Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনের

দিনদুপুরে নেমে আসে সন্ধ্যার আঁধার

অমিতাভ রায় দিল্লির দূষণ এখন আন্তর্জাতিক শিরোনাম। দেওয়ালির রেশ কাটতে না-কাটতেই দিল্লির আকাশ-বাতাস দূষণে আক্রান্ত হয়। দিল্লিবাসীর শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকে। পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে যানজট। শীতের কুয়াশার চাদরে রাজধানী ঢাকা পড়তে না-পড়তেই দূষণের দাপট আ

দিনদুপুরে নেমে আসে সন্ধ্যার আঁধার

শেষ আপডেট: 1 March 2020 02:30

অমিতাভ রায়

দিল্লির দূষণ এখন আন্তর্জাতিক শিরোনাম। দেওয়ালির রেশ কাটতে না-কাটতেই দিল্লির আকাশ-বাতাস দূষণে আক্রান্ত হয়। দিল্লিবাসীর শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকে। পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে যানজট। শীতের কুয়াশার চাদরে রাজধানী ঢাকা পড়তে না-পড়তেই দূষণের দাপট আরও বাড়তে থাকে। মাঝেমধ্যেই দিনদুপুরে নেমে আসে সন্ধ্যার আঁধার। খবরের কাগজ বা টিভির পর্দায় প্রচারিত হয় সেই সব ছবি। জানানো হয় প্রতিদিনের দূষণমাত্রা। সংবাদমাধ্যমে চলতে থাকে নিরন্তর আলোচনা-পর্যালোচনা। দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার নিয়মমাফিক পদক্ষেপ করে। কখনও জারি হয় আতশবাজির ওপর নিষেধাজ্ঞা। কখনও আবার যান-নিয়ন্ত্রণ। বিনামূল্যে বিতরিত হয় দূষণ প্রতিরোধক মাস্ক। দূষণের তীব্রতা আরও বেড়ে গেলে স্কুলে ছুটি ঘোষণা করা হয়। কোনও কিছুতেই কিছু না হলে সরকার নাজেহাল হয়ে পড়ে। সেই লগ্নে আদালতে হাজির হয়ে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলি সরকারের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ করার আবেদন করে। আদালত সরকারের জবাব চেয়ে পাঠায়। রীতিমত ওকালতনামা দিয়ে সরকার কবুল করে, দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সপ্তাহের প্রতিদিন চব্বিশ ঘণ্টা কাজ চলছে। একই সঙ্গে পেশ করা হয় কাজের তালিকা। সংবাদমাধ্যমে সেইসব বিবরণী ফলাও করে প্রচারিত হয়। দিনের শেষে কিন্তু পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয় না। শব্দবাজি নিষিদ্ধ। কিন্তু দৃশ্যবাজি! যে বাজিতে আগুন ধরিয়ে দিলে আকাশে আগুন-ফুলের ফুলকি ছড়িয়ে পড়ে। সেই সব বাজি পোড়ানোর পর বাতাসে যে গ্যাস ভেসে বেড়ায়, তা নিশ্চয়ই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী নয়। সব মিলিয়ে দেওয়ালি উদযাপনের লগ্নে দিল্লি এবং লাগোয়া গুরগাঁও, নয়ডা, ফরিদাবাদ, গাজিয়াবাদে বিরাজ করতে শুরু করে এমন এক আবহাওয়া, যা জনজীবনে নিয়ে আসে শ্বাসরোধের পরিস্থিতি। আবাসন শিল্পে যতই ভাটার টান আসুক না কেন, গৃহনির্মাণ দিল্লির সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং লাভজনক শিল্প। বৈধ এবং অবৈধ পন্থায় নতুন বাড়িঘর তৈরি, পুরনো বাড়ি ভেঙে আবার নতুন করে নির্মাণ এবং বাড়িঘরের আধুনিকীকরণ সারাবছর ধরেই চলতে থাকে। ফলে সর্বত্রই সারাক্ষণ ধুলো উড়ছে। বাইরে থেকে আসা ধোঁয়াশায় মিশে গিয়ে এই সব ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ধূলিকণা আবহাওয়াকে আরও দূষিত করছে। ঘনবসতিপূর্ণ শহরে আকাশছোঁয়া বাড়ির সংখ্যা