
শেষ আপডেট: 13 December 2020 04:23
রুবি ব্রিজেস[/caption]
১৯৫৮ সালে বাবা ও মা রুবিকে নিয়ে ভাগ্যান্বেষণে চলে গিয়েছিলেন লুইজিয়ানা স্টেটের নিউ অরলিন্সে। রুবির তখন বয়স চার বছর। সেখানে একটি গ্যাসোলিন পাম্পে কাজ পেয়েছিলেন বাবা। কিন্তু মাইনে খুবই কম হওয়ায় মা লুসিলকে কফি শপে কাজ নিতে হয়েছিল। সেই সময় নিউ অরলিন্সের ওপর দিয়ে বর্ণবিদ্বেষের এক ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় বয়ে চলেছিল। একই পরিশ্রম করে রুবির বাবা-মা যা উপার্জন করতেন, তার থেকে অনেক কম পরিশ্রম করে অনেক বেশি উপার্জন করতেন শ্বেতাঙ্গ শ্রমিকরা। ফলে রুবিদের সংসারে ছিল নিত্য অভাব।
লুসির বয়স যখন ছ'বছর। তাকে বাবা, মা ভর্তি করেছিলেন কৃষ্ণাঙ্গদের কিন্ডারগার্টেনে। নিউ অরলিন্সে তখন শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গ ছেলে মেয়েদের জন্যে ছিল পৃথক পৃথক স্কুল। সরকারি গাফিলতিতে কৃষ্ণাঙ্গদের স্কুলের পঠনপাঠন প্রায় শিকেয় উঠেছিল। অন্যদিকে শ্বেতাঙ্গদের স্কুলগুলিতে উপচে পড়ছিল সরকারি সাহায্য। রুবি যে বছর জন্মেছিল, সেই ১৯৫৪ সালে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট দিয়েছিল এক ঐতিহাসিক রায়। শ্বেতাঙ্গদের স্কুলেও কৃষ্ণাঙ্গ ছাত্রছাত্রীরা পড়তে পারবে। এই রায় নিয়ে সারা আমেরিকায় শুরু হয়েছিল শ্বেতাঙ্গদের বিক্ষোভ।
তবে আদালতের রায় মেনে নিয়েছিল আমেরিকার বেশিরভাগ স্টেট। কিন্তু রায় মানেনি নিউ অরলিন্সে থাকা শ্বেতাঙ্গদের স্কুলগুলি। ফলে নিউ অরলিন্সের কৃষ্ণাঙ্গ অভিভাবকেরা আবার গিয়েছিলেন আদালতে। ১৯৬০ সালে আদালত তার আগের রায়ই বহাল রেখেছিল। রুবি তখন কিন্ডারগার্টেনের ছাত্রী। আদালত জানিয়েছিল নিউ অরলিন্সের সমস্ত স্কুলে কৃষ্ণাঙ্গ ছাত্রছাত্রীরা পড়তে পারবে। শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য কোনও আলাদা স্কুল থাকবে না। আবার শুরু হয়েছিল জনবিক্ষোভ। কিন্তু আদালত ছিল অনমনীয়।
রুবির বাড়ি থেকে দশ মিনিটের হাঁটাপথে ছিল শ্বেতাঙ্গদের স্কুল। উইলিয়াম ফ্রাঞ্জ এলিমেন্টারি স্কুলটি নিউ অরলিন্সের অন্যতম বিখ্যাত স্কুল। কিন্তু রুবিকে যেতে হত আট কিলোমিটার দূরে থাকা কৃষ্ণাঙ্গদের স্কুলে। আদালতের রায় তাঁদের পক্ষে আসায়, নিউ অরলিন্সের অনেক কৃষ্ণাঙ্গ বাবা মা তাঁদের সন্তানদের শ্বেতাঙ্গদের স্কুলে ভর্তি করবেন বলে ঠিক করেছিলেন। সন্তানরা আরও ভালভাবে লেখাপড়া করার সুযোগ পাবে এই কথা ভেবে। কিন্তু বর্ণবিদ্বেষের বিষ নিয়ে এসেছিল নতুন বাধা। শ্বেতাঙ্গদের স্কুলগুলি জানিয়েছিল, তাদের স্কুলে ভর্তি হতে গেলে লিখিত পরীক্ষায় পাশ করতে হবে কৃষ্ণাঙ্গ ছাত্রছাত্রীদের।
[caption id="attachment_285859" align="alignnone" width="1680"]
উইলিয়াম ফ্রাঞ্জ এলিমেন্টারি স্কুলে তখন কেবল শ্বেতাঙ্গ ছাত্রছাত্রীরাই পড়তে পারত।[/caption]
