শেষ আপডেট: 4 December 2019 15:06
বহু যুগ ধরে পৃথিবী দেখছে ধনকুবেরদের আজব খেয়াল। কেউ আকাশছোঁয়া সম্পত্তি ভোগ করে যান, কেউ সম্পত্তি বিলিয়ে দিয়ে যান দরিদ্রদের মাঝে বা সমাজসেবায়। কেউ কেউ তাঁদের সম্পত্তি পোষ্য পশুপাখির নামে করে দিয়ে যান।অবাক লাগছে শুনতে? কিন্তু ঘটনাটি সত্যি ও ধনীদের এই অভ্যেস কিন্তু অনেক পুরোনো।
পৃথিবীর ধনীতম বিড়াল অলিভিয়া বেনসন, ৬৯৬ কোটি টাকার মালিক[/caption]
ব্ল্যাকি নামে এক বিড়ালের নামে আছে ৮৯ কোটি টাকা। টিঙ্কার নামে এক রাস্তার বিড়ালের ভাগ্যেও জুটেছে ৫৭ কোটি টাকার প্রাসাদ ও ১৬ কোটি টাকা ক্যাশ। কনচিটা নামে এক চিহুয়াহুয়া কুকুরের আছে ২১ কোটি টাকা ক্যাশ ও আমেরিকার মিয়ামিতে ৫৯ কোটি টাকার ম্যানসন। ফ্লসি নামের এক কুকুরকে তার প্রভু ড্রিউ ব্যারিমোর ও টম গ্রিন তাঁদের ৯ কোটি টাকার প্রাসাদ দিয়ে যান আগুনের হাত থেকে তাঁদের বাঁচানোর জন্য।
[caption id="attachment_165105" align="aligncenter" width="793"]
গিগু নামের এই স্কটিশ মুরগি ১০৭ কোটি টাকার মালিক[/caption]
ভাবছেন, পশুপাখিগুলির নামে কী ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট আছে? এত টাকা কীভাবে খরচ করা হয়? মারা গেলে টাকার কী হবে? আসলে এই সব ধনীরা তাঁদের পোষ্য পশুপাখির নামে একটা ট্রাস্ট গড়ে দিয়ে যান। সেই ট্রাস্ট এই তহবিল পরিচালনা করে।
এমনকি প্রয়োজন মতো রিয়েল এস্টেট ও শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে। গচ্ছিত টাকা খরচা করা হয় এই সব পোষ্যদের পিছনে। তারা মারা গেলে উত্তরাধিকার সূত্রে টাকা পায় তাদের সন্তানসন্ততিরা। সন্তানসন্ততি না থাকলে তহবিলের টাকা লাগানো হয় জনসেবার কাজে।
তবে শুধু ধনী পশুপাখিদেরই নয়, মানুষ ধনকুবেরদেরও চমকে দিয়েছে জার্মান শেফার্ড কুকুর 'গুন্ঠের-ফোর'। যার জীবনযাত্রাকে ইর্ষা করেন অনেক ধনী মানুষও। এইমুহূর্তে গুন্ঠের-ফোর ২৮৬৮ কোটি টাকার মালিক। বিশ্বাস না হলে আপনার হাতেই আছে ইন্টারনেট, আরও বিশদে জেনে নিন।
[caption id="attachment_165114" align="aligncenter" width="640"]
গুন্ঠের-ফোর[/caption]
মৃত্যুর আগে কাউন্টেস একটি অবিশ্বাস্য উইল করেন। তাঁর ৫৭৩ কোটি টাকার সম্পত্তি দিয়ে যান দীর্ঘদিনের সঙ্গী গুন্ঠের-থ্রি'কে। টাকাটা দেখভাল করার ভার দিয়ে যান একটি ট্রাস্টের হাতে।
গুন্ঠের-থ্রির মৃত্যুর পর টাকাটা পায় তার পুত্র গুন্ঠের-ফোর। ৫৭৩ কোটি টাকা এখন সুদক্ষ ট্রাস্টি বোর্ডের পরিচালনায় ও সঠিক বিনিয়োগে ফুলেফেঁপে হয়েছে ২৮৬৮ কোটি টাকা। যার একমাত্র মালিক গুন্ঠের-ফোর নামের কুকুরটি।
