
শেষ আপডেট: 16 October 2022 16:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটা সময় খবরের কাগজে ‘অস্কার ওয়াইল্ড’ (Oscar Wilde) শব্দবন্ধটি হয়ে গিয়েছিল দুই পুরুষের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কের সমার্থক। দুজন পুরুষের যৌন সম্পর্ক নিয়ে কথা উঠলেই নির্দ্বিধায় ব্যবহার হত এই লব্জ। উনিশ শতকের সেই শ্বেতাঙ্গ সমাজে সমকাম ছিল মহাপাপ। ঈশ্বর অবমাননার সামিল। সেই অতি রক্ষণশীল সমাজে অস্কার ওয়াইল্ড ছিলেন মূর্তিমান দ্রোহের ছবি। ততদিনে একাধিক পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে নাম জড়িয়েছে তাঁর। পুরুষ সঙ্গীর খোঁজে রেড লাইট এরিয়াতে যাওয়াআসার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত। স্ত্রী লয়েডের সঙ্গে সম্পর্কও ঝুলে আছে বিপদসীমায়। এ হেন অবস্থায় একটা মানহানির মামলাকে কেন্দ্র করে কাগজের শিরোনামে উঠে এলেন অস্কার ওয়াইল্ড।
আঠারো শতকের শেষদিকে যুক্তরাজ্যের তৎকালীন অভিজাত বংশ ‘মারকুয়েজ অব কুইনসবারির’ ছেলে লর্ড আলফ্রেড ডগলাসকে বিপথগামী করার অভিযোগ ওঠে অস্কারের বিরুদ্ধে। ছিছিক্কারের বন্যায় ভেসে গেল চারদিক। সমকামিতার অভিযোগকে ঘৃণার চোখে দেখার রেওয়াজ ছিল তৎকালীন ইংল্যান্ডে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দুই বছর জেল খাটতে হয় তাঁকে। অথচ এই মানুষটাই তাঁর বিস্ময়কর প্রতিভা আর সাহিত্যসাধনার জোরে জীবদ্দশাতে ইংরাজি সাহিত্যের কিংবদন্তি হয়ে উঠেছিলেন (Oscar Wilde)। গল্প, কবিতা, নাটক, প্রবন্ধ সাহিত্যের সব শাখাতেই তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।

১৮৫৪ সালে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন শহরে জন্ম অস্কার ওয়াইল্ডের (Oscar Wilde)। পূর্বপুরুষেরা ছিলেন ওলন্দাজ। বাবা উইলিয়ম ওয়াইল্ড ছিলেন চোখ, কান, গলার ডাক্তার। পাশাপাশি পুরাতত্ত্ব, লোককথা নানা দিকেই প্রবল ঝোঁক ছিল তাঁর। মা জেন ফ্রান্সেসকাও ছিলেন মেধাবিনী এবং উজ্জ্বল চরিত্রের মানুষ। ইয়ং আয়ারল্যান্ড মুভমেন্টের প্রথম সারির নেত্রী ছিলেন তিনি। কলম ছিল ক্ষুরধার। বাবা মায়ের সাহিত্যপ্রেমের এই উত্তরাধিকারই পরবর্তীতে পূর্ণতা পেয়েছিল অস্কার ওয়াইল্ডের মধ্যে।
ডাবলিনের ট্রিনিটি কলেজে পড়ার সময়ই পেলেন বার্কলে স্বর্ণপদক। স্কলারশিপও পেলেন অক্সফোর্ড যাওয়ার জন্য। আবাল্য মেধাবী ছাত্র অস্কার অক্সফোর্ডে এসে পেলেন জন রাসকিন আর ওয়াল্টার প্যাটারের মতো দুজন পণ্ডিত শিক্ষকের সান্নিধ্য। চলল পড়াশোনা, আর তার পাশাপাশি দুহাতে সব্যসাচীর মতো লেখালিখি।
খুব ভালো কথা বলতে পারতেন অস্কার (Oscar Wilde)। শ্রোতারা মুগ্ধ হয়ে যেত তাঁর কথা শুনে। চেহারাও ছিল চটকদার। পোশাক আশাক নিয়েও নানারকম এক্সপেরিমেন্ট করতেন তিনি। সব মিলিয়ে অল্প বয়সেই দারুণ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন অস্কার ওয়াইল্ড। বিয়েও করেন। এই সময় দুহাতে লিখছেন তিনি। লেডি উইন্ডার মেয়ারস ফ্যান (১৮৯২ ), এন আইডিয়াল হ্যাজব্যান্ড (১৮৯৫), এ ওম্যান অফ নাে ইমপরট্যান্স (১৮৯৩), দ্য ইমপরট্যান্স অফ বিয়িং আর্নেস্ট (১৮৯৫)-এর মতো নাটক, হ্যাপি প্রিন্স, সেলফিশ জায়েন্টের মতো রূপকথাধর্মী গল্পের পাশাপাশি উপন্যাস, কবিতা, সামাজিক কাহিনি— কী লেখেননি তিনি!
জেলজীবন নিংড়ে নিয়েছিল তাঁকে। দুবছর পর জেল থেকে ছাড়া পেলেন বটে, কিন্তু ভাঙা শরীর মন নিয়ে ক্লান্ত তিনি ততদিনে। দাম্পত্য জীবনেও টানাপোড়েন, এসব থেকে দূরে যাবেন বলেই ইংল্যান্ড ছেড়ে চলে যান প্যারিসে। জীবনের শেষ দিনগুলো সেখানেই কাটিয়েছিলেন ইংরাজি সাহিত্যের বিস্ময় প্রতিভা অস্কার ওয়াইল্ড। মাত্র ৪৬ বছর বয়সেই নিভে যায় সাহিত্যের এক উজ্জ্বল তারা।