
শেষ আপডেট: 6 March 2022 12:04
ছিয়াশি বছর বয়েসেও, নিখুঁত ভাবে স্থির থাকা হাতের শক্ত মুঠোয় ধরা থাকে পিস্তল। বার্ধক্যেও তাঁর দৃষ্টিশক্তি, শিকারি বাজের মতো তীক্ষ্ণ। পরনে সাদা শার্ট, নীল স্কার্ট। আর মাথায় বাঁধা স্কার্ফ। লোকে বলে উড়ন্ত মাছিকে গুলি করে নামানোর মতো নির্ভুল নিশানা তাঁর। তিনি চন্দ্র তোমর। মিডিয়া ও খেলাধুলা জগতের পরিসংখ্যানবিদদের কথায়, তিনিই এখন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক (Revolver Dadi) মহিলা শার্প শ্যুটার (Sharpshooter)।
উত্তর প্রদেশের বাগপত জেলার জোহরি গ্রামের জাঠ, বৃদ্ধা চন্দ্র তোমর, উত্তর ভারতের যে কোনও গ্রামের আর পাঁচজন সাধারণ নানি বা দাদির মতোই দেখতে। কিন্তু, সারা গ্রাম, জেলা, রাজ্য ও দেশ তাঁকে চেনে ‘শ্যুটার দাদি’ বা ‘রিভলভার দাদি’ (Revolver Dadi) বলে।
প্রতিযোগিতায় লক্ষ্যে অবিচল রিভলভার দাদি (Revolver Dadi)
এখনও চন্দ্র সপ্তাহে একদিন, জোহরি রাইফেল ক্লাবে প্র্যাকটিসে আসেন। বাকি ছয়দিন কাটে বাড়িতে একান্নবর্তী পরিবারের হেঁসেল, কাচাকাচি, গরু বাছুর, খাটাল নিয়ে। দিনের কাজের শেষে, নিজের প্রাইভেট শ্যুটিং রেঞ্জে রিভলবার দাদি (Revolver Dadi) শ্যুটিং প্র্যাকটিস করেন। শয়ে শয়ে নতুন ছেলেমেয়েদের নিজের প্র্যাকটিস রেঞ্জে ট্রেনিং দেন। তাঁর অনেক ছাত্রীই ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে পেরেছেন, রিভলবার দাদির কাছে শেখা শ্যুটিং স্কিলের দৌলতে।
তাঁর নাতনি সীমাও একজন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন শার্প শ্যুটার। ২০১০ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে রাইফেল ও পিস্তল ইভেন্টে, তাঁর বিভাগে ভারতের প্রথম মহিলা হিসেবে সোনা পান চন্দ্র’র আর এক নাতনি শেফালী। হাঙ্গেরি আর জার্মানির বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক শ্যুটারের খ্যাতি অর্জন করেছেন শেফালী। তাঁদের সব সাফল্যের জন্য নাতনিরা সর্বাগ্রে কৃতিত্ব দিয়েছেন আদরের দাদিকে।
‘রিভলবার দাদি’ চন্দ্র তোমর (Revolver Dadi) চান, মহিলারা স্বনির্ভর হোন এবং নিজের সুরক্ষা নিজেরাই করুন। তিনি ভবিষ্যতে তাঁর গ্রাম জোহরিতে একটি হস্টেলও করতে চান। যেখানে অন্য প্রদেশ থেকেও ছেলেমেয়েরা এসে থাকতে পারবেন এবং তাঁর কাছে ট্রেনিং নিতে পারবেন।
ভাবলেই অবাক হতে হয়, উত্তর প্রদেশের এক প্রত্যন্ত গ্রামের এক অখ্যাত দাদি, শুধুমাত্র অধ্যাবসায় আর জেদের জোরে আজ সেলিব্রেটি। তিনি নিয়মিত সর্বভারতীয় টিভি শোতে আসেন। অনেক বলিউড তারকা তাঁর গ্রামে গিয়ে দাদির (Revolver Dadi) পা ছুঁয়ে এসেছেন।
সবচেয়ে মজার কথা হল, তাঁর গ্রামের মেয়ের বিয়েতে এখন আর পণ লাগে না। রিভলভার দাদির (Revolver Dadi) গ্রামে ছেলের বিয়ে দিতে পেরে ধন্য হন ছেলের আত্মীয়স্বজন। ভুট্টা ক্ষেতের ওপার থেকে দাদির নিজস্ব শ্যুটিং রেঞ্জ থেকে ভেসে আসা পিস্তলের গগনভেদী আওয়াজও, পণ না নেওয়ার আরেকটা কারণ হতে পারে।