শ্বেতাঙ্গদের স্কুলে ভর্তি করার জন্য মেয়েকে পরীক্ষায় বসাবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রুবির মা। বাধা দিয়েছিলেন রুবির বাবা। তিনি জানতেন পরিস্থিতি বারুদের মতো উত্তপ্ত, যখন তখন বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। কিন্তু রুবির মা রুবিকে পরীক্ষায় বসিয়েছিলেন। অত্যন্ত কঠিন ছিল প্রশ্নপত্র, যাতে কোনও কৃষ্ণাঙ্গ শিশুই সেই পরীক্ষায় পাস করতে না পারে। কিন্তু যে ছ'জন কৃষ্ণাঙ্গ শিশু পরীক্ষা দিয়েছিল তাদের মধ্যে পাস করেছিল একমাত্র রুবি। প্রচণ্ড আনন্দ হয়েছিল রুবির। তাকে আর রোজ ভোরে ঘুম থেকে উঠে বাসে করে দূরের স্কুলে যেতে হবে না।
১৯৬০ সালের সেপ্টেম্বরেই শুরু হয়ে গিয়েছিল নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস। কিন্তু রুবি তখনও ছিল পুরনো স্কুলে। কারণ শ্বেতাঙ্গদের স্কুল তাকে তখনও ভর্তি নেয়নি। এই সময় আদালত দিয়েছিল আরও একটি রায়। আদালত বলেছিল নভেম্বর মাসের মধ্যে শেতাঙ্গদের স্কুলে কৃষ্ণাঙ্গ ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি নিতেই হবে। না হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও আদালত জানিয়েছিল, প্রয়োজনে আদালতের মার্শাল দিয়ে কৃষ্ণাঙ্গ ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া হবে।
১৯৬০ সালের ১৪ নভেম্বর। রুবিদের এক কামরার ভাড়া বাড়িতে এসেছিল মার্শালের গাড়ি। গাড়িতে ছিলেন চারজন মার্শাল। গাড়িতে উঠেছিল রুবি ও তার মা লুসিল। রুবি ভেবেছিল স্কুল গাড়ি পাঠিয়েছে। রোজ বাসে করে স্কুলে যায়, সেদিন স্কুলের গাড়িতে স্কুলে যাবে ভেবে তার খুব আনন্দ হচ্ছিল। দশ মিনিটের হাঁটা পথ পুলিশের গাড়ি পেরিয়েছিল তিন মিনিটেই। কিন্তু স্কুলের সামনে পৌঁছে এক অন্য দৃশ্যের সম্মুখীন হয়েছিল রুবি। স্কুলের সামনের রাস্তায় তখন অসংখ্য ব্যারিকেড। তার সামনে ও আশপাশে দাঁড়িয়ে আছেন কয়েকশো শ্বেতাঙ্গ নারী-পুরুষ। সবার হাতে প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন। সবাই উত্তেজিত। স্কুলের গেট পাহারা দিচ্ছে জনা পঞ্চাশেক পুলিশ।
রুবিদের গাড়িটি স্কুলের গেটে পৌঁছবার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছিল। গাড়ির ওপর তখন উড়ে আসতে শুরু করেছিল পচা ডিম, টমেটো, ইট ও পাথর। রুবি ভীষণ অবাক হয়েছিল। জানলার কাচের ফাঁক দিয়ে ভেসে আসছিল শ্বেতাঙ্গ অভিভাবকদের অশ্রাব্য ও বর্ণবিদ্বেষমূলক গালাগালি। মার্শালেরা রুবিকে বলেছিলেন তার সামনে দু’জন মার্শাল ও পিছনে দুজন মার্শাল থাকবে। রুবি যেন তাঁদের মাঝখানেই থাকে এবং কারও কথার কোনও উত্তর যেন না দেয়।
[caption id="attachment_285869" align="alignnone" width="670"]
রুবিকে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছেন মার্শালেরা[/caption]
