Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

দিগ্বিজয়ী বীর আলেকজান্ডারের প্রাণ কেড়েছিল এক ভয়ঙ্কর জীবাণু!

রূপাঞ্জন গোস্বামী  দ্বিতীয় নেবুচাদনেজারের প্রাসাদ, খ্রিস্টপূর্ব ৩২৩ অব্দ  জন্মভূমি ম্যাসিডোনিয়া থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে ছিল রূপকথার নগর ব্যাবিলন। সেই ব্যাবিলনে, দ্বিতীয় নেবুচাদনেজারের প্রাসাদে মৃত্যুশয্যায় শুয়ে ছিলেন দিগ্বিজয়ী ম্

দিগ্বিজয়ী বীর আলেকজান্ডারের প্রাণ কেড়েছিল এক ভয়ঙ্কর জীবাণু!

শেষ আপডেট: 11 April 2020 17:01

রূপাঞ্জন গোস্বামী
 দ্বিতীয় নেবুচাদনেজারের প্রাসাদ, খ্রিস্টপূর্ব ৩২৩ অব্দ 
জন্মভূমি ম্যাসিডোনিয়া থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে ছিল রূপকথার নগর ব্যাবিলন। সেই ব্যাবিলনে, দ্বিতীয় নেবুচাদনেজারের প্রাসাদে মৃত্যুশয্যায় শুয়ে ছিলেন দিগ্বিজয়ী ম্যাসিডোনিয়ান বীর, তেত্রিশ বছরের আলেকজান্ডার। প্রাসাদের সবচেয়ে খোলামেলা ও বড় ঘরটিতে তাঁকে রাখা হয়েছিল। বাকশক্তি প্রায় হারিয়ে ফেলেছিলেন। বিছানায় মিশে যাওয়া সম্রাটকে শেষ দেখা দেখে যাচ্ছিলেন ব্যাবিলনের মানুষ। শেষ বিদায় জানাতে কাতারে কাতারে আসছিলেন তাঁর প্রিয় সৈন্যরা। যন্ত্রণাক্লিষ্ট মুখে আলেকজান্ডার আধবোজা চোখের ইশারায়, কখনও মাথা নেড়ে সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছিলেন। মাত্র এগারো বছরে একুশ হাজার মাইল পথ অতিক্রম করে, সাম্রাজ্যের সীমানা ম্যাসিডোনিয়া থেকে টেনে নিয়ে গিয়েছিলেন হিন্দুকুশ পর্বতমালা পর্যন্ত। ফেরার পথে অজানা অসুখ দেহে বাসা বেঁধে ছিল। ব্যাবিলনে ফিরে এসে সাম্রাজ্য বিস্তারের খুশিতে কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে রাত জেগে প্রচুর সুরা পান করেছিলেন আলেকজান্ডার। রোগের মাত্রা বেড়ে গিয়েছিল। অল্প সময়ের জন্য জ্বর কমলেও, পরে তা ভীষণ আকার ধারণ করেছিল। নড়াচড়া করার শক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন বুসেফেলাসের পিঠে বসে উদ্দামবেগে ছুটে চলা 'আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট'। [caption id="attachment_207720" align="aligncenter" width="800"] মৃত্যুশয্যায় আলেকজান্ডার।[/caption] মৃত্যুশয্যায় শুয়ে আলেকজান্ডার ক্ষীনকন্ঠে সেনাপতিদের ডেকেছিলেন। সেনাপতিরা এসে তাঁর শয্যার পাশে হাঁটু মুড়ে বসেছিলেন। জড়িয়ে যাওয়া গলায় আলেকজান্ডার সেনাপতিদের বলেছিলেন তাঁর তিনটি শেষ ইচ্ছার কথা। সেনাপতিরা যেন আলেকজান্ডারের মৃত্যুর পর তাঁর তিনটি শেষ ইচ্ছা অবশ্যই পূরণ করেন। প্রথম ইচ্ছা, "আমার চিকিৎসকরা আমার কফিন বহন করবেন। যাতে মানুষ বোঝেন চিকিৎসকরা মৃত্যুর হাত থেকে কাউকে রক্ষা করতে অক্ষম।" দ্বিতীয় ইচ্ছা, “যে পথ দিয়ে আমার কফিন সমাধিস্থলে নিয়ে যাওয়া হবে, সেই পথে আমার কোষাগারে থাকা সমস্ত সোনা, রুপা ও মূল্যবান পাথর ছড়িয়ে দিতে হবে। কারণ মানুষ জানুক আমার সম্পদের একটা কণাও আমার সঙ্গে যাবে