
বন্দিদের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে মাটন বিরিয়ানি এবং বাসন্তী পোলাও সহ নানান বাঙালি ভূরিভোজের
শেষ আপডেট: 5 October 2024 15:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্গাপুজোর চারটে দিন যখন গোটা বাংলা উৎসবের আনন্দে ঝলমল করবে, তখন সংশোধনাগারের বন্দিদের জন্যও বিশেষ আয়োজন করেছে রাজ্য সরকার। সারা বছরের ডাল-ভাত-রুটি-সবজির জায়গায় পাড়ার পংক্তিভোজের মতো তাদের জন্যও থাকছে আহামরি খাবারের বন্দোবস্ত। যাতে গারদের ভিতরে থেকেও বহির্জগতের আনন্দ অনুভূতি ও রেশের ছোঁয়া লাগে তাদের মনেও।
পশ্চিমবঙ্গের সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ ঠিক করেছে, বন্দিদের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে মাটন বিরিয়ানি এবং বাসন্তী পোলাও সহ নানান বাঙালি ভূরিভোজের। শনিবার এক আধিকারিক জানান, কেউ যাতে মনে না করে তারা দুর্গাপুজোর আনন্দের থেকে অনেক দূরে রয়েছে। তাদের মুখেও একটু হাসি ফেরাতে দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আমূল বদলে যাচ্ছে খাদ্য তালিকা। বাইরের মানুষ যেমন এই কটা দিন হোটেল-রেস্তরাঁর খাবার খেয়ে থাকেন, তেমনই স্বাদেগন্ধে ভরপুর থালা সাজিয়ে খাবার দেওয়া হবে বন্দিদের।
জেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, সাজাপ্রাপ্ত এবং বিচারাধীন দুই ধরনেরই বন্দিদের এই রাজভোজ দেওয়া হবে। ষষ্ঠী থেকে দশমী একেকদিন থাকছে একেক রকম মেনু। এক আধিকারিক জানান, বন্দিরা অনুরোধ করেছিল, পুজোর জন্য কিছু রকমারি খাবার অন্তত এই কটা দিন দিতে। এ বছর আমরা নতুন মেনু পেয়েছি। আশা করি এইসব খাবার বন্দিদের মুখে হাসি ফোটাবে।
জানা গিয়েছে, দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে এই রান্না করবে জেল বন্দিদেরই একাংশ, যারা রাঁধুনি হিসেবে কাজ করে। খাদ্যতালিকায় রাখা হয়েছে, মাছের মাথা দিয়ে পুঁইশাক, মাছের মাথা দিয়ে ডাল, লুচি-ছোলার ডাল, পায়েস, চিকেন কারি, আলু-পটল চিংড়ি, মাটন বিরিয়ানি, রায়তা এবং বাসন্তী পোলাও। তবে ধর্মীয় ভাবাবেগ ও বিশ্বাসের মূল্যবোধে সকলকে আমিষ খাবার দেওয়া হবে না। যারা নিরামিষাশী তাদের পৃথক ব্যবস্থা থাকবে।
জেল আধিকারিক জানান, আমরা চাই এই কয়েকটা দিন তাদের প্রাত্যহিক রুটিন পরিবর্তন করতে। দুর্গাপুজোয় মাছ-মাংস ছাড়া আনন্দ মাটি। তাই আমরা সম্পূর্ণ বাঙালি খানার আয়োজন করেছি। তবে মাটন বিরিয়ানিও রাখা হয়েছে যা এখনকার বাঙালিদের ঘরের খাবার হয়ে উঠেছে, বলেন তিনি। বর্তমানে রাজ্যের ৫৯টি সংশোধনাগারে ২৬,৯৯৪ জন পুরুষ এবং ১৭৭৮ জন মহিলা বন্দি আছে।