Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

মরফিনের নেশা ছাড়তে গিয়ে 'কোকাকোলা' আবিষ্কার করেছিলেন জন পেম্বারটন

রূপাঞ্জন গোস্বামী ১৮৩১ সালের ৮ জুলাই আমেরিকার জর্জিয়াতে জন্মেছিলেন জন পেম্বারটন। পড়াশুনায় ছোটবেলা থেকেই ভাল ছিলেন।  রিফর্ম মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হলেন ফার্মাসি নিয়ে পড়বেন বলে। ১৮৫০ সালে ফার্মাসিস্টের ডিগ্রি ও লাইসেন্স পেয়ে গেলেন। তাঁর লক্ষ্য

মরফিনের নেশা ছাড়তে গিয়ে 'কোকাকোলা' আবিষ্কার করেছিলেন জন পেম্বারটন

শেষ আপডেট: 5 April 2019 14:22

রূপাঞ্জন গোস্বামী

১৮৩১ সালের  জুলাই আমেরিকার জর্জিয়াতে জন্মেছিলেন জন পেম্বারটন। পড়াশুনায় ছোটবেলা থেকেই ভাল ছিলেন।  রিফর্ম মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হলেন ফার্মাসি নিয়ে পড়বেন বলে। ১৮৫০ সালে ফার্মাসিস্টের ডিগ্রি ও লাইসেন্স পেয়ে গেলেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন ওষুধ আবিষ্কার করা ও বিক্রি করা। সেই লক্ষ্যে সফল ভাবে এগিয়েও চলছিলেন জন পেম্বারটন। কিন্তু দাসপ্রথা নিয়ে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে গেল আমেরিকায়। গৃহযুদ্ধে আমেরিকার জয় হয় এবং আমেরিকা থেকে দাসপ্রথা চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যায়। আমেরিকার গৃহযুদ্ধে জন পেম্বারটন লড়াই করেন জর্জিয়ার স্টেট-গার্ডের হয়ে। ব্যাটল অফ কলম্বাস-এর লড়াইয়ে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। ক্ষতের যন্ত্রণা কমাতে 'জন' মরফিন নেওয়া শুরু করেন। রোজ তিন চারবার করে মরফিন নিতে নিতে, পেম্বারটন মরফিনের নেশায় চূড়ান্তভাবে আসক্ত হয়ে পড়েন। [caption id="attachment_92646" align="aligncenter" width="800"] জন পেম্বারটন[/caption] তখনকার দিনেও মরফিন যথেষ্ট দামি নেশা ছিল। পয়সায় কুলাতে না পেরে ও নেশার কবল থেকে নিজেকে সরিয়ে আনতে পেম্বারটন সহজলভ্য কোকা পাতা চিবোতে শুরু করেন। এই কোকা গাছ থেকেই তৈরি হয় আরেক ভয়ঙ্কর ড্রাগ কোকেন। কোকা পাতা চিবালে নেশা হয়, কিন্তু কোকা পাতা খেতে বেশ তেতো। কোকা পাতা সেবনকে সামান্য উপাদেয় করার জন্য পেম্বারটন নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে কোকা পাতার নির্যাসের সঙ্গে বিভিন্ন উপাদান মেশাতে লাগলেন। স্রেফ নিজের নেশার তাগিদেই। একদিন এই ভাবেই তিনি কোকা পাতার নির্যাসের সঙ্গে মেশালেন কোলা বাদামের গুঁড়ো। দিনের শেষে বাড়ির বারান্দায় বসে সিরাপটির স্বাদ নিলেন জন পেম্বারটন। প্রথম চুমুকেই বুঝে গেলেন এই তরল পদার্থটি পৃথিবী কাঁপাতে চলেছে। [caption id="attachment_92648" align="aligncenter" width="600"] ব্রেন টনিক হিসেবে বাজারে এসেছিল কোকাকোলা[/caption] একদিন বিকেল সন্ধ্যা বেলায় হুইস্কিতে সোডা ওয়াটার মেশাতে গিয়ে, নিজের খেয়ালেই কোকা আর কোলা বাদামের মিশ্রণটিতে সোডা ওয়াটার মিশিয়ে চুমুক দিলেন। এ বার নিজেই চমকে গেলেন পেম্বারটন। বুঝতে পারলেন সোনারখনি আবিষ্কার করে ফেলেছেন তিনি। পেম্বারটন পরের দিনই তাঁর বন্ধু উইলিস ভেনাবলের সঙ্গে দেখা করলেন। উইলিস একটি ওষুধের দোকানের মালিক। উইলিসকে সোডা ওয়াটার সহযোগে কোকা আর কোলা বাদামের মিশ্রণের স্বাদ নিতে বললেন পেম্বারটন। স্বাদ নিয়ে বন্ধু উইলিস আনন্দে চেয়ার ছেড়ে লাফিয়ে উঠেছিলেন। [caption id="attachment_92659" align="aligncenter" width="485"] কোকাকোলার প্রাচীনতম বিজ্ঞাপন[/caption] দুজনে মিলে কোকা আর কোলা বাদামের মিশ্রণকে ব্রেন-টনিক জাতীয় ওষুধ হিসাবে বাজারে আনলেন। কারণ খেলে বেশ ফুরফুরে লাগে ও মানসিক অবসাদ কাটে।  