সামনে দু'জন ও পিছনে দু'জন মার্শাল নিয়ে স্কুলের ক্যাম্পাস দিয়ে হাঁটছিল রুবি। তাকে দেখেই স্কুল থেকে বেরিয়ে যেতে শুরু করেছিল শ্বেতাঙ্গ ছাত্রছাত্রীরা। রুবিকে অবাক করে তারা রুবিকে 'কালো কুকুর' বলতে বলতে বেরিয়ে যাচ্ছিল। রুবি কোনও উত্তর না দিয়ে মার্শালদের পিছন পিছন হেঁটে যাচ্ছিল। মার্শালরা রুবিকে নিয়ে গিয়েছিলেন স্কুলের প্রিন্সিপালের ঘরে। স্কুলে বাইরে তখন চলছিল তুমুল বিক্ষোভ। নতুন স্কুলে প্রথম দিনটা প্রিন্সিপালের ঘরেই কাটাতে হয়েছিল রুবিকে। অন্ধকার নামার পর রুবি ও তার মাকে বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে গিয়েছিল মার্শালদের গাড়ি।
দ্বিতীয় দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল। রুবির মা ভেবেছিলেন, হয়ত রুবিকে স্কুলই ছেড়ে দিতে হবে। রুবিকে আঘাত করার চেষ্টা করছিলেন শ্বেতাঙ্গ অভিভাবকেরা। তার মাথার পাশ দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল কাচের বোতল। এক অভিভাবক চিৎকার করে বলেছিলেন, রুবিকে তিনি বিষ দিয়ে মেরে দেবেন। আর একজন ছোট কাঠের কফিনে শুইয়ে রাখা একটি কালো পুতুল দেখিয়েছিলেন। মার্শালরা রুবিকে বলেছিলেন স্কুলের কোনও খাবার বা জল না খেতে।
দ্বিতীয় দিনেও কোনও শ্বেতাঙ্গ ছাত্র বা ছাত্রী স্কুলে আসেনি। আসেননি শ্বেতাঙ্গ শিক্ষক শিক্ষিকারাও। তবে এসেছিলেন স্কুলের নতুন শিক্ষিকা বারবারা হেনরি। তিনিও শ্বেতাঙ্গ। শুনশান স্কুলের শুনশান ক্লাস ঘরের ভেতর সিঁটিয়ে থাকা ছোট্ট রুবিকে বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন তিনি। প্রিন্সিপালকে বলেছিলেন তিনিই পড়াবেন রুবিকে। উপায় না দেখে, সপ্তাহ দুয়েক পর থেকে স্কুলে আসতে শুরু করেছিলেন শিক্ষক শিক্ষিকারা। আসতে শুরু করেছিল ছাত্রছাত্রীরাও।
কিন্তু রুবির ক্লাসঘর ছিল ফাঁকা। কারণ তার ক্লাসের ভর্তি হওয়া বাকি শ্বেতাঙ্গ ছাত্রছাত্রীদের অন্য স্কুলে ভর্তি করে দিয়েছিলেন তাদের অভিভাবকরা। তাই সারাদিন ক্লাসে একা থাকতে হতো রুবিকে। মিসেস বারবারা পাশাপাশি বসে রুবিকে পড়াতেন। রুবির মনে সাহস যোগাতেন। ম্যাম বলতেন,"একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে। তুমি স্কুল ছেড়োনা। তোমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছেন লক্ষ লক্ষ কৃষ্ণাঙ্গ বাবা মা। লড়াইয়ে তোমাকে জিততেই হবে।"
[caption id="attachment_285877" align="alignnone" width="1600"]
রুবির সঙ্গে শিক্ষিকা বারবারা হেনরি[/caption]
একদিকে যখন স্কুলে চলছিল রুবি ও মিসেস বারবারা হেনরির প্রথাভাঙার লড়াই, অন্যদিকে দুঃসহ অভাবের সঙ্গে লড়ছিল রুবির পরিবারও। রুবির বাবা ও মাকে কাজ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। রুবির ঠাকুর্দা ঠাকুমা যে জমিতে ২৫ বছর ধরে ভাগচাষ করতেন, সেখান থেকে তাঁদের উৎখাত করেছিলেন শ্বেতাঙ্গ মালিক। সামাজিক ভাবে একঘরে করে দেওয়া হয়েছিল পরিবারটিকে। প্রবল অর্থাভাবে ধুঁকছিল পরিবারটি। এগিয়ে এসেছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ প্রতিবেশীরা। রুবির বাবাকে চাকরি দিয়েছিলেন তাঁরা। এগিয়ে এসেছিলেন কিছু মুক্তমনা শেতাঙ্গ পরিবারও।
