Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তান

New Year's Eve 2024: বর্ষবরণ উৎসবের জন্ম ব্যাবিলনে, সংস্কার-কুসংস্কারে নিউইয়ার্স ইভ

গোটা বিশ্বেই রয়েছে সেই প্রত্যাশার একেক রকম কায়দা, রীতিনীতি ও সংস্কার-ঐতিহ্য।

New Year's Eve 2024: বর্ষবরণ উৎসবের জন্ম ব্যাবিলনে, সংস্কার-কুসংস্কারে নিউইয়ার্স ইভ

কেউ ভালো খাওয়াদাওয়ার মধ্য কাটালে বিশ্বাস করেন, গোটা বছরটাই এমনিভাবে কেটে যাবে।

শেষ আপডেট: 20 December 2024 18:28

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাঙালি মানেই উৎসবের ফুলঝুরি। আগুন দেওয়ার অপেক্ষায়। আর তা যদি ক্রিসমাস ও ইংরেজি বর্ষবরণের রাত হয়, তাহলে তো কথাই নেই। হুল্লোড়ের জার্সি গায়ে নিজ নিজ পাড়ার গলিতে নেমে পড়তে এখন থেকেই তাল ঠুকছেন বঙ্গসন্তানরা। ইংরেজি নববর্ষ বরণের রাত মানেই আবার একটা নতুন বছরের কাছে অনেক কিছু প্রত্যাশা। শুধু বাঙালি নয়, গোটা বিশ্বেই রয়েছে সেই প্রত্যাশার একেক রকম কায়দা, রীতিনীতি ও সংস্কার-ঐতিহ্য।

ঐতিহাসিকদের মতে, নিউ ইয়ার্সের উৎসবের জন্ম প্রাচীন ব্যাবিলনে। ৪০০০ বছর আগে। যাঁরা ভাবছেন বর্ষবরণের রাতটা প্রিয়জন বা পরিবারের সঙ্গে কীভাবে কাটাবেন, তাঁদের জন্য রইল অনেকগুলো ঐতিহ্য-পরম্পরা-রীতিনীতির অলিগলির মানচিত্র। সারা পৃথিবীতে কেউ ভালো খাওয়াদাওয়ার মধ্য কাটালে বিশ্বাস করেন, গোটা বছরটাই এমনিভাবে কেটে যাবে। আবার কারও মতে, এইসব বিধিগুলি মানলে আগামী বছর সুখেসমৃদ্ধিতে ভরে যাবে। মঙ্গল আসবে সংসারে ও পরিবারে। কেউ এইদিনে ভাগ্য ফেরাতে নির্দিষ্ট কিছু কেনেন তো কেউ নির্দিষ্ট রঙের পোশাক পরেন।

ইংরেজি নতুন বছরের প্রবেশ কীভাবে হয়?

আধুনিক ঐতিহাসিকদের মতে, ১৯০৭ সালে নিউইয়র্ক শহরের টাইমস স্কোয়ারের বিখ্যাত বল ড্রপ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পুরনো বছরের বিদায় এবং নতুন বছরের শুরু হয়। একেবারে অন্তিম মুহূর্তের এই অনুষ্ঠানটিকে কাউন্ট ডাউনও বলা যায়। এ বছর গোলার্ধ্বটি তৈরি হচ্ছে ১২ ফুট ব্যাসের, ওজনে ১১,৮৭৫ পাউন্ড। গোলার্ধ্বটিকে লাগানো হচ্ছে ২,৬৮৮টি স্ফটিকের ত্রিকোণ, যাতে থাকবে ৩২,২৫৬টি এলইডি লাইট।

তবে নিউইয়র্ক একাই নয়। আমেরিকার জর্জিয়ার আটলান্টায় একটি বিশাল পিচ ফল (নকল) ব্যবহার করা হয়। উইনকোনসিনের প্লাইমাউথে বিশাল চিজ ড্রপ করা হয়। তেমনই পেনসিনভানিয়ার কেনেট স্কোয়ার ব্যবহার করে দৈত্যাকার মাশরুম। তবে কাউন্টডাউনের জন্য কী প্রতীক ব্যবহার করা হয়, সেটা বড় কথা নয়, বড় কথা হল শয়ে শয়ে মানুষ এই মুহূর্তটিকে ধরে রাখতে সেখানে হাজির থাকেন।

