Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

নির্জন দ্বীপে আঠারো বছর একা কাটিয়েছিল এই নারী, তবুও তাকে বাঁচতে দেয়নি সভ্যতা

Juana Maria রূপাঞ্জন গোস্বামী দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে ভাসছে সান নিকোলাস দ্বীপ। সবচেয়ে কাছের বন্দর থেকে দ্বীপটির দূরত্ব প্রায় ৯৮ কিলোমিটার। দ্বীপটির আয়তন ২২,৭৫৩ বর্গ মাইল, আবহাওয়া মনোরম। দ্বীপের গড় তাপমাত্রা শীতকালে ১

নির্জন দ্বীপে আঠারো বছর একা কাটিয়েছিল এই নারী, তবুও তাকে বাঁচতে দেয়নি সভ্যতা

শেষ আপডেট: 8 September 2021 13:55

Juana Maria

রূপাঞ্জন গোস্বামী

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে ভাসছে সান নিকোলাস দ্বীপ। সবচেয়ে কাছের বন্দর থেকে দ্বীপটির দূরত্ব প্রায় ৯৮ কিলোমিটার। দ্বীপটির আয়তন ২২,৭৫৩ বর্গ মাইল, আবহাওয়া মনোরম। দ্বীপের গড় তাপমাত্রা শীতকালে ১২ ডিগ্রি এবং গ্রীষ্মকালে ১৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জনবসতিহীন এই দ্বীপে আমেরিকার নেভি মারণাস্ত্র পরীক্ষা করে। দ্বীপটি এখন জনবসতিহীন হলেও মানুষ বাস করেছে ১৩০০০ বছর ধরে। তবে এই দ্বীপের আদি বাসিন্দা নেকোলেনো উপজাতির একজন মানুষও আজ বেঁচে নেই। পৃথিবীর বুক থেকে নেকোলেনোদের চিরতরে মুছে দেওয়ার মর্মান্তিক এক উপাখ্যান বুকে নিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরে ভাসছে সান নিকোলাস। [caption id="attachment_227071" align="aligncenter" width="800"] সান নিকোলাস[/caption] জাহাজে করে এসেছিল সভ্য মানুষের দল ১৮১১ এবং ১৮১৪ সালে, সান নিকোলাস দ্বীপে পশু শিকারের উদ্দেশ্যে জাহাজ নিয়ে এসেছিল আলাস্কা ও রাশিয়ার ‘ফার’ শিকারিরা। দ্বীপে সেই সময় নেকোলেনো উপজাতির প্রায় তিনশোর মত মানুষ বাস করত। দু’বারই তারা বাধা দিয়েছিল। শিকারে বাধা দেওয়ার পরিণতি হয়েছিল ভয়াবহ। শিকারিদের দল পশু শিকার বাদ দিয়ে নির্বিচারে মানুষ শিকার করেছিল। দুটি আক্রমণে মারা গিয়েছিল প্রায় ২৮০ নেকোলেনো। বন্দুকের সামনে তাদের তির ধনুক কোনও প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেনি। সান নিকোলাস দ্বীপে নেকোলেনোদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল মাত্র জনা কুড়ি। জুয়ানা তখন ছিল শিশু। ঝোপের আড়াল থেকে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে সে দেখেছিল তার উপজাতির মানুষদের রক্তাক্ত মৃতদেহ মাড়িয়ে জাহাজে উঠে যাচ্ছে আক্রমণকারীরা। হয়তো সেই শবদেহের স্তূপে ছিল তার বাবা, মা, ভাই-বোনের দেহও। গণহত্যার ২০ বছর পর, আবার দ্বীপে হানা দিয়েছিল তথাকথিত সভ্য মানুষের দল। তবে এবার হানাদারদের হাতে ছিল না বন্দুক। তারা নিয়ে এসেছিল ছিল বাইবেল। সান্তাবারবারার স্প্যানিশ ক্যাথলিক মিশনারিরা, সান নিকোলাস দ্বীপে থাকা অবশিষ্ট নেকোলেনোদের দ্বীপ থেকে আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে তুলে আনার জন্য জাহাজ পাঠিয়েছিলেন। ১৮৩৫ সালের নভেম্বরের শেষে ক্যাপ্টেন চার্লস হাবার্ড তাঁর ‘পেওর এস নাদা’ জাহাজটি