"] লাহোরের সুপ্রাচীন 'সিটি গেট'।[/caption]

লাহোরে গঠন করেছিলেন 'ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সোসাইটি' 

শ্রীশ তীব্র মনোকষ্টে ভুগতেন, কারণ ভারতকে স্বাধীন করার স্বপ্ন পাঞ্জাবে দানা বাঁধছিল না। উর্দু, ফারসি, হিন্দি ও গুরুমুখি ভাষাভাষীরা জোটবদ্ধ ছিলেন না। তার ওপর ছিল হিন্দু মুসলিম দ্বন্দ্ব। ১৮৮১ সালে মুলতানে শুরু হয়েছিল হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা। ছড়িয়ে গিয়েছিল সালেম, ভাওয়ালপুরে। ১৮৮২ সালে লর্ড রিপন গঠন করেছিলেন এডুকেশন কমিশন। পাঞ্জাবে উঠেছিল ব্যাপক ঝড়। শিক্ষার মাধ্যম হিন্দি না উর্দু হবে তা নিয়ে রীতিমতো দাঙ্গা লাগার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল।

স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখা শ্রীশচন্দ্র বুঝেছিলেন, সবাইকে এক না করতে পারলে কোনও দিন স্বাধীনতা আসবে না। সমস্ত সম্প্রদায়কে এক করার জন্য ১৮৮২ সালেই একুশ বছরের শ্রীশচন্দ্র গঠন করেছিলেন, 'ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সোসাইটি'। সামাজিক ও আত্মিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে গোষ্ঠী চেতনাকে জাতীয় চেতনার আকার দেওয়ার উদ্দেশে। 

লাহোরের 'আর্যাবর্ত' পত্রিকার এপ্রিল সংখ্যা (১৮৮৩ সাল) থেকে জানা যায়, সবাইকে এক সুতোয় গাঁথার জন্য জাতীয় সংগীতের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সোসাইটির সদস্য লালা রাম দাস ছিব্বুর বেছে দিয়েছিলেন পাঞ্জাবি ভাষায় লেখা একটি গান। প্রতিটি বৈঠকের পরে জাতীয় সংগীত হিসেবে গানটি গাওয়া হতো। শ্রীশচন্দ্রের নেতৃত্বে একদল গায়ক লাহোরের রাস্তায় রাস্তায় গানটি গাইতে গাইতে ঘুরতেন। অশুভ শক্তির অশুভ পরিণামের কথা তুলে ধরেছিল এই গানটি। এই গানে বলা হয়েছিল, যেকোনও মূল্যে ভারতীয় সংস্কৃতি রক্ষা করার কথা। শ্রীশচন্দ্রের এই প্রচেষ্টা পাঞ্জাবের যুযুধান গোষ্টীগুলিকে কাছাকাছি এনেছিল। সফল হতে শুরু করেছিল শ্রীশচন্দ্রের স্বপ্ন।

জীবনে প্রথম এসেছিলেন কলকাতায়

১৮৮৩ সালের মার্চে, এলাহাবাদে গিয়ে ওকালতির পরীক্ষায় পাশ করেছিলেন শ্রীশচন্দ্র। পরীক্ষায় পঞ্চম হয়েছিলেন, প্রথম হয়েছিলেন মোতিলাল নেহেরু। ওকালতির পরীক্ষায় পাশ করার পর মা বিয়ের করার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। শ্রীশচন্দ্রের বয়স তখন মাত্র বাইশ। ১৮৮৩ সালে এপ্রিল মাসে জীবনে প্রথমবার কলকাতায় এসেছিলেন শ্রীশচন্দ্র। সঙ্গে ছিলেন মা। মে মাসের শেষসপ্তাহে কলকাতা হাইকোর্টের উকিল অম্বিকাচরণ মিত্রের মেয়ের সঙ্গে শ্রীশচন্দ্রের বিয়ে হয়েছিল।

