Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
I PAC: ৫০ কোটির বেআইনি লেনদেন, আই প্যাক ডিরেক্টর ভিনেশের বিরুদ্ধে ৬ বিস্ফোরক অভিযোগ ইডিরWest Bengal Election 2026 | ‘৫০-আসন জিতে তৃণমূলকে ১৫০-আসনে হারাব’ মাতৃত্বের দুশ্চিন্তা, ‘ভাল মা’ হওয়ার প্রশ্ন—সদগুরুর পরামর্শে স্বস্তি পেলেন আলিয়ালক্ষ্য ২০২৯ লোকসভা ভোট, তড়িঘড়ি মহিলা সংরক্ষণ কার্যকরে মরিয়া মোদী! বাধা হয়ে দাঁড়াবে কি কংগ্রেস?Gold investment: যুদ্ধের বাজারে সোনার দাম কমছে! এটাই কি বিনিয়োগের সেরা সময়? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরারহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ

তিনটি স্তন নিয়ে জন্মেছিলেন কে এই দেবী, আজও তাঁর বিয়েতে খরচ হয় কয়েক কোটি

দক্ষিণ ভারতের মাদুরাই শহর আজও প্রতিবছর সাক্ষ্য দেয় সেই দৈব বিয়ের। যার বর কনে স্বয়ং না কি শিব আর পার্বতীর অবতার।

তিনটি স্তন নিয়ে জন্মেছিলেন কে এই দেবী, আজও তাঁর বিয়েতে খরচ হয় কয়েক কোটি

দেবী মীনাক্ষীর মন্দির - প্রতীকী চিত্র

শেষ আপডেট: 28 March 2024 12:49

দ্য ওয়াল ম্যাগাজিন ব্যুরো: তিন বছরের মেয়ে, জন্মেছিল তিনটে স্তন নিয়ে। যুদ্ধের ময়দানে অপরাজেয় সেই মেয়েকে বিয়ে করতে ছুটে এসেছিল দেশ বিদেশের বীরেরা। অপরূপা সুন্দরী, যৌবনবতী কিন্তু আখড়ার মাটিতে নামলে সে মেয়েই যেন জরাসন্ধ। প্রবল পরাক্রমশালী সেই মেয়ের বিয়েকে কেন্দ্র করেই আজও বিরাট উৎসব হয় প্রতিবছর। মেতে ওঠে আবালবৃদ্ধবনিতা। বিবাহমণ্ডপ সাজানোর জন্য নিয়ে আসা হয় সবচেয়ে মহার্ঘ্য ফুল, রেশমবস্ত্র, দামি চন্দন আতর। সেই আশ্চর্য বিয়ের সাক্ষী থাকেন কয়েক লক্ষ মানুষ। ভাবছেন, গল্পকথা! মোটেও না। দক্ষিণ ভারতের মাদুরাই শহর আজও প্রতিবছর সাক্ষ্য দেয় সেই দৈব বিয়ের। যার বর কনে স্বয়ং না কি শিব আর পার্বতীর অবতার।

দক্ষিণ ভারতের মন্দির শহর মাদুরাই। ভৈগাই নদীর ডানদিকে এই সুপ্রাচীন শহর, তামিলরা ভালোবেসে যাকে ডাকে থোঙ্গা নাগরাম নামে। এই শহরেই রয়েছে দেবী মীনাক্ষীর মন্দির। পার্বতীর রূপভেদ বলে মনে করা হয় মীনাক্ষী আম্মাকে। আর তাই মীনাক্ষী মন্দিরের পাশেই আছেন তাঁর স্বামী দেব সুন্দরেশ্বর। (Meenakshi Sundareswarar wedding)