প্রবল মানসিক চাপের মধ্যে থাকতে থাকতে একসময় পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল রুবির মধ্যে। রাত্রে সে ভয় পেয়ে চেঁচিয়ে উঠত। সারা রাত ঘু্মাত না। স্কুলে টিফিন না খেয়ে লুকিয়ে রাখত ডেস্কের ভেতর। একদিন স্কুলের সাফাই কর্মী রুবির ডেস্কের ভেতর থেকে আরশোলা আর ইঁদুর বেরিয়ে আসতে দেখেছিলেন। সেদিন সবাই জানতে পেরেছিলেন, রুবি দিনের পর দিন টিফিন না খেয়ে ডেস্কে জমিয়ে রাখত। পরদিন থেকে মিসেস বারবারা রুবির সঙ্গে টিফিন খেতে শুরু করেছিলেন। রুবিকে মানসিক চাপ থেকে মুক্ত করার জন্য ডঃ রবার্ট কোল নামে একজন চাইল্ড সাইকোলজিস্ট নিজে থেকেই রুবিকে কাউন্সেলিং করতে শুরু করেছিলেন। শ্বেতাঙ্গদের স্কুলে টিকে থাকার জন্য ছোট্ট মেয়ে রুবির আপ্রাণ লড়াই তাঁকে মুগ্ধ করেছিল।
[caption id="attachment_285870" align="alignnone" width="678"]
মার্শালদের পাহারায় স্কুল থেকে বেরিয়ে আসছে রুবি[/caption]
এভাবেই কেটে গিয়েছিল এক বছর। এক বছর ধরে স্কুলের ভেতরে বাইরে বিক্ষোভ ও আক্রমণ চলা সত্ত্বেও স্কুল ছাড়েনি রুবি। তাই বাধ্য হয়ে পরের বছর ফিরে এসেছিল রুবির ক্লাসের শ্বেতাঙ্গ ছাত্রছাত্রীরা। কিন্তু স্কুল ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন মিসেস বারাবারা হেনরি। স্কুল তাঁর সঙ্গে চুক্তি আর বাড়ায়নি। স্কুল ছাড়ার আগে রুবির ছোট্ট হাতে চুমুই খেয়ে মিসেস হেনরি বলেছিলেন, "যত কষ্টই হোক স্কুল ছেড়ো না, লড়াই ছেড়ো না।"
ক্লাসের কেউ রুবির সঙ্গে মিশত না। শিক্ষিকারা রুবিকে ইচ্ছে করেই কম নম্বর দিতেন। সবসময়, সবার আগে তার ভুল ধরা হত। সবার সামনে রুবিকে দাঁড় করিয়ে অপমান করা হত। রুবি যে কলে হাত ধুতে যেত, সেই কলে কোনও ছাত্র হাত ধুতো না। তার জামায় কালি দেওয়া হত। স্কুলের ব্যাগে নোংরা জিনিস ঢুকিয়ে দেওয়া হত। এই সব অমানুষিক অত্যাচারের কোনও প্রতিবাদ কোনওদিন করেনি রুবি। তার মনে পড়ত মায়ের মুখ আর মিসেস বারবারা হেনরির কথা।
[caption id="attachment_285935" align="alignnone" width="960"]
রুবির লড়াইয়ের সঙ্গী মা লুসিল ব্রিজেস। প্রয়াত হলেন ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে।[/caption]
কিন্তু পরিণতি কী হয়েছিল রুবির! ছোট্ট মেয়েটি কি জিততে পেরেছিল সংগ্রামে ! হ্যাঁ, অসম যুদ্ধে জয়ী হয়েছিল একরত্তি রুবি। সাফল্যের সঙ্গে স্কুলের পড়া শেষ করে ট্রাভেল ও ট্যুরিজম নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন রুবি ব্রিজেস। চাকরি পেয়েছিলেন আমেরিকান এক্সপ্রেসের মত বিখ্যাত সংস্থায়। কিন্তু জীবন যাঁর শুরু হয়েছিল লড়াই দিয়ে, তিনি কেন নিজের সুখের জন্য নিস্তরঙ্গ জীবন বেছে নেবেন!