কলকাতায় এসে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সোসাইটির একটি শাখা তৈরি করার চেষ্টা করেছিলেন। পাঞ্জাবের ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সোসাইটির আন্দোলনে বাংলাকে জোড়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ১৮৮৩ সালে বাংলা উত্তাল ছিল ইলবার্ট বিল নিয়ে। বাইশ বছরের যুবকটির কথার দিকে তেমন কেউ মনোযোগ দিতে পারেননি। কলকাতা থেকে জুন মাসে ফিরে গিয়েছিলেন লাহোর। ছিলেন মাত্র একমাস। ওই একমাসে ঘটিয়েছিলেন এক অসামান্য ঘটনা।

জাতিকে উপহার দিয়েছিলেন নিজের নকশা করা জাতীয় পতাকা

ভারতবাসীকে স্বাধীনতার লড়াইয়ে উদ্বুদ্ধ করার জন্য ১৮৮৩ সালে্র জুলাই মাসে একটি পুস্তিকা বানিয়েছিলেন। সেই পুস্তিকায় সর্বপ্রথম জনসমক্ষে এসেছিল শ্রীশচন্দ্রের নকশা করা ভারতের জাতীয় পতাকা। তাঁর আগে স্বাধীন ভারতের জাতীয় পতাকা নিয়ে চিন্তা, সম্ভবত আর কেউই করেননি। পুস্তিকাটি সাদা কালোতে ছাপা হওয়ায় পতাকার রঙ জানা যায়নি। ওই পুস্তিকার কভারে লেখা ছিল Indian national songs and lyrics। এর নিচে ছিল তিনকোণা পতাকার ছবি। পতাকার মাঝখানে আঁকা ছিল মধ্যগগনের সূর্যের মুখ। পতাকার নিচে লেখা ছিল our national standard

[caption id="attachment_250271" align="aligncenter" width="409"] পুস্তিকার কভারে ছাপা শ্রীশচন্দ্রের আঁকা ভারতের জাতীয় পতাকা।[/caption]

তাঁর আপ্রাণ চেষ্টার পরেও সফল হয়নি ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সোসাইটির স্বাধীনতা আন্দোলন। পাকাপাকিভাবে মা ও পরিবার নিয়ে লাহোর ছেড়ে প্রথমে মেরঠ ও পরে চলে গিয়েছিলেন এলাহাবাদে। সারাজীবন ধরে অসামান্য কিছু কাজ করে গিয়েছেন যা বিস্তারিতভাবে ধরা আছে ফণীন্দ্রনাথ বসুর ১৯৩৩ সালে লেখা Life of Sris Chandra Basu বইটিতে।

[caption id="attachment_250281" align="aligncenter" width="539"] তথ্যসূত্রে দেওয়া বইটি থেকে পাওয়া শ্রীশচন্দ্রের একমাত্র ছবি।[/caption]

স্বাধীনতার আন্দোলন তখনও বিধ্বংসী ঝড়ের আকার ধারণ করেনি। জাতীয় কংগ্রেস তখনও পৃথিবীর আলো দেখেনি। বন্দেমাতরম তখনও জাতীয় সংগীত হয়ে ওঠেনি। তখন কিন্তু লাহোর প্রবাসী বাইশ বছরের বাঙালি যুবক শ্রীশচন্দ্র বসু, স্বাধীন ভারতের জাতীয় পতাকার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাঁর নকশা পরবর্তীকালে কেউ ছুঁয়েও দেখেননি।মানুষটিও আজ বিস্মৃতির অতলে। তবুও তাঁর নকশা করা স্বাধীন ভারতের জাতীয় পতাকাটি কালের ইতিহাসের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে উড়তে থাকবে। ব্রাত্য হয়েও।

তথ্যসূত্র: Life of Sris Chandra Basu by Phanindra Nath Bose

স্বাধীনতা আন্দোলনের এক বিস্মৃত নায়ক, ফাঁসির দড়ি যাঁর কাছে ছিল জয়ের মালা


```