শেষ আপডেট: 21 April 2020 16:08
রাতের অন্ধকারে উজ্বল গ্রুম লেক ও পাপুস লেকের মাঝে এরিয়া-৫১।[/caption]
কিন্তু সত্যিই কি 'এরিয়া-৫১' একটি বিমানঘাঁটি!
'এরিয়া-৫১' এলাকাটি ঘিরে মার্কিন সেনার অস্বাভাবিক মাত্রার সুরক্ষা ব্যবস্থা পৃথিবী জুড়ে সন্দেহ ও কল্পনার জন্ম দিচ্ছে। আমেরিকার ভূখণ্ডে থাকা সবচেয়ে সুরক্ষিত কিছু জায়গা যেমন, পেন্টাগন, হোয়াইট হাউস, নাসার সদর দপ্তর ও বিভিন্ন লঞ্চ প্যাডেও অনুমতি নিয়ে সাধারণ মানুষ ঢুকতে পারেন। কিন্তু এরিয়া-৫১ এর ত্রিসীমানায় মিডিয়া ও জনসাধারণের প্রবেশাধিকার নেই।
'এরিয়া-৫১'-এর চারপাশে কোন প্রাচীর বা বেড়া দেওয়া নেই। প্রাচীর নেই বলে কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলেই বিপদ। বিশাল প্রান্তরের ভূপ্রকৃতির সঙ্গে গিরগিটির মতো মিশে আছেন হাজার হাজার সেনা বা ক্যামো ডুড, হাতে তাঁদের এম-সিক্সটিন। খালি চোখে যাঁদের খুঁজে পাওয়া দুস্কর। বারণ সত্ত্বেও কেউ 'এরিয়া-৫১' এর কাছে আসার চেষ্টা করলে সরাসরি গুলি করে মেরে ফেলার অনুমতি দেওয়া আছে তাঁদের। তাই অতি উৎসাহীদের সাবধান করার জন্য, এরিয়া-৫১ এর চারধারে লাগানো আছে নোটিশ। সেখানে লেখা আছে 'Use of deadly force Authorized'। যার মর্মার্থ হচ্ছে, বারণ সত্ত্বেও এরিয়া-৫১ এর ভেতরে ঢুকতে গেলে প্রাণঘাতী আঘাত হানার অনুমতি দেওয়া আছে সরকারের তরফ থেকে।
[caption id="attachment_211211" align="alignnone" width="992"]
এরিয়া-৫১ ঘাঁটির প্রবেশপথ।[/caption]
সেনারা ছাড়াও সবার অলক্ষ্যে কাজ করে চলেছে হাজার হাজার মোবাইল সিসি ক্যামেরা, মোশন ডিটেকটর, লেসার ডিটেকটর, সাউন্ড ডিটেকটর, গন্ধ শোঁকার করার ক্ষমতা যুক্ত ড্রোন। কাজ করে চলেছে আরও কতশত অত্যাধুনিক গ্যাজেট। 'এরিয়া-৫১' নামের স্থানটির ওপর দিয়ে কোনও বিমানের যাওয়ার অনুমতি নেই। 'এরিয়া-৫১' স্থানটির আকাশের ওপর কড়া নজরদারি চালানোর জন্য, ১৫৫ মাইল উত্তরে, ৯৪০০ ফুট উঁচু 'বেলডে'পাহাড়ের চূড়ায় বসানো আছে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী 'এয়ার রুট সার্ভেল্যান্স' রাডার । গ্রুম লেকের উওর দিকে থাকা আর একটি পাহাড়ের চূড়ায়, আরও একটি স্বয়ংক্রিয় রাডার বসানো আছে, মাটি থেকে প্রায় ৪৩০০ ফুট উপরে।
সদা সতর্ক ক্যামো ডুড (১০ কিলোমিটার দূর থেকে তোলা ছবি )।[/caption]
