
এভারেস্টের উচ্চতম হিমবাহ সাউথ কোল ধীরে ধীরে গলছে।
শেষ আপডেট: 18 April 2025 14:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতমালা হিমালয়ের মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা ৮,৮৪৮ মিটার। কিন্তু, এই উচ্চতাও উষ্ণায়নের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারছে না। এভারেস্টের উচ্চতম হিমবাহ সাউথ কোল ধীরে ধীরে গলছে। ১৯৯০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৫৪ মিটারেরও বেশি গলে গিয়েছে একটি সমীক্ষায় ধরা পড়েছে।
সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা বলছে, হিমালয়ের প্রায় হিমবাহ দ্রুত গলছে। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেডেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের ক্রায়োস্ফিয়ার বিশেষজ্ঞ শারদ জোশি জানান, হিমালয়ের হিমবাহগুলি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে গলতে শুরু করেছে। আর বিপদ অপরিসীম। হিমবাহ গলনের ফলে সমুদ্রের জলস্তর বাড়তে থাকবে। অন্যদিকে জলের উৎসের সংকট সৃষ্টি করবে।
হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চল আটটি দেশ নিয়ে ছড়িয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং স্থানীয়ভাবে আবহাওয়ার বিরূপ প্রতিক্রিয়া, যেমন শুষ্ক ও ঠান্ডা বাতাসের ফলে হিমবাহ গলতে পারে। এসবের কারণে বৃষ্টিপাতের ধরনও বদলে গিয়েছে। পাহাড়ের উচ্চস্থানেও অতিরিক্ত মাত্রায় বৃষ্টি ও কম তুষারপাত হচ্ছে।
২০১১-২০২০ সালের মধ্যে সমীক্ষায় ধরা পড়েছে, হিন্দুকুশ পর্বতমালায় প্রায় ৫৬,০০০ হিমবাহ ৬৫ শতাংশ গলেছে। উল্লেখ্য, যা তার আগের দশকের থেকে অনেক বেশি। এই শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত হিমবাহগুলির ৮০ শতাংশ গলে জল হয়ে যাবে বলে অনুমান করা হয়েছে। নেপালের লাংটাং উপত্যকায় অবস্থিত ইয়ালা হিমবাহকে এই সমীক্ষায় ধরা হয়েছিল।
অনুমান করা হচ্ছে, আগামী ২০-২৫ বছরের মধ্যে এই হিমবাহটি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। শারদ জোশি জানিয়েছেন, নেপালে যদি এভাবে হিমবাহ গলে যেতে থাকে, তাহলে তার বিরূপ প্রভাব পড়বে ভারতেও। এই হিমবাহ থেকেই প্রাকৃতিক হ্রদ সৃষ্টি হয়, যা পানীয় ও সেচের কাজের জলের অন্যতম উৎস।
এ ধরনের অধিকাংশ হ্রদ বা হিমবাহের মুখ থেকেই তৈরি হয় নদী বা নালা। এই হ্রদগুলির চারধারে বরফের বাঁধ থাকে। কিন্তু, ভূমিকম্পে অথবা ভূমিধসে হঠাৎ যদি সেই বাঁধ ভেঙে পড়ে তাহলে হড়পা বান তৈরি হয়ে প্রবল জলোচ্ছ্বাস হয়ে যাবে। এতে গ্রামের পর গ্রাম ভেসে যাবে, রাস্তা, সেতু, জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং অন্যান্য পরিকাঠামো ভেঙে যাবে। যা থেকে বাঁচতে পারবে না ভারতও।
কারণ ভারতের অধিকাংশ উত্তর ভারতীয় নদী হিমালয়ের বরফগলা জলে পুষ্ট। প্রায় ২০০ কোটি মানুষ হিমালয়ের হিমবাহ ও বরফজলে পালিত। হিমবাহ গলে গেলে নদীগুলি শুকিয়ে আসবে এবং পানীয় জল এবং সেচের ভয়ঙ্কর সংকট তৈরি হবে। ফলে প্রকৃতির এই পরিশোধে ভবিষ্যতে এক দীর্ঘ সভ্যতা-সংস্কৃতি বিপন্ন হতে পারে।