মীনাক্ষী মাদুরাই শহরের নগরদেবী। খ্রিষ্টপূর্ব যুগ থেকে সপ্তদশ শতাব্দী পর্যন্ত মাদুরাই ছিল পাণ্ড্যবংশের রাজাদের রাজধানী। কিংবদন্তি অনুসারে মহাভারতের পাণ্ডবদের বংশধর এই রাজপরিবার। এই পাণ্ড্যবংশের এক প্রতাপশালী রাজা ছিলেন মাল্যধ্বজ। তাঁর রানির নাম ছিল কাঞ্চনমালা। বিয়ের অনেকগুলো বছর পেরিয়ে গেলেও রানি কাঞ্চনমালার কোল ছিল শূন্য। বংশধরের মুখ দেখার জন্য ছটফট করছিলেন রাজা মাল্যধ্বজও। শেষে ব্রাহ্মণ পণ্ডিতদের উপদেশ মেনে জাঁকজমক করে এক পুত্রেষ্টি যজ্ঞের আয়োজন করলেন রাজা। যজ্ঞে তুষ্ট হলেন মহাদেব। সন্তানলাভের বরও দিলেন। যজ্ঞে পূর্ণাহুতি দেওয়ার সময় যজ্ঞকুণ্ড থেকে উঠে এল তিন বছরের এক ফুটফুটে মেয়ে। সেই মেয়ের মাছের মতো চোখ, বুকে দুইয়ের বদলে তিনটে স্তন। রাজা রানি সেই মেয়ের নাম রাখলেন মীনাক্ষী। কিন্তু মীনাক্ষীর এই অদ্ভুত শরীরের গঠন চিন্তায় ফেলল রাজা-রানিকে৷ উপায় না দেখে মহাদেবেরই শরণাপন্ন হলেন তাঁরা। সব শুনে মৃদু হেসে বরাভয় দিলেন শিব। বললেন, কোনও চিন্তা নেই। কন্যা যে মুহূর্তে তাঁর ভাবী স্বামীর দেখা পাবে, সেই মুহূর্তেই তাঁর শরীর থেকে তৃতীয় স্তন লোপ পাবে।

মন্দির ভাস্কর্যে মীনাক্ষী আম্মা

মীনাক্ষী ক্রমশ মল্লযুদ্ধে পারদর্শী হয়ে উঠলেন। যখন তাঁর ২১ বছর বয়স, তখন রাজা-রানি ঠিক করলেন মেয়ের বিয়ে দেবেন।যেমন ভাবনা, তেমনই কাজ। মীনাক্ষীর জন্য স্বয়ংবর সভা ডেকে বসলেন রাজা। স্বয়ংবর সভায় এক অদ্ভুত ঘোষণা করে বসলেন রাজকুমারী মীনাক্ষী। বলে বসলেন, যে পুরুষ তাঁকে মল্লযুদ্ধে হারাতে পারবে সেই পুরুষের গলাতেই মালা দেবেন। কত রাজকুমার,কত রাজা এসে এসে ফিরে গেল। মল্লযুদ্ধে অপরাজিত মীনাক্ষীকে কেউই হারাতে পারল না৷ ফলে অবিবাহিতই রয়ে গেলেন মীনাক্ষী।

রাজা মাল্যধ্বজের মৃত্যুর পর মীনাক্ষীই বসলেন মাদুরাইয়ের সিংহাসনে। তখন তো দেশজুড়ে যুদ্ধবিগ্রহ লেগেই থাকত। তেমনই এক যুদ্ধশেষে মীনাক্ষী চললেন কৈলাশের পথে। যে মহাদেবের বরে তাঁর জন্ম তাঁকেই দর্শন করে দুচোখ ধন্য করতে। বেশিদূর যেতে হল না। পথের প্রান্তেই দেখা দিলেন দেব সুন্দরেশ্বর। সেই অপরূপ রূপবান পুরুষকে দেখে মুহূর্তেই তাঁর প্রেমে পড়লেন মীনাক্ষী। আর কী আশ্চর্য, সেই মুহূর্তেই তাঁর শরীর থেকে লোপ পেল তাঁর তৃতীয় স্তন। বুঝতে আর বাকি রইল না কিছুই। সুন্দরেশ্বরও ততক্ষণে মন সঁপেছেন মীনাক্ষীকে। খুব ধুমধাম করে বিয়ে হলে দুজনের। মীনাক্ষীর টানে কৈলাশ ছেড়ে দেব সুন্দরেশ্বর নেমে এলেন মাটির পৃথিবীতে, মাদুরাই শহরে। (Meenakshi Sundareswarar wedding)