খাওয়াদাওয়া

১২টি আঙুর খাওয়া। স্পেনের ঐতিহ্য হল মধ্যরাতের প্রতি সেকেন্ডে একটি করে আঙুর খাওয়ার। যাঁরা সেটা করতে পারেন, তাঁদের বিশ্বাস আগামী বছরটি ভালোয় ভালোয় কাটবে। অ্যাটলাস অবসকুরা বলছে, যদি না পারেন তাহলে আগামী বছরে আপনার জীবনের নেমে আসতে পারে দুর্ভাগ্য।
ঘরে হপ্পিন্স জন বানান। ব্ল্যাক আইড পিস, পর্ক এবং চাল দিয়ে বানানো এই রান্না ১ জানুয়ারি খাওয়ার মধ্যে বিশেষ তাৎপর্য আছে। অনেকে বিশ্বাস করেন, এটা ভাগ্য ফিরিয়ে আনে। কারও বিশ্বাস শান্তি-সমৃদ্ধি ফিরে আসে। কেউ কেউ খাবারের ডিশের নীচে একটি পেনি রেখে দেন, কেউবা অতিরিক্ত পর্ক দেন, অতিরিক্ত সৌভাগ্যের লোভে।

গোলাকৃতি আকারের ফল কেটে খান। গোলাকৃতি হল মুদ্রার প্রতীক। যাতে মানুষ বিশ্বাস করেন, গোলাকৃতি করে কেটে ফল খেলে প্রচুর আয় হবে আগামী বছরে। যেমন- ইতালিতে। ফিলিপিন্সে তো ১২ রকমের ফল আধখানা করে (গোলাকৃতি) কেটে খাওয়া রীতিমতো দস্তুর। একেকটি একেক মাসের জন্য। 
আয়ারল্যান্ডে মানুষ আবার খাবারের সঙ্গে নয়, তবে রুটির সঙ্গে জুড়ে নিয়েছেন নববর্ষের ভাগ্য। আইরিশ ব্যাং ক্রিসমাস ব্রেড বা ক্রিসমাস ব্রেডকে দেওয়ালে মেরে ফাটানোর রীতি পালন করেন আইরিশরা। যা অশুভ শক্তিকে আছাড় মেরে ফেলার প্রতীক। ঘর থেকে অশুভকে মেরে বের করে দিয়ে ঘরকে নতুন করে গড়ে তোলার বিশ্বাস রয়েছে এর পিছনে। কোথাও কোথাও এইদিনে মাছ খাওয়াও একটি বিশ্বাস। কারণ জলে মাছ কেবলমাত্র সামনের দিকে সাঁতার কাটতে পারে। সংস্কার এই যে, নতুন বছরে জীবনকেও শুধুমাত্র সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এটা করা উচিত।

বেদানা খাও, সৌভাগ্য অর্জন করো। তুরস্কের মানুষের বিশ্বাস এইদিন বেদানা ভেঙে খেলে সৌভাগ্য ঘোরাফেরা করে কাছেপিঠে। তবে যেভাবে সেভাবে নয়। ঘরের প্রধান দরজার সামনে আছাড় মেরে ভাঙতে হবে বেদানাকে। যত টুকরো হবে এবং দানা যত দূর ছড়িয়ে পড়বে, তত সৌভাগ্য লাভ হবে নতুন বছরে। আরও সৌভাগ্যের জন্য তার আগে এক চিমটে নুন ছড়িয়ে রাখতে হবে দরজার গোড়ায়।

গ্রিসে নিউইয়ার্সের ডেজার্ট শুধুমাত্র আহ্লাদের জন্য নয়। এটাও একটা সৌভাগ্যের প্রতীক। অতিথিদের দেওয়া হয় বাসিলোপিটা নামে ডেজার্ট অথবা একটি কেক কিংবা মিষ্টি ব্রেড। যেটা তৈরির সময় তার ভিতরে একটি কয়েন ফেলে দিতে হয়। যে ব্যক্তি খাওয়ার সময় সেটি খুঁজে পাবেন, তিনি সম্বৎসর সৌভাগ্যের মধ্যে নড়াচড়া করতে পারবেন। স্ক্যান্ডিনিভিয়ান দেশগুলিতে এভাবেই রাইস পুডিং রান্না করা হয়। এক হাতা করে দেওয়ার সময় যাঁর বাটিতে কয়েন পড়বে তিনি হবেন সৌভাগ্যের অধিকারী।

নুডলস খাও। জাপানের ঐতিহ্য হচ্ছে তোশিকোশি সোবা খাওয়া। লম্বা নুডলস হল দীর্ঘ জীবনের প্রতীক। শান্তি ফিরিয়ে আনবে বছরভর। সব শেষে শ্যাম্পেন। রাশিয়ায় কাগজের উপর যে কোনও একটি ইচ্ছার কথা লেখা হয়। তারপর সেটা পুড়িয়ে ফেলা হয়। সেই ছাই শ্যাম্পেনের গ্লাসে দিয়ে পান করা হয়। এই পুরো কাজটি সমাধা করতে হবে মাত্র ১০ সেকেন্ডের মধ্যে। 

