Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

‘নরকের দ্বার’, একবার ভেতরে ঢুকলে কেউ নাকি বেঁচে ফেরে না

রূপাঞ্জন গোস্বামী তুরস্কের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র পামুক্কালের কাছেই, এক সময়ে ছিল ফ্রিজিয়া সাম্রাজ্যের এক বিখ্যাত শহর হিয়েরাপোলিস। গ্রিক ভাষায় যার অর্থ হল পবিত্র নগরী। ১৮৮৭ সালে এই অঞ্চলে খননকার্য চালাতে গিয়ে জার্মান প্রত্নতত্ত্ববিদ কার্ল হু

‘নরকের দ্বার’, একবার ভেতরে ঢুকলে কেউ নাকি বেঁচে ফেরে না

শেষ আপডেট: 23 April 2020 16:20

রূপাঞ্জন গোস্বামী
তুরস্কের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র পামুক্কালের কাছেই, এক সময়ে ছিল ফ্রিজিয়া সাম্রাজ্যের এক বিখ্যাত শহর হিয়েরাপোলিস। গ্রিক ভাষায় যার অর্থ হল পবিত্র নগরী। ১৮৮৭ সালে এই অঞ্চলে খননকার্য চালাতে গিয়ে জার্মান প্রত্নতত্ত্ববিদ কার্ল হুম্যান এই ঐতিহাসিক শহরটি আবিষ্কার করেছিলেন। এর পর, ১৯৫৭ সালে পাওলো ভারজোনের নেতৃত্বে ইতালীয় বিজ্ঞানীদের একটি দল নতুন করে খনন চালালে মাটির নীচে থেকে বেরিয়ে এসেছিল অত্যন্ত উন্নত এই শহর। শহরটির ধ্বংসাবশেষ দেখে বোঝা যায়, এই অঞ্চলের অধিবাসীরা রীতিমতো আধুনিক ও বিলাসবহুল জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত ছিলেন। হিয়েরাপোলিসকে ঘিরে ছিল অজস্র প্রাকৃতিক উষ্ণ প্রস্রবন। প্রস্রবনগুলির জলের ওষধি গুণ থাকায়, প্রাচীনকালে আরোগ্যনিকেতন হিসেবে সুখ্যাতি ছিল হিয়েরোপোলিসের। খননক্ষেত্রটি থেকে পাওয়া গিয়েছিল যুগের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকা বেশ কিছু ইমারত। যেমন, গরম ও ঠান্ডা জলের সুবিধাযুক্ত স্নানাগার, গ্রন্থাগার, ব্যায়ামাগার, ১২০০০ আসন বিশিষ্ট একটি আ্যম্ফিথিয়েটার ও সমাধিক্ষেত্র। অনুমান করা হয়, আজ থেকে প্রায় ২৬০০ বছর আগে হিয়েরাপোলিস শহরটি স্থাপন করেছিলেন আনাতোলিয়ার অধিবাসীরা নয়ত পারস্যের অধিবাসীরা। পরবর্তীকালে গ্রীক ও তারপর রোমানরা শহরটির দখল নিয়েছিল। [caption id="attachment_212140" align="aligncenter" width="900"] হিয়েরাপোলিস[/caption]
আবিষ্কৃত হয়েছিল প্লুটোনিয়ন
১৯৬৫ সালে এই এলাকাটিতে আবার খননকার্য চালানো হলে আবিষ্কৃত হয়েছিল একটি মন্দির। তার নাম প্লুটোনিয়ন। খ্রীষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকের শুরুতে এই মন্দিরটি তৈরি করা হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়। মাটির নীচে থাকা একটি গুহার ওপর তৈরি করা হয়েছিল এই প্লুটোনিয়ন মন্দির। ফ্রিজিয়াবাসীরা বিশ্বাস করতেন মন্দিরটির নীচে আছে পাতাল রাজ্যে যাওয়ার পথ। সত্যিই মন্দিরের নীচে আছে একটি রহস্যময় সুড়ঙ্গ। একজন মানুষ গলতে পারে এরকম একটি সংকীর্ণ গুহামুখ থেকে ধাপে ধাপে নীচে নেমেছে পাথুরে সিঁড়ি। সিঁড়ি দিয়ে নামা যায় গুহার ভেতরে। গুহার মেঝেতে আছে এক গভীর ফাটল। যার ভেতর আলো ফেললে দেখা