না। অথচ এগুলির জন্য আমি সারা জীবন সময় দিয়েছি। ধন-সম্পদের পিছনে ছোটা সময়ের অপচয় ছিল মাত্র।” তৃতীয় ইচ্ছা, “কফিন বহনের সময় আমার দুই হাত কফিনের বাইরে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। মানুষ জানুক আমি এই পৃথিবীতে খালি হাতে এসেছিলাম, খালি হাতেই চলে যাচ্ছি।” [caption id="attachment_207722" align="aligncenter" width="1024"] দ্বিতীয় নেবুচাদনেজারের প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ, এখানেই প্রয়াত হয়েছিলেন গ্রিক বীর।[/caption]
১১ জুন, খ্রিস্টপূর্ব ৩২৩ অব্দ
ভোরে আলেকজান্ডারের শ্বাসকষ্ট হঠাৎই বেড়ে গিয়েছিল। শয্যার পাশে সারারাত জেগে ছিলেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা বুঝতে পারছিলেন মানব ইতিহাসের মহাকাশে ঝকমক করতে থাকা নক্ষত্রটি জীবনের আকাশ থেকে আর কিছুক্ষণ পরে খসে পড়তে চলেছে। সেনাপতিরা আলেকজান্ডারকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তাঁর সিলমোহর বসানো আংটিটি, তাঁর মৃত্যুর পর কে পরবেন। আলেকজান্ডার ফিসফিস করে বলেছিলেন, “যে সবচেয়ে শক্তিশালী"। মৃত্যুমূহূর্তেও আলেকজান্ডার বুঝিয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন, তাঁর মতো অতিমানবীয় উচ্চতায় ওঠার ক্ষমতা যাঁর আছে, তিনিই পাবেন আলেকজান্ডারের উত্তরাধিকার। তাই কারও নাম বলে যাননি। বিষণ্ণ বিকেলের রোদ এসে পড়েছিল পরাক্রমশালী গ্রীক বীরের দুধসাদা বিছানায়। সূর্য্যের আলোর মতোই ফুরিয়ে আসছিলেন আলেকজান্ডার। কথা বলার শক্তি সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে গেছিল। চোখের পাতাদুটো পরস্পরকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করছিল। বুকের ওঠা নামা প্রায় বোঝাই যাচ্ছিল না। শয্যার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর তিন স্ত্রী, রোজানা, স্টাটেইরা ও পারিসাটিস। উপস্থিত ছিলেন আলেকজান্ডারের প্রিয় সেনাপতি সেলুকাস। আগের রাত সেবাপিসের মন্দিরে কাটিয়েছিলেন সেলুকাস। সঙ্গে ছিলেন মেনডিয়াস ,অ্যাটলাস, পিথন, ডেমোফোন, পিউসেন্টাস ও ক্লিওমেনসেস। সবাই মিলে প্রার্থনা করেছিলেন সম্রাটের জন্য। কিন্তু ঈশ্বর তাঁদের প্রার্থনা শোনেননি। চিকিৎসকেরা আলেকজান্ডারের বুকের দিকে তাকিয়ে বসে ছিলেন। মিনিটের পর মিনিট কেটে যাচ্ছিল। একসময় চিকিৎসকেরা উঠে দাঁড়িয়েছিলেন। আলেকজান্ডারের পায়ের কাছে রেখে দিয়েছিলেন একগুচ্ছ টিউলিপ ফুল। মৃত্যুশয্যায় এগারো দিন কাটিয়ে, ব্যাবিলন ছেড়ে অদেখা এক সাম্রাজ্যের পথে পাড়ি দিয়েছিলেন 'আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট'। যিশু খ্রিস্টের জন্মের ৩২৩ বছর আগে। [caption id="attachment_207723" align="aligncenter" width="768"] ইস্তানবুলের মিউজিয়ামে রাখা আছে আলেকজান্ডারের শবাধার।[/caption]
ইতিহাস আজও বিভ্রান্ত মৃত্যুর কারণ নিয়ে
