Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

পাথরের বুকে কীসের সংকেত এঁকে গিয়েছিল এই অজানা সভ্যতা, হারিয়ে যাওয়ার আগে

রূপাঞ্জন গোস্বামী প্যারিস থেকে মাত্র ষাট কিলোমিটার দূরে আছে সুপ্রাচীন অরণ্য 'ফন্টেনব্লিউ ফরেস্ট'। ঘন অরণ্যের বুকে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে আছে একশো ফুটের ওক, স্কটিশ পাইন,ইউরোপিয়ান বিচ। আকাশ ঢেকে দেওয়া গাছগুলির ফাঁকে মাথা তুলেছে জুনিপার ও অ

পাথরের বুকে কীসের সংকেত এঁকে গিয়েছিল এই অজানা সভ্যতা, হারিয়ে যাওয়ার আগে

শেষ আপডেট: 27 August 2020 09:45

রূপাঞ্জন গোস্বামী

প্যারিস থেকে মাত্র ষাট কিলোমিটার দূরে আছে সুপ্রাচীন অরণ্য 'ফন্টেনব্লিউ ফরেস্ট'। ঘন অরণ্যের বুকে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে আছে একশো ফুটের ওক, স্কটিশ পাইন,ইউরোপিয়ান বিচ। আকাশ ঢেকে দেওয়া গাছগুলির ফাঁকে মাথা তুলেছে জুনিপার ও অর্কিডের দল। অরণ্যটি জুড়ে ছড়িয়ে আছে তিনহাজার প্রজাতির মাশরুম ও সাতহাজার প্রজাতির প্রাণী। যাদের মধ্যে পাঁচ হাজারই পতঙ্গ শ্রেণীর। 'ফন্টেনব্লিউ ফরেস্ট' আজ বিখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র। দুর্গম অরণ্য, অরণ্যের ভেতরে থাকা বিশাল বিশাল রহস্যময় বোল্ডার এবং গুহা দেখতে পর্যটকদের ভিড় উপচে পড়ে। [caption id="attachment_253884" align="aligncenter" width="600"] ফন্টেনব্লিউ ফরেস্ট[/caption] অথচ ১৮৩০ সালের আগে এই ফন্টেনব্লিউ অরণ্যটি প্রায় লোকচক্ষুর আড়ালে ছিল। ২৮০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে থাকা ফ্রান্সের অন্যতম বৃহৎ ও সুন্দর অরণ্যটিকে ফ্রান্সের ম্যাপে সাদা রঙ দিয়ে দেখানো হতো। জানা যায়নি অরণ্যটির ইতিহাস। পরবর্তীকালে অরণ্যটির ওপর নজর পড়েছিল ফ্রান্সের রাজপরিবারের। ফন্টেনব্লিউ অরণ্য হয়ে গিয়েছিল রাজপরিবারের মৃগয়াক্ষেত্র। অজানা কারণে একদিন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল শিকার। ফন্টেনব্লিউ অরণ্যটি হয়ে উঠেছিল জেল পালানো দাগী অপরাধীদের আশ্রয়স্থল। কিছুদিন পরে অপরাধীরাও ভয় পেতে শুরু করেছিল অরণ্যটিকে। রাত তো দূরের কথা, দিনের বেলাও কেউ অরণ্যে প্রবেশ করতে চাইতো না। লোকগাথা বলে ফন্টেনব্লিউ অরণ্যটি ভুতুড়ে অরণ্যটিকে নিয়ে স্থানীয় এলাকায় ছড়িয়ে আছে নানান লোকগাথা। যে লোকগাথাগুলি পরবর্তী প্রজন্মকে বলে থাকেন স্থানীয় পরিবারগুলির বয়স্করা। লোকগাথাগুলি থেকে জানা যায়, একসময় অরণ্যের ভেতরে বাস করতো এক রহস্যময় মানবগোষ্ঠী। তাদের নাম 'কালো শিকারী'। দৈত্যাকার মানুষগুলো সারা