যাবে, মেঝের নীচে দিয়ে দ্রুতবেগে বইছে ফুটন্ত জলের স্রোত। হিয়েরাপোলিস থেকে পাওয়া বিভিন্ন পুঁথি থেকে জানা গিয়েছে, মন্দিরের পুরোহিতরা মন্দিরে আগত দর্শনার্থীদের বলতেন, এই ফুটন্ত জলের স্রোতের নীচেই আছে পাতাল। যেখানে বিরাজ করেন গ্রীক ও রোমানদের পাতালের দেবতা প্লুটো। এই গুহাপথ দিয়ে নাকি পৌঁছানো যায় বদরাগী দেবতা প্লুটোর কাছে। তবে সে পথ সাধারণের জন্য নয়। একমাত্র মন্দিরের পুরোহিতরাই পারেন দেবতা প্লুটোর কাছে পৌঁছতে। [caption id="attachment_212143" align="alignnone" width="626"] এই সেই প্লুটোনিয়ন।[/caption]
কেন নরকের দরজা বলা হয়!
প্লুটোনিয়নের কথা পৃথিবী জানতে পেরেছিল, স্ট্রাবো, ক্যাসিয়াস ও দামাসসিয়াসের মত সুপ্রাচীন ইতিহাসবিদদের লেখা থেকে। ইতিহাসবিদ স্ট্রাবো লিখেছিলেন, “কোনও পশু বা পাখি প্লুটোনিয়নের ভেতরে গেলে তার মৃত্যু ঘটবেই। আমি কিছু চড়াই পাখি গুহার ভেতরে ছুঁড়ে দিয়েছিলাম, সঙ্গে সঙ্গে তারা মারা গিয়েছিল।” পরবর্তীকালে প্লুটোনিয়নের গোপন কথা শুনে শিউরে উঠেছিল আধুনিক বিশ্ব। বিশ্ব জেনেছিল, এই রহস্যময় গুহার ভেতরে গিয়ে একমাত্র পুরোহিতরা ছাড়া, আর কেউ জীবিত অবস্থায় কখনও বাইরে বেরিয়ে আসতে পারেননি। বহু মানুষ ও পশুপাখির মৃত্যু ঘটেছিল এই গুহার ভেতর। তাই হিয়েরাপোলিসের জনসাধারণ মন্দিরটিকে বলতেন 'নরকের দ্বার'। গুহাটিকে বলতেন প্লুটোর গুহা। হিয়েরোপোলিসের জনসাধারণ ভাবতেন, পাতাললোকে প্রবেশের চেষ্টা করলে দেবতা প্লুটো ক্রুদ্ধ হন। নিজের হাতে অবিশ্বাসীদের নির্মম মৃত্যু উপহার দেন গুহার ভেতর। দেবতা প্লুটোকে তুষ্ট করার জন্য পুরোহিতেরা পশুপাখিদের পায়ে দড়ি বেঁধে ছুঁড়ে দিতেন গুহার ভিতর। কয়েক মিনিটের মধ্যে ছটফট করতে করতে মারা যেত প্রাণীগুলি। মৃত্যুর পর দড়ি টেনে প্রাণীগুলির নিথর দেহ বাইরে বার করে নিয়ে আসা হত। তারপর সেগুলি পুড়িয়ে তাদের মাংস প্রসাদ হিসাবে দেওয়া হত উৎসর্গকারীর হাতে। এ সব দেখার পর, দূর্দমনীয় রোমানরাও প্লুটোর মন্দিরের ভেতরে ঢুকতে ভয় পেত। [caption id="attachment_212146" align="aligncenter" width="1078"] মন্দিরের তলায় থাকা চৌকো আকৃতির গুহামুখ।[/caption] নির্ভয়ে গুহায় প্রবেশ করতেন একমাত্র ‘গালি’ পুরোহিতেরা মন্দির ও গুহায় প্রবেশের একমাত্র অধিকার ছিল ফ্রিজিয়ার দেবী সাইবেলের উপাসক খোজা পুরোহিতদের। যাঁদের নাম ছিল গালি (Galli)। হিয়েরোপোলিসের মানুষ যাঁদের ভাবতেন দেবতার প্রতিনিধি। প্লুটোনিয়নে ঢোকার ক্ষমতা একমাত্র তাঁরাই রাখতেন। হামাগুড়ি দিয়ে গুহায় ঢুকতেন। কয়েক ঘণ্টা পরে বেরিয়ে আসতেন জীবিত অবস্থায়। মৃত্যুগুহা থেকে পুরোহিতদের বেরিয়ে আসতে দেখে হর্ষধ্বনিতে ফেটে পড়ত বাইরের অপেক্ষমান জনতা। তারা ভাবত এটা পুরোহিতদের দৈব ক্ষমতা। খোজা পুরোহিতরাও প্লুটোনিয়ন থেকে বেরিয়ে এসে উপস্থিত মানুষজনকে বোঝাতেন, তাঁরা অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী। মানুষও বিশ্বাস করত, ফলে সেই সময় ফ্রিজিয়ার সমাজে গালি পুরোহিতরা সর্বোচ্চ ক্ষমতা উপভোগ করতেন।