.● এখানে ভিনগ্রহের প্রাণীরা থাকে ও আসা যাওয়া করে। 'এরিয়া-৫১' এর পাশের হাইওয়ের নাম 'দ্য এক্সট্রাটেরেস্ট্রিয়াল হাইওয়ে'। এই রাস্তা থেকে মাঝে মাঝেই নাকি অদ্ভুত আকাশযান দেখতে পাওয়া যায় 'এরিয়া-৫১' এর আকাশে। পৃথিবীর কোন বিমানের সাথে সেগুলির কোনও মিল নেই।রা বলেন, ভিনগ্রহের বাসিন্দারা পৃথিবীতে নিয়মিত আসা যাওয়া করে। তাদের আস্তানা ও আকাশযান নামানোর একমাত্র জায়গা হল এই এরিয়া-৫১।
ষড়যন্ত্র-তত্ত্বে’ বিশ্বাসীদের পালে হাওয়া দিয়েছিলেন বব লেজার নামে এক পদার্থ বিজ্ঞানী। যিনি 'এরিয়া-৫১' ঘাঁটিতে একসময় কাজ করেছিলেন। তিনি সেখানে এমন কিছু বিমান বা আকাশযান দেখতে পেয়েছিলেন, যেগুলিকে কোনোভাবেই পৃথিবীতে তৈরি করা সম্ভব নয়।
এক টিভি সাক্ষাৎকারে বিজ্ঞানী বব লেজার বলেছিলেন, 'এরিয়া-৫১' ঘাঁটির ভেতরে ভিনগ্রহবাসীদের ধ্বংস হয়ে যাওয়া অনেক আকাশযান রাখা আছে। বিজ্ঞানী লেজার বলেছিলেন, এই রহস্যময় ঘাঁটিতে খুব গোপনে সংরক্ষিত আছে এক ভিনগ্রহবাসীর মৃতদেহ। শব ব্যবচ্ছেদ করে আমেরিকা জানতে পেরেছে, প্রাণীটি এসেছে 'রেটিকুলাম-৪' নামের এক গ্রহ থেকে। প্রাণীটি উচ্চতায় সাড়ে তিন ফুট, রোমহীন শীর্ণ শরীর, কালো বড় বড় চোখ। সেই সাক্ষাৎকারেই লেজার বলেছিলেন, আমেরিকা রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাহায্য নিয়ে 'এরিয়া-৫১' ঘাঁটিতে এলিয়েনদের মত মহাকাশযান বানিয়ে রাখছে।
[caption id="attachment_211218" align="alignnone" width="770"]
চারিদিকে ঝোলানো আছে সতর্কবাণী।[/caption]
.● বিজ্ঞানী বব লেজারই বলেছিলেন, 'এরিয়া-৫১' ঘাঁটিতে এমন কিছু মৌলিক পদার্থ নিয়ে গবেষণা করা হয় যা আবিষ্কারের কথা আমেরিকা বিশ্বকে জানায়নি। তাঁর মতে সুপারনোভা বা বাইনারি স্টার সিস্টেম থেকে আমেরিকা সম্ভবত এমন একটি মৌলিক পদার্থ সংগ্রহ করতে পেরেছে, যে পদার্থটির মাত্র এক কেজি দিয়ে ১০ মেগাটনের ৪৭টি হাইড্রোজেন বোমা বানানো যাবে।
.● 'ষড়যন্ত্র-তত্ত্বে’ বিশ্বাসী কেউ বলেছেন, 'এরিয়া-৫১' ঘাঁটিতে 'এক বিশ্ব এক প্রেসিডেন্ট' নামে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ষড়যন্ত্রটির রুপরেখা তৈরি করছে করছে আমেরিকা। এমন এক দিন আসবে সেদিন গোটা পৃথিবীটা একটা মাত্র দেশে পরিণত হবে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হবেন সারা পৃথিবীর প্রেসিডেন্ট।
.● কেউ বলেছেন, 'এরিয়া-৫১' এর নীচে ৪০ তলা বাঙ্কার বানিয়েছে আমেরিকা, তা ছাড়াও 'এরিয়া-৫১' থেকে বিভিন্ন মহাদেশে চলে গেছে সুড়ঙ্গ। যার ভেতরে পাতা হচ্ছে রেল লাইন।