দেব সুন্দরেশ্বরের সঙ্গে দেবী মীনাক্ষী

ইতিহাস অবশ্য একেবারে অন্য কথা বলছে। আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে মীনাক্ষীদেবীর মন্দির গড়েছিলেন কুমারী কাণ্ডম। চতুর্দশ শতকে মালিক কাফুরের নেতৃত্বে একদল সেনাদস্যু লুঠতরাজ আর ভাঙচুর চালায় এই মন্দিরে। পরে অবশ্য একাধিকবার সংস্কার করা হয়েছে এই মন্দিরে। আজকের মন্দিরটি গড়ে উঠেছিল ১৬৩০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ নায়েক রাজাদের আমলে। নায়েক রাজা বিশ্বনাথের আমলে এই মন্দিরের সর্বাধিক উৎকর্ষ সাধিত হয়। দ্রাবিড় শিল্পরীতির অনন্য বৈশিষ্ট্যে ভরা এই মন্দিরের গোপুরমগুলো দেখার মতো। এদের এক একটার উচ্চতা প্রায় দশতলা বাড়ির সমান। নিরেট পাথরে তৈরি এই গোপুরম বা মন্দিরতোরণগুলো সাজানো হয়েছে রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণের আলেখ্য দিয়ে সাজানো ছোট বড় নানা মূর্তিতে। এক একটা গোপুরমে এরকম প্রায় দেড় হাজার রঙিন মূর্তি আছে। আর মাথায় অর্ধবৃত্তাকার ছাদে সাজানো আছে শিখর আর কলস।

সেই বিখ্যাত গোপুরম

প্রতিবছর এপ্রিল মাস নাগাদ মাদুরাই শহর সেজে ঈঠে চিত্তিরাই ফেস্টিভ্যালে। মাদুরাইয়ের অন্যতম প্রধান উৎসব এই চিত্তিরাই। বারো দিন ধরে চলা এই উৎসবের দশম দিনটি মীনাক্ষী আম্মা আর সুন্দরেশ্বরের বিয়ের দিন। সুন্দরেশ্বরের সঙ্গে মীনাক্ষীর বিয়ে তামিলনাড়ুর অন্যতম লোক উৎসব।(Meenakshi Sundareswarar wedding) মাদুরাই থেকে বেশ কয়েক কিলোমিটার দূরে আজঘরা মালাই। এখানকার মন্দিরে পুজো পান মীনাক্ষীর ভাই রাজা কালাজঘর। ইনি ভগবান বিষ্ণুর অবতার। বোনের বিয়ে উপলক্ষে উৎসবের নবম দিন অজিঘরমালাইয়ের মন্দির থেকে রথে চড়ে বিরাট শোভাযাত্রা করে মাদুরাই আসেন ভাই কালাজঘর। দেশ বিদেশ থেকে আসেন অসংখ্য পুণ্যার্থীর দল। মেলা বসে যায় রাস্তার দুপাশে৷

মীনাক্ষীর সম্প্রদান করেন তাঁর ভাই রাজা কালাজঘর

পরের দিন মীনাক্ষী আম্মা আর দেব সুন্দরেশ্বরের বিয়ে। সেদিন সকাল থেকেই অপরূপ করে সাজানো হয় বর ও বধূকে। কয়েক লাখ টাকার ফুল দিয়ে সাজানো হয় বিবাহমণ্ডপ। ভোর থেকেই পুণ্যার্থীরা মন্দির চত্তরের গোল্ডেন লোটাস পুকুরে চান করে, নতুন কাপড় পরে পুজো দেন মীনাক্ষী আম্মার। তারপর মাহেন্দ্রক্ষণে প্রায় পঞ্চাশজন পুরোহিত মিলে বৈদিক মন্ত্র পাঠ করতে করতে বিবাহ দেন সুন্দরেশ্বর শিব আর মীনাক্ষীরূপিনী পার্বতীর।(Meenakshi Sundareswarar wedding)

বিয়ের পরের দিনও উৎসব চলে। এদিন বর বধুবেশে সাজিয়ে শিব-পার্বতীকে নিয়ে শোভাযাত্রা করে নগর পরিক্রমা করা হয়৷ এর নাম পুষ্পপালাক্ক। মীনাক্ষী মন্দিরে প্রায় প্রতিদিনই গড়ে প্রায় ১৫ হাজার পুণ্যার্থী আসেন আম্মাকে দর্শন করতে। এপ্রিল মাসের এই বিশেষ সময়ে সেই সংখ্যাটা বেড়ে যায় প্রায় কয়েক গুণ। আর বিয়ের খরচ? নিন্দুকেরা বলে, গরিব দেশ হলেও প্রতিবছর এই বিয়ের উৎসবে খরচ হয় অন্তত কয়েক কোটি টাকা, যার বেশিরভাগটাই আসে ভক্তদের প্রণামী আর দানবাক্স থেকে।


```