নিজের একটি প্রাসাদের সামনে গুন্ঠের-ফোর[/caption]
প্রাইভেট জেটে করে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন প্রাসাদে নিয়মিত ঘুরে বেড়ায় গুন্ঠের-ফোর। সঙ্গে থাকে একদল বডি গার্ড। রাস্তায় তার পা পড়ে না, কারণ সে চড়ে দামি লিমুজিনে। মাঝে মাঝে গুন্ঠের যায় সমুদ্রযাত্রায়, নিজস্ব বিলাসবহুল ইয়টে চড়ে।
গুন্ঠের-ফোরের প্রাসাদে তার জন্য আছে ম্যাসাজ পার্লার, নিজস্ব জিম ও সুইমিং পুল। আছে মাইনে করা নিজস্ব চিকিৎসক, পাচক, নিরাপত্তারক্ষী ও সুন্দরী সেবিকার দল। তার নিজস্ব 'মানুষ' কর্মীরা সর্বদাই তাকে চোখে চোখে রাখেন।
[caption id="attachment_165123" align="aligncenter" width="602"]
নিজস্ব সুইমিংপুল ও বডিগার্ডদের সামনে গুন্ঠের-ফোর[/caption]
মাঝে মাঝে ট্রাস্টিদের সঙ্গে নিলামে যায় গুন্ঠের-ফোর। নিলামে তার হয়ে অংশ নেন ট্রাস্টিরা। ২০০১ সালে ইতালির তুরিনে একটি নিলামে অংশগ্রহণ করে ৩০ লক্ষ লিরা বা ৮ কোটি দিয়ে গুন্ঠের-ফোর কিনেছিল অত্যন্ত দুর্লভ ও দামি মাশরুম white truffle। গুন্ঠের-ফোরের প্রিয় খাবার মাছের ডিম 'ক্যাভিয়ার'। যার দাম কিলো প্রতি ২৫ লক্ষ টাকা। রোদে বেরোলেই গগলস লাগে তার। আজ পর্যন্ত তার গলায় চেন পরানোর হিম্মত হয়নি মানুষের।
[caption id="attachment_165126" align="aligncenter" width="627"]
প্রধান পাচক ও সেবিকাদের সঙ্গে গুন্ঠের-ফোর[/caption]
সমালোচকরা বলেন, কুকুরটিকে এক দেশ থেকে অন্য দেশের প্রাসাদে নিয়মিত ঘোরানো কুকুরটির মনের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর। একটা স্থায়ী থাকার জায়গা চাই তার। মানুষের বাচ্চাকে নিয়ে এটা করলে বাচ্চাটির মনের যে ক্ষতি হত, কুকুরটির ক্ষেত্রেও একই ক্ষতি হচ্ছে। কুকুরটির জীবনযাত্রা যতই রাজকীয় হোক না কেন। তাঁদের মতে গুন্ঠের-ফোরকে সামনে রেখে টাকার পাহাড় বানিয়ে চলেছে একদল মানুষ। আসলে তারাই ভোগ করছে সম্পত্তির স্বাদ।
[caption id="attachment_165127" align="aligncenter" width="850"]
নিজস্ব বিমানে সফরক্লান্ত গুন্ঠের-ফোর[/caption]
এমনিতেই গুন্ঠের-ফোর খুব মুডি, তার ওপর অতিরিক্ত প্রশ্রয় গুন্ঠের-ফোরের ব্যবহারে নেতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সমালোচকরা। কিন্তু গুন্ঠের-ফোরের ভক্তদের বক্তব্য পৃথিবীর ধনীতম পশুর ব্যবহার কি সাধারণ কুকুরের মতো হবে? রাজা রাজড়াদের ব্যবহার কবে আমআদমির মতো ছিল? বিতর্ক চলছে, তারই মধ্যে আপাতত খাসা আছে গুন্ঠের-ফোর, শখানেক 'মানুষ' কর্মীর ওপর প্রভুত্ব কায়েম করে।