দিনরাত ঘুরে বেড়াতো অরণ্যের মধ্যে। সঙ্গে থাকতো একদল শিকারী কুকুর। বাইরের মানুষ অরণ্যে প্রবেশ করলেই ভয়ঙ্কর মানুষগুলো কীভাবে যেন টের পেয়ে যেতো। মুহূর্তের মধ্যে তারা দলবেঁধে ঘিরে ফেলতো নিয়মভাঙা মানুষটিকে। তীক্ষ্ণ অস্ত্র দিয়ে অসহায় মানুষটিকে হত্যা করে দেহটি নিয়ে যেত অরণ্যের গভীরে। হতভাগ্য মানুষটির দেহ আর খুঁজেই পাওয়া যেতো না। একটি লোকগাথা থেকে জানা যায়, একবার 'সিলভিয়ে' নামে একটি ছোট্ট মেয়ে খেলা করতে করতে ফন্টেনব্লিউ অরণ্যে ঢুকে পড়েছিল। প্রচুর লোকজন নিয়ে মেয়েটিকে খুঁজতে অরণ্যে ঢুকেছিল মেয়েটির পরিবার। কিন্তু সিলভিয়েকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তিনদিন পরে সিলভিয়েকে জীবিত ও  অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল অরণ্যের অন্যপ্রান্তে। তার হাতে ছিল ঝলসানো বনমুরগী ও পোশাকের মধ্যে ছিল কয়েকটি দামী পাথর। সিলভিয়ের পক্ষে দুর্গম অরণ্য ভেদ করে কোনওমতেই অন্যপ্রান্তে যাওয়া সম্ভব ছিল না। কে বা কারা সিলভিয়েকে নিয়ে গিয়েছিল অরণ্যের অন্যপ্রান্তে, তা সঠিকভাবে বলতে পারেনি সিলভিয়ে। তবে বলেছিল কয়েকজন লম্বা লম্বা নারী পুরুষ তাকে পিঠে চাপিয়ে অরণ্যের ভেতরে নিয়ে গিয়েছিল। রাতে সিলভিয়ে ছিল পাথরের বাড়িতে। কালো শিকারীদের দেওয়া দামী পাথর বিক্রি করে সিলভিয়েরা বড়লোক হয়ে গিয়েছিল। [caption id="attachment_253909" align="aligncenter" width="536"] প্রতীকী ছবি[/caption] অরণ্যের অন্ধকারে আলো ফেলেছিলেন শখের প্রত্নতাত্ত্বিক রবার্ট গনজো  এইসব লোকগাথাগুলি ফন্টেনব্লিউ অরণ্যে মানুষকে ঢুকতে বাধা দিয়ে এসেছে বহুকাল। তাই অরণ্যটির সম্পর্কে সঠিক তথ্য মেলেনি শতাব্দীর পর শতাব্দী। বাইরের মানুষের পা না পড়ায়, অরণ্যের বুকে নির্ভয়ে বেড়েছে গাছ পালা পশুপাখি কীটপতঙ্গ। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে কিছু দুঃসাহসী অভিযাত্রী অরণ্যটির এক প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে যাওয়ার চেষ্টা করে সফল হয়েছিলেন। অরণ্যের গভীরে তাঁরা খুঁজে পেয়েছিলেন কিছু রহস্যময় পাথর। যেগুলির আকৃতি তাঁদের চোখে ঠিক স্বাভাবিক লাগেনি। তবে প্রকৃতির খেয়াল ভেবে ততোটা গুরুত্বও দেননি তাঁরা। [caption id="attachment_253867" align="aligncenter" width="600"] রহস্যময় পাথুরে এলাকাগুলির মধ্যে একটি[/caption] বিংশ শতাব্দীর ষাটের দশকে রবার্ট গনজো নামে এক শখের প্রত্নতাত্ত্বিক রহস্যের সন্ধানে ফন্টেনব্লিউ অরণ্যে প্রবেশ করেছিলেন। অরণ্যের ভেতর টেন্ট পেতে, বেশ কয়েকদিন অরণ্যের আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়িয়েছিলেন। খুঁজে পেয়েছিলেন সেই রহস্যময় বোল্ডারগুলি। আপাতদৃষ্টিতে প্রকৃতির খেয়ালে তৈরি বলে মনে হলেও, খুঁটিয়ে দেখে রবার্ট গনজো বুঝেছিলেন বেলেপাথরের বোল্ডারগুলিকে অনেক পরিশ্রমের মাধ্যমে নির্দিষ্ট আকার দেওয়া হয়েছে। অরণ্যের গভীরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর আবিষ্কার করে চলেছিলেন রবার্ট গনজো। খুঁজে পেয়েছিলেন হাতির মাথা,মানুষের মুখ ও কুমীরের আকৃতির বোল্ডার। এরপর গনজো আবিষ্কার করেছিলেন এমন একটি জিনিস। যা পালটে দিয়েছিল অরণ্যটির ইতিহাস। ফন্টেনব্লিউ অরণ্যকে সমীহের চোখে দেখতে শুরু করেছিলেন বিশ্বের ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতাত্ত্বিকেরা। একটি প্রকাণ্ড বোল্ডারের ওপর রবার্ট গনজো খুঁজে পেয়েছিলেন এক স্মৃতিসৌধ। স্মৃতিসৌধের ভেতরে তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন পাথর কেটে তৈরি করা প্রচুর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাস্কর্য এবং লিপি খোদাই করা চাকতি। [caption id="attachment_253876" align="aligncenter" width="600"] কাদের হাতের ছোঁয়া পেয়েছিল পাথরগুলি![/caption] পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা অরণ্যটি চমকে দিয়েছিল গবেষকদের জানাজানি হওয়ার পর ফন্টেনব্লিউ অরণ্যটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন প্রত্নতাত্ত্বিক, ভূতত্ত্ববিদ ও বিজ্ঞানীরা। কোনও কোনও গবেষক প্রথমে বলেছিলেন বোল্ডারগুলির অদ্ভুত আকৃতির জন্য দায়ী প্রকৃতি। কিন্তু গবেষকেরা কিছুদিনের মধ্যেই অরণ্যটির গভীরে থাকা শ্যাওলা ধরা বিশাল গাছেদের ভিড়ে খুঁজে পেয়েছিলেন, পাথর কেটে বানানো কিছু প্রাণীর অবয়ব। যে প্রাণীগুলি এই অঞ্চলে কোনওদিন দেখতে পাওয়া যায়নি। যেমন হাতি, সিল, কুমীর ইত্যাদি। [caption id="attachment_253872" align="aligncenter" width="600"] একই পাথরে হাতির মাথা ও মানুষের মুখ।[/caption] গবেষকেরা বুঝতে পেরেছিলেন এই অঞ্চলে একদল সৃষ্টিশীল মানুষের বসবাস ছিল। একই সঙ্গে গবেষকদের মনে জেগেছিল নানান প্রশ্ন। যে মানুষেরা এখানে বাস করতো তারা হাতি, সিল ও কুমীরের দেখা পেয়েছিল কীভাবে! স্বচক্ষে না দেখে কোনও প্রাণীর অবয়ব নিঁখুতভাবে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব নয়। তবে কি তারা অন্য কোনও জায়গা থেকে ফ্রান্সে এসেছিল! মানুষগুলি অরণ্যের বহু জায়গায় খোদাই করে গিয়েছে এক অজানা প্রাণীর অবয়ব। যে প্রাণীটির দেহ আয়তক্ষেত্রের মতো। দেহে কোনও ঘাড় নেই, চোখের জায়গায় গভীর গর্ত, নাকটি ইউ আকৃতির। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রাণীটির পা নেই। পায়ের জায়গায় আছে তিনটি আঙ্গুল। [caption id="attachment_253875" align="aligncenter" width="600"] পাথর কেটে কারা বানিয়েছে কুমীর![/caption]  রহস্য বাড়িয়েছিল অরণ্যের দুর্গমস্থানে থাকা কিছু গুহা গবেষকেরা অরণ্যের দুর্গমস্থানে খুঁজে পেয়েছিলেন কিছু গুহা। কিছু গুহামুখ এতই সংকীর্ণ, ভেতরে প্রবেশ করা প্রায় অসম্ভব। লুকিয়ে থাকা এই সব সংকীর্ণ গুহার দেওয়ালে গবেষকেরা খুঁজে পেয়েছিলেন সুপ্রাচীন শিলালিপি। খুঁজে পেয়েছিলেন পাথরের বুকে বেশ গভীরভাবে খোদাই করা অজস্র ছবি ও সাংকেতিক চিনহ। [caption id="attachment_253880" align="aligncenter" width="600"] কী রহস্য লুকিয়ে আছে গুহাগুলির ভেতরে![/caption] এমনকি পাথরের গায়ে থাকা কিছু ফাটলের ভেতরে তারা এমন কিছু সাংকেতিক চিনহ খোদাই করে গিয়েছিল, যেগুলি বাইরে থেকে দেখা যায় না। ফাটলে হাত ঢুকিয়ে অনুভব করতে হয়। ফাটলের গভীরে তারা কীভাবে খোদাইয়ের কাজ করেছিল তা আজও বোঝা সম্ভব হয়নি। যেখানে সাংকেতিক চিনহ লিখে রাখলে কেউ দেখতে পাবে না, সেখানে কেন সাংকেতিক চিনহ খোদাই করা হয়েছিল তা আজও রহস্য হয়ে আছে। তবে কি তারা বহির্জগতের মানুষের হাত থেকে কিছু  লুকিয়ে রেখে যেতে চেয়েছিল!  [caption id="attachment_253877" align="aligncenter" width="600"] বেলেপাথরের বুকে কারা সংকেত খোদাই করে গেছে![/caption] কী বলতে চায় রহস্যময় গুহাগুলিতে থাকা শিলালিপি!  ইতিহাসবিদেরা বলে থাকেন ৩৩০০ খ্রিস্ট-পূর্বাব্দে, সুমেরীয় সভ্যতায় লিপির আবিষ্কার হয়েছিল। কিন্তু বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল ইউরোপে মেলা টার্টারিয়া ফলক ও ভিনুকা প্রতীক। ট্রানসিল্ভেনিয়ায় খুঁজে পাওয়া টার্টারিয়া ফলক পরীক্ষা করে জানা গিয়েছিল, লিপি সম্বলিত ফলকটি ৪০০০ খ্রিস্ট-পূর্বাব্দের কাছাকাছি সময়কার। লিপির আবিষ্কার নিয়ে তাই বিতর্ক শুরু হয়েছিল। এই বিতর্কে আচমকাই জড়িয়ে গিয়েছে ফন্টেনব্লিউ অরণ্য। জেল ডাঙ্কি নামে এক গবেষক জানিয়েছেন ফন্টেনব্লিউ অরণ্যে পাওয়া লিপি সম্বলিত ফলকগুলির বয়েস প্রায় ৩০০০০ বছর। প্রশ্ন উঠেছে তাহলে কি নতুন করে লেখা হবে লিপির ইতিহাস!  