অ্যারিস্টটলের প্রিয় শিষ্য আলেকজান্ডারের মৃত্যুর কারণ আজও রহস্যাবৃত। মৃত্যুর কারণ নিয়ে তাঁর সময় থেকে শুরু করে বর্তমান যুগের ইতিহাসবিদ ও গবেষকরা একমত হতে পারেননি। কেউ বলেছিলেন আলেকজান্ডারের মৃত্যুর পেছনে লুকিয়ে ছিল গভীর ষড়যন্ত্র। আলেকজান্ডারকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছিল। আলেকজান্ডারের বিখ্যাত সেনাপতি, অ্যান্টিপাটেরকে হত্যাকারী হিসেবে সন্দেহ করা হয়েছিল। এশিয়া জয়ের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার আগে আলেকজান্ডার এই অ্যান্টিপাটেরের হাতে ম্যাসিডোনিয়ার দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছিলেন। দিগ্বিজয়ী আলেকজান্ডার ব্যাবিলনে ফিরে আসার পর ম্যাসিডোনিয়ার দায়িত্ব আবার নিয়মমাফিক চলে গিয়েছিল আলেকজান্ডারের হাতেই। রাজত্ব ভোগ করার এত বছরের অভ্যাস হারিয়ে অ্যান্টিপাটের হতাশ হয়ে গিয়েছিলেন। মরিয়া হয়ে অ্যান্টিপাটের পথের কাঁটা আলেকজান্ডারকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং সফল হয়েছিলেন। আলেকজান্ডারের মৃত্যুর পর ম্যাসিডোনিয়ার দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নিয়েছিলেন অ্যান্টিপাটের।
কী বলছে আধুনিক বিজ্ঞান!
আলেকজান্ডারের মৃত্যুর কারণ হিসেবে উঠে এসেছিল বিভিন্ন রোগের নাম, যেমন ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড, স্পন্ডিলাইটিস, মেনিনজাইটিস,প্যাংক্রিয়াটাইটিস থেকে খাদ্যনালীর আলসারও। কেউ বলেছিলেন পশ্চিম নীলনদ অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা এক ভয়ংকর ভাইরাসের আক্রমণে মারা গিয়েছিলেন এই গ্রিক বীর। আলেকজান্ডারের মৃত্যুর কারণ নিয়ে গবেষণা করছিলেন নিউজিল্যান্ডের ওটাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনাল পয়জনস সেন্টারের গবেষক লিও শেপ। প্রায় দীর্ঘ দশ বছর ধরে গবেষণার পর লিও শেপ তাঁর সিদ্ধান্ত জনসমক্ষে এনেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, দিগ্বিজয়ী বীর আলেকজান্ডারের মৃত্যুর পিছনে ছিল একটি লতানে উদ্ভিদ, হোয়াইট হেলিবোর (ভেরাট্রাম অ্যালবাম)। প্রাচীন গ্রিসে আয়ুর্বেদিক ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হত হোয়াইট হেলিবোর নামের এই বিষাক্ত লতাটি। গবেষক লিও শেপের মতে, সেই লতাকে পচিয়ে তৈরি করা হয়েছিল তীব্র বিষ। কটু স্বাদের ওই তীব্র বিষ, আলেকজান্ডারের মিষ্টি সুরার পাত্রে মিশিয়ে দিয়েছিলেন আলেকজান্ডারের ঘনিষ্ট মানুষদের মধ্যে কেউ। বিষ মেশানো সুরা পান করে মারা গিয়েছিলেন আলেকজান্ডার। [caption id="attachment_207724" align="aligncenter" width="600"] এই হোয়াইট হেলিবোর লতার বিষ নাকি মেশানো হয়েছিল আলেকজান্ডারের সুরায়।