ভিড়িয়েছিলেন সান নিকোলাস দ্বীপে। ২০ বছর আগের রক্তাক্ত স্মৃতি জ্বলজ্বল করছিল সভ্যতা থেকে কয়েক আলোকবর্ষ দূরে থাকা জনা কুড়ি অর্ধনগ্ন মানব মানবীর বুকে। তাই তারা প্রাণভয়ে তাদের শিশুদের নিয়ে দৌড়ে পালিয়েছিল জঙ্গলের গভীরে। কিন্তু চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে, এক এক করে তাদের খুঁজে বার করা হয়েছিল। [caption id="attachment_227074" align="alignnone" width="602"] সান নিকোলাস দ্বীপ থেকে প্রশান্ত মহাসাগর[/caption] জঙ্গলের গভীর থেকে সব শেষে ধরা পড়েছিল জুয়ানা জাহাজে কিছুতেই উঠতে চায়নি জুয়ানা মারিয়া। কিন্তু অতগুলি পুরুষের সঙ্গে গায়ের জোরে পেরে ওঠেনি। সেদিন সমুদ্র ক্রমশ উত্তাল হয়ে উঠছিল। বিশাল বিশাল ঢেউ জাহাজের গায়ে আছড়ে পড়তে শুরু করেছিল। ঘূর্ণিঝড় আসার সংকেত পেয়েছিলেন জাহাজের ক্যাপটেন চার্লস হাবার্ড। বুঝতে পেরেছিলেন জাহাজ ছাড়তে আর কয়েক মিনিট দেরি করলেই বড় বড় পাথরে ধাক্কা খেয়ে গুঁড়িয়ে যাবে জাহাজ।নোঙর তুলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল জাহাজ। প্রশান্ত মহাসাগরে উঠেছিল তুমুল ঘূর্ণিঝড়। নাবিক থেকে ক্যাপ্টেন, সবাই তখন জাহাজ বাঁচাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। উত্তাল সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল জুয়ানা মারিয়া। জুয়ানা জলে ঝাঁপিয়ে পড়েছে জেনেও জাহাজ ডুবির ভয়ে ক্যাপ্টেন জাহাজ ঘোরাতে পারেননি। হতবাক হয়ে সবাই দেখেছিল, উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে দিয়ে জুয়ানা মারিয়া ডলফিনের মত অনায়াস ভঙ্গিতে সাঁতার কাটতে কাটতে এগিয়ে চলেছে সান নিকোলাস দ্বীপের দিকে। পরবর্তীকালে গবেষকেরা অনুমান করেছিলেন, জুয়ানা তার শিশু সন্তানকে দ্বীপে লুকিয়ে এসেছিল। নাড়ির টানেই উত্তাল সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এক মা। নেকোলেনোরা বাঁচেনি সান নিকোলাস দ্বীপ থেকে জোর করে তুলে আনা নেকোলেনোদের ঠাঁই হয়েছিল সান গ্যাব্রিয়েল মিশনে। সভ্য মানুষদের জগতে তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল বিয়োগান্তক পরিণতি। যে পরিবেশে তারা ১৩০০০ বছর ধরে অস্তিত্বের সংগ্রামে জয়ী হয়ে আসছিল,তার থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে এসে তারা ভয়ঙ্কর বিপদে পড়েছিল। আমেরিকার মূল ভূখণ্ডের রোগগুলি তাদের আক্রমণ করেছিল। সেই রোগগুলি প্রতিরোধ করার ক্ষমতা তাদের ছিল না। একে একে সবাই মারা গিয়েছিল, মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই। নেকোলেনো উপজাতির শেষ প্রতিনিধি হয়ে রয়ে গিয়েছিল জুয়ানা মারিয়া। নির্জন সান নিকোলাস দ্বীপে। জুয়ানা মারিয়াকে খুঁজে বের করার অনেক চেষ্টা করা হয় ,পরের দশকগুলিতে। হোসে গঞ্জালেস রুবিও নামে সান্তা বারবারার এক যাজক, ১৮৫০ সালে থমাস জেফ্রি নামে এক অভিযাত্রীকে ২০০ ডলার দিয়েছিলেন জুয়ানা মারিয়াকে খুঁজে বার করার জন্য। কিন্তু থমাস সফল হননি। এরপর ফাদার রুবিও অভিযাত্রী জর্জ নিদেভারকে অনুরোধ করেছিলেন, জুয়ানাকে খুঁজে বার করার জন্য। ফাঁদ পেতে পশু ধরতে ওস্তাদ পশু শিকারি নিদেভার তাঁর দল নিয়ে বেড়িয়ে পড়েছিলেন সান নিকোলাসের উদ্দেশে। নিদেভারের প্রথম দুটি অভিযানে সাফল্য আসেনি। আরও পড়ুন: সাহারা মরুভূমিতে হারিয়ে গিয়েছিলেন ফরাসী বাইক চালক, বেঁচে ফিরেছিলেন অবিশ্বাস্যভাবে ১৮৫৩ সালের শরৎকালে হয়েছিল তৃতীয় অভিযান দিন পনেরো সান নিকোলাস দ্বীপের আনাচে কানাচে ঘুরে নিদেভারের একজন সহযোগী কার্ল ডিটম্যান, দ্বীপের উত্তরদিকের সৈকতে মানুষের পদচিহ্ন খুঁজে পেয়েছিলেন। দলনেতা নিদেভার ও ডিটম্যান পায়ের ছাপ অনুসরণ করতে করতে পৌঁছে গিয়েছিলেন একটি পাথরের স্তূপের কাছে। কাছে গিয়ে চমকে উঠেছিলেন তাঁরা। হাঁসের পালকের পোশাক পড়া এক নারী অতিদ্রুত একটি অতিকায় সিলের চামড়া ছাড়াচ্ছিল। সিলের বুকে তখনও বিঁধে রয়েছিল হারপুন। সিলের রক্তে ভেসে যাচ্ছিল চারদিক। [caption id="attachment_2358751" align="aligncenter" width="418"]Juana Maria জুয়ানা মারিয়ার একমাত্র ছবি[/caption] তাঁর স্মৃতিকথা 'দ্য লাইফ অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার অফ জর্জ নিদেভার' বইটিতে নিদেভার লিখেছিলেন তাঁদের দু'জনকে দেখে জুয়ানা মারিয়া পালায়নি বা হাতে অস্ত্র থাকা সত্ত্বেও আক্রমণ করেনি। মাথা নিচু করে অভিবাদন জানিয়েছিল, মুখে ছিল হাসি। নিদেভাররা অবাক হয়ে দেখেছিলেন, সৈকতের বিভিন্ন পাথরের উপর শুকোতে দেওয়া আছে মাছ, সিল, হাঁস ও অজানা কোনও প্রাণীর মাংস ও চর্বি। তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন নির্জন দ্বীপে ১৮ বছর ধরে এগুলি খেয়েই বেঁচে আছে জুয়ানা মারিয়া। জুয়ানাকে খুঁজে পাওয়ার কিছুক্ষণ পরে তাঁরা খুঁজে পেয়েছিলেন জুয়ানার কুঁড়ে ঘর। যেটি বানানো হয়েছিল তিমি মাছের পাঁজরের হাড় দিয়ে। খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল কিছু গুহা। প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময় জুয়ানা যেগুলির মধ্যে বাস করত। তাঁর স্মৃতিকথায় নিদেভার লিখেছিলেন, "জুয়ানা নিজস্ব ভাষায় কথা বলে যাচ্ছিল। তার উচ্চতা ছিল মাঝারি। খুঁজে পাওয়ার সময় তার বয়স ছিল প্রায় ৫০ বছর, কিন্তু দেখে মনে হয়েছিল তিরিশ বছরের তরুণী। বয়সের তুলনায় জুয়ানা ছিল প্রচণ্ড শক্তিশালী ও কর্মঠ। সে হেসেই যাচ্ছিল।" নিদেভার বোঝেননি, হয়তো হাসি দিয়ে মৃত্যু এড়ানোর চেষ্টা করছিল জুয়ানা, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে। [caption id="attachment_227062" align="aligncenter" width="1200"] এই গুহায় বাস করত জুয়ানা মারিয়া। সম্প্রতি এই গবেষক গিয়েছিলেন সেখানে।