
শেষ আপডেট: 22 April 2021 06:49
ম্যামথ[/caption]
আদিম মানুষরা ম্যামথদের হাড় বাসস্থান ও অস্ত্র তৈরির কাজে এবং দাঁত অলঙ্কার তৈরির কাজে ব্যবহার করত। লম্বায় এক একটি দাঁত কুড়ি ফুট পর্যন্ত এবং ওজনে ২০০ থেকে ২৫০ কেজি হতো। মাংসের জন্যও তারা ম্যামথ শিকার করত। পুরুষ ম্যামথ থেকে প্রায় ৬০০০ কেজি ও স্ত্রী ম্যামথ থেকে প্রায় ৪০০০ কেজি পর্যন্ত মাংস মিলত। আকৃতিতে ম্যামথ আজকের আফ্রিকান হাতির সমান ছিল। কিন্তু আজকের হাতির মতো পোষ মানেনি ম্যামথেরা।
উত্তর গোলার্ধের ম্যামথ প্রজাতিগুলির গায়ে লম্বা রোম ছিল। তুষার যুগের হিমশীতল পরিবেশে ম্যামথরা সহজেই মানিয়ে নিয়েছিল গায়ে লোম ও চর্বির আধিক্য থাকায়। ২৬ লক্ষ বছর আগে পৃথিবীতে এসে, পৃথিবীর মূল ভূখণ্ডগুলি থেকে ম্যামথরা হারিয়ে গিয়েছিল আজ থেকে ১১,৭০০ বছর আগে। অবলুপ্ত হওয়ার পিছনে ছিল আবহাওয়ার পরিবর্তন, খাদ্যাভাব এবং দাঁত, হাড়, চামড়া ও মাংসের প্রতি মানুষের লোভ।
কৃত্রিম উপায়ে সর্বপ্রথম তৈরি হয়েছিল এই বুকার্ডো ছাগল[/caption]
জীববিজ্ঞানী জর্জ চার্চ বলেছিলেন তিনি ম্যামথ বানাবেন না, একেবারে ম্যামথের মতো দেখতে রোমশ হাতি বানাবেন। কিন্তু ক্লোনিং করে ম্যামথ বানাতে গেলে লাগবে ম্যামথের কোষের নিউক্লিয়াস যার মধ্যে জিনগুলি অক্ষত অবস্থায় আছে। সেই নিউক্লিয়াসটি আবার ম্যামথের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত প্রাণী বা হাতির ডিম্বাণুতে বসাতে হবে। তারপর কৃত্রিমভাবে তৈরি করা ভ্রূণকে মহিলা হাতির জরায়ুতে বসাতে হবে। নির্দিষ্ট সময় পরে জন্মগ্রহণ করবে ম্যামথ শাবক। কিন্তু বিষয়টি কি এতই সোজা!
এর আগে ২০১১ সালে জাপানের কিনকি ইউনিভার্সিটির বায়োটেকনোলজিস্ট আকিরা ইরিটানি ঘোষণা করেছিলেন, সাইবেরিয়ার স্থায়ী বরফের তলায় অক্ষত অবস্থায় পাওয়া ম্যামথের কোষগুলি থেকে ক্লোন করার মতো উপযুক্ত উপাদান বা নিউক্লিয়াস মিলেছে। ইরিটানি বলেছিলেন পাঁচ বছরের মধ্যে তিনি আবার পৃথিবীর মাটিতে ম্যামথকে হাঁটাবেন। মিডিয়াতে প্রচুর প্রচার পেয়ে গিয়েছিলেন এই বিজ্ঞানী। ২০১৬ সাল কেটে গেলেও ইরিটানি তাঁর কথা রাখেননি। সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও ক্লোন করা ম্যামথ পৃথিবীর আলো দেখেনি।
[caption id="attachment_174397" align="aligncenter" width="738"]
জীববিজ্ঞানী জর্জ চার্চ[/caption]
চার্চ বলেছিলেন, তিনি কিন্তু নিখুঁত ম্যামথ তৈরি করছেন না, তাঁর তৈরি হাতি দেখতে ম্যামথের মতো হবে। এই হাইব্রিড হাতি তার জন্মের আগেই ম্যামোফ্যান্ট (ম্যামথ+এলিফ্যান্ট) নাম পেয়ে গেল। নকল ম্যামথ বা ম্যামোফ্যান্ট বানাতে কী করবেন চার্চ সেটাও জানিয়েছিলেন। তিনি এশিয়ার হাতির জিনে এমন কিছু কারিগরি করবেন যাতে কৃত্রিম উপায়ে তৈরি হওয়া ম্যামোফ্যান্ট আকৃতিতে ম্যামথের মতো হবে। ম্যামথের মতোই প্রচণ্ড ঠান্ডায় বাঁচতে পারবে। তাদের দাঁত ও লোম ম্যামথের মতো বড় বড় হবে। গায়ে চর্বির পরিমাণও হবে ম্যামথের মতোই।
এর জন্য বিজ্ঞানী চার্চ CRISPR নামে জেনেটিক এডিটিং টুল ব্যবহার করেছিলেন। ২০১৭ সালে চার্চ ঘোষণা করেছিলেন, তিনি এশিয়ার হাতির ৪৫ টি জিনের পরিবর্তন ঘটিয়ে ম্যামথের জিনের মতো করে দিয়েছেন। তাঁর আর মাত্র দু’বছর লাগবে ম্যামথ তৈরি করতে, ২০১৯ সালে পৃথিবীর বুকে ভুমিষ্ঠ হতে চলেছে ম্যামোফ্যান্ট।
[caption id="attachment_174401" align="aligncenter" width="678"]
এভাবেই তৈরি হবে চার্চের ম্যামোফ্যান্ট[/caption]
বিজ্ঞানী লাভ ডালেন[/caption]
অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, নতুনভাবে সৃষ্টি করা ম্যামথকে পরিবেশে ফেরানো কি আদৌ যুক্তিযুক্ত, পৃথিবীর বুকে কঠিন জীবনসংগ্রামে এই নতুন প্রাণীটি টিকতে পারবে তো! ম্যামথদের বাসযোগ্য আবহাওয়া, পরিবেশ এবং খাদ্য যে পৃথিবীতে আজ আর নেই!
প্লিসটোসিন পার্কে তিব্বতের ইয়াক[/caption]
কিন্তু জর্জ চার্চের দেওয়া সময়সীমাও পেরিয়ে গেছে। ২০১৯ পেরিয়ে কেটে গিয়েছে গেছে ২০২০ সাল। পৃথিবীতে আসেনি ম্যামথ বা ম্যামোফ্যান্ট। এখনও চুপ বিজ্ঞানী জর্জ চার্চ। কেন তিনি চুপ! আবার তিনি চমক দিতে চান, তাই অপেক্ষা করাচ্ছেন পৃথিবীকে! কিছুদিনের মধ্যেই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন রাশিয়ার বিজ্ঞানী সার্গেই ও নিকিতা জিমোভ এবং স্বয়ং জর্জ চার্চ।