তাহলে ফন্টেনব্লিউ সভ্যতার বয়েস কি ৩০০০০ বছর! দাবী ও পালটা দাবী নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। তবে ফন্টেনব্লিউ অরণ্যে পাওয়া সাংকেতিক শিলালিপি ও চিনহ সম্বলিত ফলকগুলি আজ বিশ্বের সব দেশের গবেষকদের কাছে আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। [caption id="attachment_253878" align="aligncenter" width="600"] কী রহস্য লুকিয়ে আছে ফাটলগুলির গভীরে![/caption] বেলেপাথরের গায়ে আঁকা জটিল শিলালিপি ও সংকেতগুলির অর্থ আজও উদ্ধার করা যায়নি। তবে মন বলে, যে সভ্যতার মানুষেরা প্রাণহীন পাথরের বুকে প্রাণীদের অবয়ব ফুটিয়ে তুলতে পারতো, নিজের চিন্তাকে লিপিবদ্ধ করতে পারতো, পাথরের বুকে জ্যামিতিক আকার আঁকতে পারতো, তারা নিছক শখের বসে এতো পরিশ্রম করেনি। শিলালিপি ও সংকেতগুলিকে সযত্নে দুর্গম স্থানে লুকিয়ে রেখে যায়নি। তারা কিছু বলতে চেয়েছিল ভবিষ্যতের পৃথিবীকে। হয়তো তারা জটিল শিলালিপি ও সংকেতগুলির মাধ্যমেই জানিয়ে দিয়ে গিয়েছে তাদের পরিচয়। [caption id="attachment_253879" align="aligncenter" width="476"] এসবের মাধ্যমে কী বলে যেতে চেয়েছে ফন্টেনব্লিউ সভ্যতার মানুষেরা! [/caption] আজও বিশেষজ্ঞদের কাছে জটিল ধাঁধা হয়ে আছে ফন্টেনব্লিউ সভ্যতা জানা যায়নি কারা ছিল ফন্টেনব্লিউ সভ্যতার মানুষ। জানা যায়নি সেই সভ্যতা কেন হারিয়ে গিয়েছিল, কবে হারিয়ে গিয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া মূর্তি ও শিলালিপির সঙ্গে এই সভ্যতার মানুষদের ভাস্কর্য ও শিলালিপির মিল আছে। অনেকে বিশেষজ্ঞ বলছেন ফন্টেনব্লিউ সভ্যতার মানুষেরাই পূর্ব ইউরোপে আসা প্রথম মানবগোষ্ঠী। কেউ বলছেন ফন্টেনব্লিউ অরণ্যে পাওয়া বিভিন্ন প্রাণীর অবয়ব ও মানুষের মাথার মতো দেখতে বোল্ডারটির সঙ্গে প্রাচীন মেক্সিকোর ওলমেক সভ্যতার ভাস্কর্যের মিল আছে। [caption id="attachment_253881" align="alignnone" width="600"] পাথর কেটে তৈরি করা মানুষের মুখ।[/caption] কোনও কোনও বিশেষজ্ঞ ফন্টেনব্লিউ অরণ্যে পাওয়া শিলালিপির সঙ্গে আনাতোলিয়ার হিট্টিটি (Hittite) সভ্যতার লিপির মিল পেয়েছেন। হাট্টুসাকে কেন্দ্র করে ১৬০০ খ্রিস্ট-পূর্বাব্দে  উত্তর-মধ্য আনাতোলিয়ায় গড়ে উঠেছিল এই হিট্টিটি সভ্যতা। কিন্তু কোনও গবেষকই এখনও পর্যন্ত নিঃসন্দেহ হতে পারেননি। সবই তাঁদের অনুমান। তবে একজন প্রথম থেকেই একটি ব্যাপারে নিঃসন্দেহ ছিলেন। তিনি হলেন রবার্ট গনজো। নিঃসন্দেহ হয়েই তিনি পৃথিবীকে জানিয়েছিলেন ফন্টেনব্লিউ অরণ্যে ভুত নয়, বাস করতো রক্তমাংসে গড়া এক সুপ্রাচীন ও উন্নত মানবগোষ্ঠী। ফন্টেনব্লিউ অরণ্যের গভীরে গড়ে উঠেছিল ইতিহাসে না লেখা এক সভ্যতা। কালের গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আগে, যে সভ্যতার মানুষেরা পাথরের গায়ে লিখে গিয়েছিল তাদের ইতিহাস। যে ইতিহাস পড়ার ক্ষমতা হয়তো আমাদের নেই।

```