[/caption] জুয়ানাকে আনা হয়েছিল সান্তাবারবারায় জুয়ানার সঙ্গে নিদেভাররা সান নিকোলাস দ্বীপ থেকে নিয়ে এসেছিলেন জুয়ানার ব্যবহৃত ও তৈরি করা বেশ কিছু জিনিসপত্র। যেগুলি সে বানিয়েছিল আঠেরো বছর ধরে। কিন্তু জুয়ানার সঙ্গে কথা বলার মতো কোনও ভাষা জানা ছিল না কারও। স্থানীয় চুমাশ রেড ইন্ডিয়ান, টোংভা ইন্ডিয়ানরাও বুঝতে পারেনি জুয়ানার ভাষা। নিদেভারের সঙ্গেই একমাত্র আকার ইঙ্গিতে জুয়ানার ভাব বিনিময় চলতে থাকায়, জুয়ানাকে রাখা হয়েছিল নিদেভারের বাড়িতেই। নিদেভারের বাড়িতে থাকাকালীন , জুয়ানা অবাক হয়ে চেয়ে থাকত ইউরোপীয় পোশাক পরা মানুষ ও প্লেটে দেওয়া খাবারগুলির দিকে। নিদেভার লিখেছিলেন, জুয়ানা সবুজ ভুট্টা, কাঁচা সবজি ও তাজা ফল খেতে ভালবাসত। স্থানীয়দের কাছে তুমুল কৌতুহলের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে গিয়েছিল জুয়ানা মারিয়া। দলে দলে মানুষ দেখতে আসত জুয়ানাকে। জুয়ানা হাসি মুখে বসে থাকত দর্শকদের সামনে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা। দর্শকদের সামনে তাকে মদ ও কফি খাওয়ানো এবং নাচানোর চেষ্টা করা হত। আসলে,কখনও কখনও জুয়ানা আনমনে গুনগুন করে গান গাইত। তাই আকারে ইঙ্গিতে জুয়ানাকে দর্শকের সামনে গান গাইতে অনুরোধ করতেন নিদেভার। হাসিমুখে প্রভুর হুকুম তামিল করত জুয়ানা। হৃদয়বিদারক সুরের সেই গানটা রেকর্ডও করা হয়েছিল। গানটির কথাগুলি ছিল, “টোকি টোকি ইয়াহামিমেনা ওয়েলেশকিমা নিশুইয়াহামিমেনা টোকি টোকি…।” [caption id="attachment_227063" align="aligncenter" width="607"] গবেষকের টেবিলে জুয়ানা মারিয়ার সেই বাক্স। যাতে আছে হাড় দিয়ে বানানো যন্ত্রপাতি[/caption] সভ্যতার সার্কাস থেকে জুয়ানা মুক্তি পেয়েছিল অচিরেই সব অত্যাচারেরই বুঝি শেষ আছে। সান নিকোলাস দ্বীপ থেকে উঠিয়ে আনার মাত্র সাত সপ্তাহের মধ্যে পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছিল জুয়ানা। সভ্যজগতের রোগগুলি থেকে নিজেকে বাঁচাতে না পারায়। ১৮৫৩ সালের ১৯ অক্টোবর, যেদিন জুয়ানা মারিয়া তার মৃত্যুশয্যায় শুয়ে পরাধীনতার শেকল ছেঁড়ার অপেক্ষায় মুহূর্ত গুণছিল, ঠিক তখন তার বিছানার পাশে তাকে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার কাজ শুরু করে দিয়েছিলেন ফাদার স্যাঞ্চেজ। ধর্মান্তরিত হওয়ার পর ‘বুনো নারী’র নাম হয়েছিল ‘জুয়ানা মারিয়া’। মৃত্যুর মাত্র কয়েক মিনিট আগে নাম পেয়েছিল সব হারানো এক নারী। যার আসল নাম কেউ জানে না। [caption id="attachment_227066" align="aligncenter" width="800"] ক্যালিফোর্নিয়ায় আছে জুয়ানা মারিয়ার স্ট্যাচু। কাঁধের পাশে দেখা যাচ্ছে তার শিশু সন্তানের মুখ।[/caption] যে শিশুর জন্য জুয়ানা জাহাজ থেকে লাফিয়ে পড়েছিল। সেই শিশুটিকে দ্বীপে খুঁজে পাওয়া যায়নি। হয়তো এই আঠেরো বছরের কোনও সময় মায়ের কোলেই নিথর হয়ে গিয়েছিল সে। কত বয়েস হয়েছিল তার, কেউ জানে না। তবে এটা নিশ্চিত, নাড়ি ছেঁড়া ধনকে নিজের হাতে সমাধি দিয়েছিল জুয়ানা। বুকে পাথর বেঁধে। আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে তাকে উঠিয়ে আনার পর সবসময় হাসত জুয়ানা। কেন হাসত কেউ জানে না। মৃত্যুর সময়ও তার মুখে ছিল হাসি। সে কি বুঝতে পেরেছিল, দ্বীপের স্বর্গ থেকে কাল্পনিক স্বর্গে তাকে পাঠাবার নারকীয় চেষ্টা দেখে খুশি হননি স্বয়ং ঈশ্বর। পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'

```