রহস্যটা কী!
গবেষকরা বলছেন, গুহার ভেতরে ঘটা সমস্ত মৃত্যুর পিছনে কোনও অলৌকিক কারণ নেই। সবটাই ছিল ‘গালি’ পুরোহিতদের বুজরুকি। মানুষ ও পশুপাখির মৃত্যুর কারণ হল মন্দিরের নীচে থাকা গুহা থেকে উঠে আসা কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস। কারণ, বিজ্ঞানীরা গুহার ভেতর গবেষণা চালিয়ে বিশাল পরিমাণ কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাসের ভান্ডার পেয়েছেন। বাতাসে মাত্র ১০% কার্বন ডাই অক্সাইডের উপস্থিতি যেখানে আধঘন্টার মধ্যে একজন মানুষকে চিরতরে ঘুম পাড়িয়ে দিতে পারে, সেখানে মন্দিরের নীচে থাকা গুহার বাতাসে এই গ্যাসের পরিমাণ প্রায় ৯১%। এই কার্বন ডাই অক্সাইড ভূতলের বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় আজও প্রতিনিয়ত তৈরি হয়ে চলেছে। এ ছাড়াও গবেষকরা বলছেন, গুহার নীচে থাকা উষ্ণ প্রস্রবন থেকে বেরিয়ে আসা ধোঁয়ারও মারণ ক্ষমতা আছে। মন্দিরের পাশ দিয়ে উড়ে যাওয়া পাখিরা গুহা থেকে বের হওয়া গরম বাতাসের আকর্ষণে গুহার ভেতরে প্রবেশ করে এবং বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায়।
 পুরোহিতরা ভেতরে গিয়ে বেঁচে ফিরতেন কীভাবে!
গালি পুরোহিতেরা জানতেন মন্দিরের ভেতরে ঘটা মৃত্যুগুলির পিছনে আছে নীচে থেকে উঠে আসা কোনও গ্যাস। তাঁরা বুঝেছিলেন গ্যাসটি ভারী হওয়ায়, গুহার মেঝের কাছাকাছি গ্যাসটির ঘনত্ব বেশী থাকে। তাঁরা জনগণকে দেখিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে চলে যেতেন গুহার ভেতরে। দম বন্ধ করা থাকতেন কয়েক মিনিটের জন্য। গুহার ভিতরে গিয়ে গালি পুরোহিতেরা দাঁড়িয়ে পড়তেন এবং দৌড়ে যেতেন গুহার ভেতর তাঁদের আবিষ্কার করা কিছু কিছু খোপের দিকে। যে খোপগুলিতে অক্সিজেন ঢুকতো কিছু সংকীর্ণ ফাটল দিয়ে। তাঁরা ছাড়া এই খোপগুলির কথা কেউ জানত না। সেই খোপে কিছুক্ষণ কাটিয়ে, গালি পুরোহিতেরা আবার দম চেপে বাইরে আসতেন হামাগুড়ি দিয়ে। ‘গালি’ পুরোহিতদের দেখাদেখি অনেক সাধারণ মানুষ প্লুটোর করুণা পাওয়ার জন্য হামাগুড়ি দিয়ে গুহার ভেতরে এগিয়ে যেতেন। কিন্তু তাঁরা পুরহিতদের বুজরুকিটা জানতেন না। ফলে কয়েক মিনিটের মধ্যে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তেন। এইভাবে সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে ‘গালি’ পুরোহিতেরা প্রচুর সম্পত্তি করতেন। গবেষকদের মতে খ্রিস্টিয় চতুর্থ শতাব্দী পর্যন্ত এই প্লুটোনিয়ন সক্রিয় ছিল। সক্রিয় ছিল গালি পুরোহিতদের বুজরুকিও। ষষ্ঠ শতকে খ্রিস্টানরা এই প্লুটোনিয়ন ভেঙে দিয়েছিল। পরবর্তীকালে ভূমিকম্পের ফলে একেবারে মাটির নীচে চলে গিয়েছিল অভিশপ্ত প্লুটোনিয়ন। তাঁকে নিয়ে গড়ে ওঠা বুজরুকির সমাধিটি, সেদিন হয়তো নিজের হাতেই খুঁড়েছিলেন পাতালের দেবতা প্লুটো।

```