মিশ্রণটির এক গ্লাসের দাম ছিল তখন ছিল পাঁচ সেন্ট। কিন্তু ব্রেন-টনিক হিসেবে নয়, বরং সোডা ফাউন্টেন ড্রিঙ্ক হিসেবেই বাজারে হিট হয়ে গেল পেম্বারটনের আবিষ্কার করা মিশ্রণটি। কিন্তু প্রিয় বন্ধুকেও ফর্মূলা জানালেন না পেম্বারটন। কোকা আর কোলা বাদামের সোডা ফাউন্টেন ড্রিঙ্কটি বাজারে হিট হতেই Brand Name-এর দরকার পড়ল। বিজ্ঞাপন কোম্পানির মালিক ফ্র্যাঙ্ক ম্যাসন রবিনসন এই সোডা ফাউন্টেন ড্রিঙ্কটির নাম, প্রধান দু'টি উপাদানের নামে রাখলেন। এসে গেলো পৃথিবী কাঁপানো ব্র্যান্ড কোকাকোলা। পেম্বারটন তৈরি করে ফেললেন the Coca-Cola Company। [caption id="attachment_92649" align="aligncenter" width="900"] ডান দিক থেকে তৃতীয় বোতলটি কোকাকোলার সবচেয়ে পুরানো বোতল[/caption] মরফিন ছাড়ার উদ্দেশ্যে জন পেম্বারটন কোকাকোলা আবিষ্কার করেছিলেন। কিন্তু আবিষ্কারের পরও মরফিনের নেশা ছাড়তে পারেননি তিনি। সেই নেশায় প্রায় দেউলিয়া হতে বসলেন জন পেম্বারটন। সংসার চালাবার জন্য এবং নেশার টাকা যোগানের জন্য তিনি কোকাকোলার ফর্মূলা বেচতে লাগলেন, কোম্পানির শেয়ার বেচতে লাগলেন। যদিও  কোকাকোলা কোম্পানির সিংহভাগ শেয়ার নিজের হাতে রাখলেন জন পেম্বারটন। যাতে তাঁর ছেলে চার্লি পেম্বারটন ভবিষ্যতে ব্যবসা করতে পারেন। তবে কোকাকোলার ফর্মুলা বেচলেও, তাঁর নিজস্ব ফর্মুলার পুরোটা নাকি কাউকেই জানাননি জন পেম্বারটন। কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন এই কোকাকোলা ভবিষ্যতে একদিন আমেরিকার জাতীয় পানীয় হবে এবং গোটা বিশ্বকে মাতাবে। [caption id="attachment_92657" align="aligncenter" width="300"] মৃত্যুর কিছুদিন আগে জন পেম্বারটন[/caption] জন পেম্বারটনের ফর্মুলা নিয়ে, অন্য সফট ড্রিঙ্কস কোম্পানিরা বিভিন্ন ব্র্যান্ড এনে রমরমিয়ে ব্যবসা শুরু করল। কিন্তু জন ও তাঁর ছেলে চার্লি তাঁদের ব্যবসা তেমন জমাতে পারলেন না। অথচ জন পেম্বারটনের ছেলে চার্লি পেম্বারটনের কাছে কোকাকোলা নামটার কপিরাইট ছিল। কিন্তু চার্লি ছিলেন অলস প্রকৃতির। ব্যবসা বাড়ানোর চেষ্টা বা ইচ্ছে তাঁর ছিল না। For God, Country, and Coca-Cola বইটির লেখক মার্ক পেণ্ডারগ্রাস্ট লিখেছিলেন, জন পেম্বারটনের ছেলে চার্লিরও বাবার মত মরফিনের নেশা ছিল। এছাড়াও তাঁর মদ ও আফিমেও আসক্তি ছিল। বাবাকে বুঝিয়ে দ্রুত বেশি টাকা রোজগারের জন্য ১৮৮৮ সালে চার্লি তাঁদের কোকাকোলা কোম্পানিকে বেচে দিলেন ধনকুবের এসা ক্যান্ডলারকে। [caption id="attachment_92653" align="aligncenter" width="702"] এসা ক্যান্ডলার[/caption] ১৮৮৮ সালেরই আগস্ট মাসে জন পেম্বারটন মারা গেলেন পাকস্থলীর ক্যানসারে। মৃত্যুর সময় তিনি নাকি কপর্দকহীন অবস্থায় ছিলেন। এবং মরফিনের নেশা ছাড়তে পারেননি। জন পেম্বারটন মারা যাওয়ার মাত্র ছয় বছরের মধ্যে মারা যান চার্লি পেম্বারটনও। ভোগবিলাস আর নেশায় সর্বসান্ত হয়ে। অথচ ধনকুবের হওয়ার জন্য আদর্শ সোনার খনিটি তাঁদেরই হাতে ছিল। ইতিমধ্যে এসা ক্যান্ডলারের ব্যবসায়িক বুদ্ধিতে the Coca-Cola Company হয়ে গেছে the Coca-Cola Corporation। খুবই অল্পদিনের মধ্যেই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সফট ড্রিঙ্ক নির্মাতা ও বিক্রেতা কোম্পানি হয়ে উঠল the Coca-Cola Corporation। জন পেম্বারটনের স্বপ্ন সত্যিই সফল হল। [caption id="attachment_92651" align="aligncenter" width="900"] কোকাকোলার সদর দপ্তরের বাইরে জন পেম্বারটনের স্ট্যাচু[/caption] যদি জন পেম্বারটন আমেরিকার গৃহযুদ্ধে না লড়তেন, তাহলে তিনি আহত হতেন না। আহত না হলে যন্ত্রণা পেতেন না। যন্ত্রণা না পেলে মরফিন নিতেন না। মরফিন অ্যাডিক্ট না হলে কোকা চিবোতেন না। কোকা না চিবোলে আমরা কোকাকোলা পেতাম না। তাই, আসা ক্যান্ডলারের হাতে কোকাকোলা দ্বিতীয় জীবন ফিরে পেলেও,  কোকাকোলার জনক হিসেবে অমর হয়ে থাকবেন জন পেম্বারটন। নিজের হাতেই নিজের জীবনের শোচনীয় পরিসমাপ্তি ঘটিয়েও।

```