
শেষ আপডেট: 15 August 2018 13:26
সম্প্রতি কিছু বিজ্ঞানী,পরীক্ষাগারে ধরে ফেলেছেন জলের ধাঁধাঁ।তাঁদের মতে জল আদৌ একই ধনের তরল নয়। প্রকৃতিতে জল দু'ধরনের। খালি চোখে দেখতে একই লাগে বলে আমাদের মনে হয় জল একই প্রকার। হ্যাঁ, এটাই বলছেন স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী অ্যান্ডারস নিয়েলসেন। যিনি তাঁর গবেষণা জীবনের প্রায় পুরোটাই জল নিয়ে কাটিয়েছেন। যাঁর তিনশতাধিক গবেষণা পত্র প্রকাশিত হয়েেেছছ বিশ্বখ্যাত নেচার ম্যাগাজিন, সায়েন্স ম্যাগাজিন, নেচার কেমিস্ট্রি, নেচার কমিউনিকেশনের মতো বিশ্বের প্রথম সারির বিজ্ঞান পত্রিকাগুলিতে।
বিজ্ঞানী অ্যান্ডারস নিয়েলসেন[/caption]
এই অবাক করা তথ্য আমাদের হজম করতে অসুবিধা হলেও, অ্যান্ডারস নিয়েলসেন কিন্তু নিজের মতবাদেই অটল আছেন। তিনি বলছেন, জল যদি একই রকমের হতো, তাহলে পৃথিবীতে প্রাণেরই সৃষ্টি হতো না। এক ধরনের জল ৪ ডিগ্রির কাছাকাছি তাপমাত্রায় বরফ হয়। অন্য ধরনের জল বরফ হয় শূন্য ডিগ্রি তাপমাত্রায়। দুই ধরনের জলের হিমাঙ্ক এক হলে, পৃথিবীর বহু লেক ও নদীর নীচের ও ওপরের জল একসঙ্গে বরফ হয়ে যেতো। কিন্তু তা হয় না। এর অন্যথা হলে, গোটা নদী বা হ্রদ জমে যেত, এবং সেগুলিতে বাস করা জীবগোষ্ঠী মারা পড়তো।
বাসেল ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী আর্দিতা কিলাজ-এর গবেষণা থেকে একই তথ্য উঠে এসেছে। চাঞ্চল্যকর গবেষণা থেকে জানা গেছে, জলের সব অণুগুলিই একই ধরনের ব্যবহার করে না।
এটা বোঝার চলুন আমরা স্কুলের ল্যাবরেটরিতে ফিরে যাই। এক অণু জল দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু ও একটি অক্সিজেন পরমাণু দিয়ে তৈরী। পরমাণুগুলি, একে অপরের সঙ্গে ইংরাজির ভি আকারে আটকে আছে। প্রত্যেকটি পরমাণুর কেন্দ্রে আছে একটি ঘূর্ণায়মান নিউক্লিয়াস। যেটি হয় ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘুরতে থাকে, নয়তো বিপরীত দিকে। যখন জলের হাইড্রোজেন পরমাণু দুটির নিউক্লিয়াস, একই ডিরেকশনে ঘোরে, তখন সেই জলকে বলা হয় অর্থো ওয়াটার (ortho water)। যখন জলের অণুর হাইড্রোজেন পরমাণু দুটির নিউক্লিয়াস ভিন্ন ডিরেকশনে ঘোরে, তখন সেই জল কে বলা হয় প্যারা ওয়াটার (para water)।
ঘরের তাপমাত্রায় দুই ধরনেের জলের ব্যবহার একই রকম। কিন্তু জলকে ক্রমশ ঠান্ডা করতে শুরু করলে, জলের অণুগুলি তাদের আসল রূপ দেখাতে শুরু করে। একটি পাত্রে থাকা জলের সব অণুগুলি তখন হয় অর্থো ওয়াটার বা প্যারা ওয়াটারে পরিণত হয়ে যায়। এবং এই দুই ধরনের জল ভিন্ন ভিন্ন স্রোতে বইতে থাকে। তাদের ব্যবহারও আলাদা হয়ে যায়।