
শেষ আপডেট: 25 November 2018 09:02
গুয়ে গ্রামে 'সাঙ্ঘা তেনজিং-এর মন্দির[/caption]
জানা যায়, সন্ন্যাসী সাঙ্ঘা তেনজিং জীবিত অবস্থাতেই নিজেকে মমি করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। চিন, জাপানেও বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের এরকম মমির খোঁজ পাওয়া গেছিল। বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের নিজেদেরকে মমি বানানোর প্রথাকে বলা হয় শোকুশিনবৎসু ( Sokushinbutsu)। মৃত্যুর বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই তাঁরা প্রস্তুতি নেন। খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ প্রায় ছেড়েই দেন। এক জায়গায় ধ্যানে মগ্ন থাকেন।
ধীরে ধীরে উপবিষ্ট অবস্থাতেই মৃত্যু হয় তাঁদের। শরীরের জলশুন্যতা ও হিমশীতল আবহাওয়ায় প্রাকৃতিক ভাবেই মমিতে পরিণত হন শ্রদ্ধেয় বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা। পেনসিল্ভেনিয়া ইউনিভার্সিটির আর্কিওলজি ও অ্যান্থ্রোপলজি মিউজিয়ামের স্কলার ভিক্টর মেয়ার মমিটি পরীক্ষা করে জানিয়েছিলেন, মমিটি খুব কম করে হলেও ৫০০ বছরের পুরানো।
[caption id="attachment_55339" align="aligncenter" width="702"]
গুয়ে গ্রামের মন্দিরে 'সাঙ্ঘা তেনজিং-এর মমি[/caption]
ইতিহাস থেকে জানা যায়, ধ্যানে মগ্ন থাকা অবস্থায় তেনজিং যখন বুদ্ধে বিলীন হয়ে গিয়েছিলেন তখন তাঁর বয়েস ছিল মাত্র ৪৫ বছর। বর্তমানে গুয়ে গ্রামে 'সাঙ্ঘা তেনজিং-এর মন্দির হয়েছে। সেই মন্দিরের ভেতরে রাখা কাচের বাক্সে সংরক্ষিত আছে ৫০০ বছর আগের মমিটি। গ্রামবাসীরা বৌদ্ধ সন্যাসীর মমিকে ঈশ্বর রূপে পুজো করেন। দেশ বিদেশের পর্যটকরা দেখতে আসেন সাঙ্ঘা তেনজিং-এর মমিটিকে।
মমি বলতেই মনে ভেসে ওঠে মিশরীয় সভ্যতা, ইনকা সভ্যতার মমিদের ছবি। কিন্তু ভারতেও মমি তৈরির প্রথা ছিল তা ভাবতেই অবাক লাগে। মিশরীয় সভ্যতায় মমি বানাতে মৃতদেহের শরীরে বিশেষ ধরনের রাসায়নিকের প্রলেপ লাগানো হতো। কিন্তু 'সাঙ্ঘা তেনজিং-এর মমিতে কোনও রাসায়নিকের প্রলেপ লাগানো হয়েনি। তবুও এত বছর ধরে এই মমি কিভাবে মাটির তলায় নিখুঁত ভাবে সংরক্ষিত ছিল সেটাও অবাক করে প্রত্নতত্ববিদদের। 'সাঙ্ঘা তেনজিং-এর মমিটিকে ঘিরে রয়েছে একটি রহস্যও। এখনও নাকি বাড়ছে মমিটির চুল এবং নখ। বিজ্ঞানীরা অবশ্য এটিকে ভক্তির আতিশয্য বলেছেন, মানতে নারাজ ভক্তরা।