কী পরবেন, কী পরবেন না ও নাচা-হাঁটা-লাফানো

বর্ষবরণের রাত সমুদ্র সৈকতে কাটানোর মতো আনন্দ আর কিছুতে নেই। কিন্তু, ব্রাজিলের মানুষ বিশ্বাস করেন, ভাগ্য সুপ্রসন্ন হবে যদি কেউ সমুদ্রের সাতটি ঢেউয়ের উপর সাতবার লাফাতে পারেন। একেকটি ঢেউ একেকটি দেবতার উদ্দেশ্যে। আবার কারও মতে, সাতটি ইচ্ছার কথা জানাতে হয় সমুদ্রের কাছে। ব্রাজিলেরই লাখ লাখ মানুষ সৈকতে হাজির হন বর্ষবরণ পালন করতে। তবে একটা পরম্পরা চালু আছে যে, সাদা পোশাক পরতে হয় এইদিনে। সাদা রঙ হচ্ছে সৌভাগ্য ও শান্তির প্রতীক। তেমনই ফিলিপিন্সের বিশ্বাস এইদিনে পোলকা ডট দেওয়া জামাকাপড় পরলে সৌভাগ্য গায়ে গায়ে ঘুরবে।
ডেনমার্কে আবার প্রচলিত আছে, একটি চেয়ারে দাঁড়াতে হবে। এবং মধ্যরাতে পুরনো বছরকে ছেড়ে জানুয়ারির জন্য লাফিয়ে পড়তে হবে। তবে ভুলে গেলে নির্দয় ভাগ্যের জন্য অপেক্ষা করতে হবে তা ভুললে চলবে না। আবার লাতিন আমেরিকার দেশগুলিতে বিশ্বাস এইদিনে নির্দিষ্ট রঙের অন্তর্বাস পরলে ভাগ্য খুলে যাবে। যেমন হলুদ হল ভাগ্যের প্রতীক, লাল প্রেমের এবং সাদা শান্তির প্রতীক।

আরও কত কী আছে?

ডেনমার্কের একাংশে বাড়ির ডিশ ভাঙা একটা রীতি। বর্ষবরণের রাতে কোথাও বন্ধুবান্ধব বা পরিবারের কারও ঘরের দরজার সামনে ডিশ-প্লেট ভেঙে আসতে হয়। আপনার ঘরের সামনে যত কাচের টুকরো পড়ে থাকবে ততই আপনি সৌভাগ্যের অধিকারী হবেন। কেউ মনে করেন, আপনাকে ভালবাসার লোকের সংখ্যাও বুঝতে পারবেন এর ফলে। 

গ্রিসে এইদিন দরজার সামনে পেঁয়াজ ঝুলিয়ে রাখাও একটা প্রথা। গ্রিক উপকথা অনুসারে পেঁয়াজ হল সমৃদ্ধির প্রতীক। নতুন বছরের প্রথম দিন বাবা-মায়েরা ছেলেমেয়েদের মাথায় পেঁয়াজ বুলিয়ে ঘুম ভাঙান। যাতে পরতে পরতে তারা সৌভাগ্য নিয়ে আসতে পারে। জার্মানিতে একটি প্রথা চালু আছে তা হল মোমের আগুনে একটি পাত্রে সিসা (এখন সেটা টিন কিংবা মোম হয়ে গিয়েছে) গলানো। তারপর সেটা ঠান্ডা জলে ফেলা। যদি গোলাকৃতি ধারণ করে, তাহলে বুঝতে হবে ভালো সময় আসছে। আর যদি লম্বাটে তরোয়ালের মতো হয়, তাহলে সতর্ক থাকতে হবে।

পুয়ের্তো রিকো-তে জানালা দিয়ে এক বালতি জল ছুঁড়ে ফেলাও একটা প্রথা। এতে অশুভ শক্তিকে ঘর থেকে বিদেয় করে দেওয়া হয়। কলোম্বিয়ায় আলু ছুলে ফেলাকে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। তিনটি আলু নেওয়া হয় এই কাজে। প্রতিটি সদস্যের মাথার বালিশের নীচে তিনটি করে আলু রাখা হয়। যার মধ্যে একটি ছোলা, একটি আধছোলা অন্যটি খোসাসুদ্ধ। ইকুয়াডরের প্রথা হচ্ছে একটি ছোট আগুন জ্বেলে তার উপর দিয়ে লাফ দেওয়া। ১২ বার লাফ দেওয়া হয় প্রতি মাসের জন্য একটি করে।

১৯০০ সাল থেকে অনেকে বরফ জলে ডুব দিয়ে পুণ্যার্জন করেন নিউইয়ার্সে। নদী, পুকুর বা সমুদ্রে এই ডুব দিতে হয়। অন্যদিকে স্কটল্যান্ড ও উত্তর ইংল্যান্ডে বাড়িতে প্রথম যে ব্যক্তি আসবেন তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে হয়। যাঁকে ফার্স্ট ফুটার বলা হয়। সেই ব্যক্তি হবেন লম্বা এবং কালো। সঙ্গে নিয়ে আসবেন সামান্য কয়লা, লবণ, এক টুকরো ব্রেড এবং হুইস্কি। যা ন্যূনতম প্রয়োজন উত্তাপ, খাদ্য এবং পানীয়র প্রতীক।


```