প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে। অভিজাত এলাকা হোক বা গরিব মহল্লা, চূড়ান্ত বিচারে পুরোটাই কংক্রিটের জঙ্গল। ধোঁয়াশা বেরিয়ে যাওয়ার পথ নেই। রাজধানী বলে কথা! দু’চাকা হোক বা তিন কিংবা চার চাকা, সারাদিনে কত গাড়ি শহরের সড়কে দাপিয়ে বেড়ায়, তার হিসেব করা বেশ কঠিন এবং অবশ্যই জটিল কাজ। গণপরিবহণ ব্যবস্থার বাস-অটো-ট্যাক্সি বাধ্যতামূলকভাবে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করে। কিছু কিছু ব্যক্তিগত গাড়িও অর্থসাশ্রয়ের জন্য জ্বালানি হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাস বেছে নেয়। কিন্তু তার বাইরে! মেট্রোর ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ব্যক্তিগত দু’চাকা এবং চার চাকার গাড়ির ব্যবহার অনেক বেড়েছে। জমে থাকা ধোঁয়াশায় যুক্ত হয়, গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসা ধোঁয়া। দিল্লি সরকারের উদ্যোগে সাময়িকভাবে রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রিত করে দূষণের মাত্রা কিছুটা কমানোর চেষ্টা করা হয়। টোটকা দিয়ে কি স্থায়ী ক্ষত নিরাময় করা যায়? প্রশ্ন উঠতেই পারে, আগে তো এমনটা হত না? সত্যিই বছর-দশেক আগেও এমন শ্বাসরোধকারী আবহাওয়া দিল্লিতে অনুপস্থিত ছিল। পরের অবশ্যম্ভাবী প্রশ্ন, সর্বোচ্চ আদালত, জাতীয় সবুজ আদালতের রায় কি কেউ মানছে না? উত্তরে বলতে হয় যে, সকলেই মানছে। সরকারি স্তরে দূষণ নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগে ঘাটতি নেই। তবুও কেন দূষণের মাত্রা এত বাড়ছে যে, শ্বাসকষ্টের রোগীদের সামাল দিতে হাসপাতালগুলো হিমশিম খাচ্ছে? স্কুল বন্ধ রাখতে হচ্ছে। রাস্তায় গাড়ি চলাচলের বিষয়ে লাগাম টানতে হচ্ছে। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় বের হতে কেউ রাজি নন। এই দুর্বিষহ অবস্থায় মানুষ কীভাবে বাঁচবে? পঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লির রাজ্য সরকার এবং ভারত সরকার বিবৃতি দিয়ে, এমনকী আদালতে ওকালতনামা পেশ করে জানাচ্ছে যে, তারা সকলেই আদালত নির্ধারিত নির্দেশ মেনে দূষণ নিয়ন্ত্রণের কাজ করে চলেছে। কথা আর কাজে মিল থাকলে কোনও প্রশ্ন উঠত না। হরিয়ানা স্পেস অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার গত চৌঠা নভেম্বর জানিয়েছে যে, উপগ্রহের ছবি অনুসারে পঞ্জাবের বত্রিশ হাজারেরও বেশি এলাকায় নাড়া পোড়ানোর কাজ সক্রিয় রয়েছে। হরিয়ানায় সংখ্যাটা বেশ কম। সাড়ে চার হাজারের সামান্য বেশি। সত্য-মিথ্যা বয়ানের যাচাই করার বদলে খোঁজ নেওয়া দরকার, আগে কেন এমনটা হত না আর এখনই বা কেন হচ্ছে। বছর-দশেক আগে পঞ্জাব সরকার রীতিমত আইন প্রণয়ন করে জমিতে ধানের বীজবপনের একটি দিন নির্দিষ্ট করে দেয়। সেই আইন অনুসারে, দশই মে-র আগে ধানের বীজবপন নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়। ভূগর্ভস্থ জল সংরক্ষণের জন্য এই আইনটির প্রয়োজন হয়েছিল। আইনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ সিংহ বাদলের নেতৃত্বাধীন সরকার জানায় যে, দশই জুন নাগাদ ভূপৃষ্ঠের সমস্ত জল বাষ্পীভূত হয়ে আবহমণ্ডলে মিশে যাওয়ার পর, বীজতলা থেকে ধানের চারা তুলে নিয়ে খেতে রোপণ করলে জলের ব্যবহার কমে যাবে। ততদিনে বর্ষাও শুরু হয়ে যাবে। ফলে ভূগর্ভের জল কম ব্যবহার হবে। হরিয়ানা সরকারও একই সময় এই রকমের একটা আইন প্রণয়ন করে। অর্থাৎ ধানের বীজবপন এবং বীজতলা থেকে ধানের চারা রোপণের প্রচলিত সময় প্রায় একমাস পিছিয়ে দেওয়া হল। ফলত, ধান কাটার সময়ও প্রায় একমাস পিছিয়ে গেল। আর এখান থেকেই সমস্যার সূচনা। বীজবপন একমাস পিছিয়ে দেওয়ায় ফসল কাটার মরশুম একমাস পিছনে চলে গেল। আর এখানেই শুরু হল যাবতীয় বিপত্তি। গ্রীষ্মের ফসল ধান কাটার পর শীতের শষ্য গমের বীজবপনের সময় এসে যায়। আগে কাটা ধানের গোড়া, যা চলতি কথায় নাড়া বলে পরিচিত, জমিতে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পচে গিয়ে জমি উর্বর করতে সাহায্য করত। শেষবর্ষার হাল্কা বর্ষণে নাড়া পচার কাজটি বিনা শ্রম এবং পারিশ্রমিকে সম্পন্ন হয়ে যেত। পরিবেশ দূষণের কোনও সুযোগ ছিল না। কিন্তু সরকারি হুকুমনামায় সমগ্র প্রক্রিয়া একমাস পিছিয়ে যাওয়ার পর গমচাষের জন্য জমি তৈরি করার সময় কমে গেল। তখনই চালু হল নাড়া পোড়ানোর ব্যবস্থা। হেমন্তের শিশির ভেজা আবহাওয়ায় যখন সূর্যের দক্ষিণায়ন শুরু হয়ে যাওয়ায় রোদের ঝাঁজ কমে আসে, দিন ছোট হয়ে রাতের সময় বেড়ে যায়, সেই মরশুমে পাইকারি হারে এমন নাড়া পোড়ার বন্দোবস্ত হলে, সে ধোঁয়া যাবে কোথায়? বাতাসের গতি তখন স্তিমিত। যেটুকু আসে, উত্তর-পশ্চিমদিক থেকেই আসে। ফলাফল, ধোঁয়াশায় অবরুদ্ধ রাজধানী দিল্লির আকাশ-বাতাসে প্রতিদিন যুক্ত হয় রাজধানীর দিকে ধেয়ে আসা নাড়া-পোড়া ধোঁয়া। ভূগর্ভের জল সংরক্ষিত রাখার জন্য চাষের সময়সূচি বদলে কতটুকু লাভ হয়েছে? এনভায়রনমেন্টাল ম্যানেজমেন্ট পত্রিকায় প্রকাশিত এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে, পঞ্জাবে আইন প্রয়োগের আগে বছরে ০.৯ মিটার ভূগর্ভের জল নেমে যেত। আর চাষের সময়সূচি বদলে দেওয়ার পর বছরে ০.৭ মিটার ভূগর্ভের জল নেমে যাচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে বিরাট সাশ্রয়। পরিবেশ-বিশেষজ্ঞরা গবেষণা করে বলতে পারবেন, বছরে ০.২ মিটার ভূগর্ভের জলের সাশ্রয়ের ফলে পরিবেশের কতটা উপকার হচ্ছে। কিন্তু বায়ুদূষণের জন্য দিল্লি এবং পারিপার্শ্বিক এলাকার আড়াই কোটিরও বেশি মানুষের জীবন যেভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে, তার হিসেব কে কষবে? রাজ্য সরকারগুলি একে অন্যের ওপর দোষ চাপিয়ে দায়মুক্ত হয়। ভারত সরকার বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দেয়, সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলিকে এর প্রতিকার করতে হবে। দিনের শেষে শ্বাসকষ্টে জর্জরিত নাগরিকদের ডাক্তার-হাসপাতালের শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া অন্য কোনও পথ খোলা থাকে না। বিভিন্ন কারণে বাইরে বেরতেই হয়। আর বাইরে বেরলেই শ্বাসকষ্ট বাড়ে। আর ঘরের মধ্যে দমবন্ধ করে বসে থাকলে শুরু হয় মানসিক যন্ত্রণা। এর স্থায়ী প্রতিকার কী করে করা যায়, সে বিষয়ে সকলেই নীরব। অমিতাভ রায় পরিকল্পনা বিশারদ। প্রাক্তন আধিকারিক, প্ল্যানিং কমিশন, ভারত সরকার।

চেনা দিল্লির অচেনা কাহিনি জানার জন্য ক্লিক করুন নীচের লাইনে

লা জবাব দেহলি


```