চার সন্তানের মা রুবি ব্রিজেস তাই আজ আমেরিকায় কিংবদন্তি হয়ে যাওয়া নাগরিক অধিকার কর্মী। তাঁর সংস্থা 'রুবি ব্রিজ ফাউন্ডেশন' নাগরিক অধিকার ছিনিয়ে আনার জন্য লড়াই করে চলেছে। রুবিকে পাহারা দেওয়া এক মার্শাল চার্লস বার্কস, তাই সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, "ছোট্ট সৈনিক রুবি, যুদ্ধক্ষেত্রে একদিন বুক চিতিয়ে স্বাধীনতার লড়াই শুরু করেছিল। আজও তার লড়াই থামেনি।"
[caption id="attachment_285886" align="alignnone" width="640"]
মার্শাল চার্লস বার্কসের সঙ্গে রুবি ব্রিজেস[/caption]
১৯৬৩ সালে বিখ্যাত চিত্রশিল্পী নর্ম্যান রকওয়েল একটি ছবি এঁকেছিলেন। চারজন শেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার একজন কৃষ্ণাঙ্গ শিশুকন্যাকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। ছবিটির ক্যাপশন ছিল "The Problem We All Live With”। রুবিকে নিয়ে আঁকা বিশ্ববিখ্যাত ছবিটি আজও আছে ম্যাসাচুসেটসের নর্ম্যান রকওয়েল মিউজিয়ামে।বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন চার মাসের জন্য ছবিটিকে নিয়ে গিয়েছিলেন হোয়াইট হাউসে।
রুবির শৈশব নিয়ে সিনেমা বানিয়েছিল 'ডিজনি মুভি'। সিনেমাটির প্রিমিয়ার হয়েছিল হোয়াইট হাউসে। প্রিমিয়ারে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন ও হলিউডের বিখ্যাত অভিনেতা অভিনেত্রীরা। তবে রুবির জীবনের সেরা দিনটি এসেছিল ১৯৯৬ সালে।
[caption id="attachment_285889" align="alignnone" width="679"]
সেই বিশ্ববিখ্যাত ছবিটির সামনে রুবি ও বারাক ওবামা[/caption]
ওপরা উইনফ্রের আমন্ত্রণে ১৯৯৬ সালে ওপরার বিখ্যাত টেলিভিশন শোয়ে হাজির হয়েছিলেন রুবি। শ্যুটিং ফ্লোরে ঢুকেই হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। ভেঙে পড়েছিলেন কান্নায়। ঝাপসা চোখে দেখেছিলেন, ফ্লোরের মাঝখানে তাঁর জন্য দু'হাত বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছেন মিসেস বারবারা হেনরি। যাঁকে তিন দশক ধরে পাগলের মতো খুঁজে বেড়িয়েছেন রুবি। ছুটে গিয়ে ম্যামের বুকে মুখ লুকিয়েছিলেন রুবি। বুকে মুখ গুঁজে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদেছিলেন। অস্ফুটে বলেছিলেন রুবি,"আমি স্কুল ছাড়িনি ম্যাম।" শ্বেতাঙ্গ বৃদ্ধার চোখও ভিজে গিয়েছিল সেদিন। যুদ্ধ জেতার আনন্দে।
[caption id="attachment_285915" align="alignnone" width="949"]
তিন দশক পর রুবি খুঁজে পেয়েছিলেন তাঁর শ্বেতাঙ্গ মা' মিসেস বারবারা হেনরিকে[/caption]