দ্য ওয়াল ব্যুরো: মা ষষ্ঠী বরাবরই ভারতের ওপর দরাজ, তা দেশের জনসংখ্যায় সুস্পষ্ট। কিন্তু কুবেরের হাত কিছুতেই উপুড় হচ্ছে না। ফলে চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরতে হচ্ছে নবীণ প্রজন্মকে। সরকারি এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ এখন ম্রিয়মাণ টেলিফোন বুথের মতো হারিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছে। বাধ্য হয়ে নবীণ প্রজন্ম চাকরির জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছে ইন্টারনেটে। চাকরির প্রচুর খবর ও বিজ্ঞাপন থাকে বিভিন্ন ওয়েবসাইট এমনকি ফেসবুক গ্রুপ ও পেজেও। লোভনীয় চাকরির বিজ্ঞাপন আসতে থাকে আপনার ইমেলেও। এর মধ্যে কিছু বিজ্ঞাপন আসল, বাদবাকি সবই প্রতারণার ফাঁদ। কোনটা আসল বিজ্ঞাপন, কোনটা নকল বোঝা মুশকিল। ভুয়ো বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব খুইয়েছেন এমন পরিবারের সংখ্যা কম নয়। বরং, দিনের পর দিন চাকরির নামে প্রতারণা ভাইরাল হয়ে উঠেছে।
এই প্রতারণা থেকে নবীণ প্রজন্মকে বাঁচাতে সাইবার প্রযুক্তিবিদরা কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। চাকরিপ্রার্থীরা অবশ্যই এই পরামর্শ গুলি মেনে চললে ভুয়ো নিয়োগকর্তাদের পাতা ফাঁদে পড়বেন না এটা নিশ্চিত।
বিজ্ঞাপনে বিস্তারিত তথ্য থাকবেনা
চাকরির ভুয়ো বিজ্ঞাপনে সাধারণত চাকরি সম্পর্কিত তথ্য বিস্তারিত ভাবে থাকবে না। পদের নাম,স্কেল, কর্মী হিসেবে আপনার করণীয়,অন্য়ান্য সু্যোগ সুবিধা, প্রাপ্য ছুটি সম্পর্কিত তথ্য কিছুই থাকবে না। বিজ্ঞাপন বা ই-মেল পড়ে চাকরি সম্বন্ধে আদৌ পরিষ্কার ধারণা পাবেন না ।
মেলে, ফোনে, ইনবক্সে টাকা চাওয়া হবে
চাকরি পাওয়ার অন্যতম শর্ত হিসেবে আপনার কাছ থেকে কোনো কারণ দেখিয়ে বা কোনও কারণ ছাড়াই টাকা চাওয়া হবে।টাকা দিতে হবে নেট ব্যাঙ্কিং মারফৎ। টাকা চাইলেই চাকরির প্রস্তাবটি ভুয়ো বলে জানবেন। অনেক কোম্পানি
caution money হিসেবে টাকার কথা বললেও ফাঁদে পা দেবেন না।
ভুয়ো চাকরির মেল সাধারণত স্প্যাম ফোল্ডারে যাবে
ভুয়ো চাকরির প্রস্তাবের মেল আপনার ইমেল অ্যাকাউন্টের ‘স্প্যাম ফোল্ডারে’ জমা পড়বে। এই মেল একসঙ্গে হাজার হাজার মানুষের কাছে পাঠানো হয় বলে এগুলো হলো সিস্টেম সরাসরি স্প্যাম বক্সে পাঠিয়ে দেয়। অনেক ভুয়ো কোম্পানি আবার ক্লায়েন্ট বুঝে একটা দুটো করে পাঠায়। সেখানে এই মেল গুলো স্প্যাম ফোল্ডারে ঢোকেনা। তখন সেগুলিকে বাকি ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে নিতে হবে।
কোম্পানির প্রোফাইল বিষয়ে ধোঁয়াশা থাকবে
কোম্পানির প্রোফাইল নেটে তন্ন তন্ন করে খুঁজলেও পাবেন না। চাকরির প্রস্তাবের মেল যেসব ঠিকানা থেকে আসে সে সব মেল অ্যাড্রেসগুলিও সন্দেহজনক। আদৌ কোনও কোম্পানি পাঠাচ্ছে, না কোনও লোক পাঠাচ্ছে সেটাই বুঝতে পারবেন না। কোনও প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি
gmail.com,
yahoo.com,
hotmail.com থেকে আপনাকে চাকরির প্রস্তাব পাঠাবে না। তারা তাদের নিজস্ব ডোমেইন থেকে আপনাকে মেল পাঠাবে।
বিজ্ঞাপনে কোম্পানির ঠিকানা, বিজ্ঞাপনের ভাষা সন্দেহজনক হবে
চাকরির প্রস্তাবের মেলটির শেষে সংস্থার যে ঠিকানা দেওয়া থাকে, তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রস্তাবটির মতোই ভুয়ো। তাই, ওই ঠিকানা বিভিন্ন ভাবে যাচাই করে নেবেন। ওই ঠিকানায় পৌঁছে দেখবেন সংস্থার অস্তিত্বই নেই। এ ছাড়া ভুয়ো সংস্থাগুলির ই-মেলের বয়ানে প্রচুর ভাষাগত ভুল চোখে পড়বে। মূলত বানান সংক্রান্ত ও ব্যাকরণগত ভুল।
ভুয়ো কোম্পানি ব্যক্তিগত তথ্য চাইবে
ভুয়ো কোম্পানি আপনার কাছ থেকে অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্যে চাইবে। যেমন আপনার বাবার নাম, আপনার জন্ম তারিখ, আধার কার্ড নম্বর, ক্রেডিট কার্ডের নম্বর,ব্যাঙ্কের নাম, অ্যাকাউন্ট নাম্বার। প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি আপনাকে প্রস্তাব দেওয়ার সময় এসব চাইবে না। তারা আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা, চাকরির পূর্ব অভিজ্ঞতা ও আগের চাকরির বেতন সংক্রান্ত তথ্য চাইতে পারে।
সূত্র :-
www.timesjobs.com