● 'ষড়যন্ত্র-তত্ত্বে’ বিশ্বাসীরা বলছেন কল্পবিজ্ঞানকে বাস্তব করে ফেলেছে আমেরিকা। কল্পবিজ্ঞান নিয়ে তৈরি সিনেমার পর্দায় আমরা দেখেছি কিছু চরিত্রকে মুহূর্তের মধ্যে একজায়গা থেকে অন্য জায়গায় গুপী-বাঘার মতো চলে যেতে। এই পদ্ধতিকে বলা হয় 'টেলিপোর্টেশন'। বিষয়টি নিয়ে আমেরিকার গবেষণা চুড়ান্ত জায়গায় পৌঁছে গেছে এবং সেই গবেষণা হচ্ছে 'এরিয়া-৫১' এর ভেতর। রাশিয়া আর চিনের হাতে পদ্ধতিটির চলে যাওয়া আটকাতেই এত গোপনীয়তা।
● কেউ বলছেন, এই পৃথিবীর সর্বশক্তিমান সিক্রেট সোসাইটি 'ইলুমিনাতি'র সদস্যরা 'এরিয়া-৫১' থেকে পৃথিবীর সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করেন।
[caption id="attachment_211220" align="aligncenter" width="475"]
স্যাটেলাইটের তোলা ছবিতে এরিয়া-৫১।[/caption]
বিল কেসিং।[/caption]
বিল কেসিং লিখেছিলেন, ১৯৬৯ সালের ১৬ জুলাই 'কেপ কেনেডি' লঞ্চ প্যাড থেকে চাঁদের পথে রওনা হয়েছিল নাসার অ্যাপেলো-১১ মহাকাশযান। উপস্থিত মানুষজনের দৃষ্টিসীমার বাইরে অ্যাপোলো-১১ চলে যাওয়ার পর। একটি মিলিটারি এয়ারক্রাফটে করে অতি গোপনে নিল আর্মস্ট্রংদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো 'এরিয়া-৫১' এলাকাটিতে। সেখানে আগে থেকেই প্রস্তুত করা ছিল চাঁদের মাটি ও পরিবেশ। কারণ 'অ্যাপোলো-১১' মিশনের আগে, চন্দ্রাভিযান সম্বন্ধীয় যন্ত্রপাতি, যেমন মুনরোভার ও বিভিন্ন জীবনদায়ী যন্ত্রপাতির পরীক্ষানিরীক্ষা 'এরিয়া-৫১' এলাকাটিতেই হয়েছিল।
কয়েকদিন ধরে 'এরিয়া-৫১' এলাকাটিতে ‘চাঁদের বুকে মানুষের পা’ ভিডিওটির শ্যুটিং করা হয়েছিল। ক্যামেরার সামনে নিখুঁত অভিনয় করেছিলেন নীল আর্মস্ট্রং এবং বাজ অলড্রিন। বিশ্বের মানুষকে নাসা জানিয়েছিল, ২০ জুলাই চাঁদের মাটিতে পা রেখেছে নিল আর্মস্ট্রং ও বাজ অলড্রিন। প্রমাণ হিসেবে বিশ্বজুড়ে নাসা সম্প্রচার করেছিল 'এরিয়া-৫১' ঘাটিতে তোলা সেই ভিডিওটি। ‘ষড়যন্ত্র-তত্ত্বে’ বিশ্বাসীদের সবকটি তত্ত্ব মিথ্যে বলে প্রমাণ করতে চেয়েছে আমেরিকা। নাসা বিশ্বকে দেখিয়েছে, তাদের অ্যাপোলো মিশনের ৬ টি মহাকাশযান, চাঁদ থেকে প্রায় ৩৮২ কেজি ওজনের পাথর পৃথিবীতে নিয়ে এসেছিল। অর্থাৎ চাঁদে সত্যিই নেমেছিল নাসার মহাকাশযান।
তবু প্রশ্ন রয়ে গেল একটাই। এমন কী আছে 'এরিয়া-৫১' ঘাঁটির ভেতর, যার জন্য বারণ না শোনা মানুষকে বিনা বিচারে সরাসরি ও সঙ্গে সঙ্গে মেরে ফেলার অনুমতি দিয়েছে আমেরিকা?