[/caption] সাম্প্রতিককালে সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য তত্বটি সামনে এনেছেন, নিউজিল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অফ ওটাগোর সিনিয়র লেকচারার ডঃ ক্যাথেরিন হল। যিনি মৃত্যুশয্যায় থাকা রোগীদের নিয়ে বহুদিন ধরে গবেষণা করে আসছেন। ইতিহাস বলছে মৃত্যুর ছয় দিন পরেও আলেকজান্ডারের শরীরে পচন ধরেনি। এই তথ্যটি নিয়েই গবেষণা শুরু করেছিলেন ডঃ ক্যাথেরিন হল। কিছুদিন আগে 'দ্য অ্যানসেন্ট হিস্ট্রি' পত্রিকায় তাঁর গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছিল। গবেষণাপত্রে এক চাঞ্চল্যকর দাবী করেছিলেন ডঃ হল। ডঃ ক্যাথেরিন হল তাঁর গবেষণায় দেখেছিলেন, মৃত্যুর আগে  আলেকজান্ডার প্রচন্ড জ্বর ও তলপেটের অসহ্য যন্ত্রণায় ভুগেছিলেন। ডঃ হল দীর্ঘদিন গবেষণার পর সিদ্ধান্তে এসেছিলেন, সাম্রাজ্য বিস্তার সেরে ব্যাবিলন ফেরার পথে আলেকজান্ডারের শরীরে কোনওভাবে 'ক্যাম্পিলোব্যাকটর পাইলোরি' নামের একটি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটেছিল। যার জন্য আলেকজান্ডার গিলান বারে সিনড্রোম (GBS) নামে একটি অসুখের শিকার হয়েছিলেন। এটি একটি বিরল ও মারাত্মক স্নায়বিক অসুখ। যে অসুখ আলেকজান্ডারের স্নায়ুতন্ত্রের সুস্থ কোষগুলিকে আক্রমণ করেছিল। এই অসুখেই মৃত্যু হয়েছিল আলেকজান্ডারের। [caption id="attachment_207726" align="aligncenter" width="630"] আলেকজান্ডারের মৃত্যুর কারণ নিয়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন ডঃ ক্যাথেরিন হল।[/caption]
 মৃত্যুর ছ'দিন পরেও আলেকজান্ডারের দেহে পচন ধরেনি কেন!
এই প্রশ্নের উত্তরে ডঃ ক্যাথেরিন হল জানিয়েছিলেন সেই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি। যেটা শুনে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল বিশ্বের তামাম ইতিহাসবিদদের মধ্যে। ডঃ হল জানিয়েছিলেন, মৃত্যুর ছ'দিন পরেও আলেকজান্ডারের দেহে পচন ধরেনি কারন আলেকজান্ডার তখনও তিনি বেঁচে ছিলেন। তাঁর সমস্ত শরীরে পক্ষাঘাত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত তিনি সজ্ঞানে (compos mentis) ছিলেন। আলেকজান্ডারের সারা শরীরে যখন পক্ষাঘাত ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছিল, শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কাজও ক্রমশ কমতে শুরু করেছিল। ফলে কমতে শুরু করেছিল শরীরে অক্সিজেনের প্রয়োজনও। তাই শ্বাসপ্রশ্বাস চলছিল অস্বাভাবিক ধীর লয়ে। বুকের ওঠা নামা প্রায় বোঝা যাচ্ছিল না। প্রাচীনকালের চিকিৎসকেরা, রোগী জীবিত না মৃত, তা বুঝতেন রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস দেখে। রোগীর নাড়ি দেখা তখনও শুরু হয়নি। ফলে মৃত্যুর আগেই আলেকজান্ডারকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। উপস্থিত সকলে তাঁকে মৃত মনে করলেও আলেকজান্ডার কিন্তু তখনও মারা যাননি। তাঁকে মৃত ঘোষণা করার ছ’দিন পরে আলেকজান্ডারের মৃত্যু হয়েছিল। এই ছ'দিন আলেকজান্ডার জীবিত থাকায় তাঁর শরীরে পচন ধরেনি। গ্রীকদের কাছে আলেকজান্ডার কোনও সাধারণ মানুষ ছিলেন না, তাঁকে ঈশ্বরের প্রতিনিধি ভাবতেন তাঁরা। ব্যাবিলনের মানুষরা ভেবেছিলেন ঐশ্বরিক ক্ষমতার অধিকারী আলেকজান্ডার দৈব ক্ষমতাবলে সমাধির আগে নিজের মরদেহের পচন হতে দেননি।

```