
শেষ আপডেট: 16 March 2019 12:30
আমাজনের গ্রিন অ্যানাকোন্ডা[/caption]
দক্ষিণ আমেরিকার ৯ টি দেশের, ৫৫ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে রয়েছে বিশ্বের এই বৃহত্তম রেনফরেস্ট। বুক চিরে অ্যানাকোন্ডার মতই এঁকেবেঁকে এগিয়েছে আমাজন নদী। অরণ্যটির প্রায় ৬০% রয়েছে ব্রাজিলে, ১৩% রয়েছে পেরুতে এবং বাকি ২৭% রয়েছে কলম্বিয়া, ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর, বলিভিয়া, গায়ানা, সুরিনাম এবং ফরাসি গায়ানাতে।
[caption id="attachment_87351" align="aligncenter" width="702"]
আমাজন অরণ্যের বুক চিরে এগিয়েছে আমাজন নদী[/caption]
আজ থেকে পাঁচ কোটি পঞ্চান্ন লক্ষ বছর আগে, ইয়োসিন ( Eocene) যুগে আমাজন অরণ্যের সৃষ্টি হয়েছিল। একদম বিরল জাতের প্রাণী, উদ্ভিদ ও পতঙ্গদের বাসভূমি এই আমাজন। যাদের মধ্যে বেশিরভাগ প্রজাতিই আমাজন ছাড়া বিশ্বের অন্য কোথাও দেখতে পাওয়া যায় না।
এই সেই সুড়ঙ্গ-মানব (এটাই তার মুখের এক মাত্র ছবি)[/caption]
আমাজন অরণ্যের বুকে সভ্য জগতের এঁকে দেওয়া ক্ষত[/caption]
জঙ্গলের ভেতরে থাকা উপজাতিদের থেকে কৃষি জমি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। অনেক আদিম জনগোষ্ঠীর মানুষদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়। কিছু উপজাতি, আমাজনের আরও গভীরে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। হিংস্র বন্যপ্রাণী ও সাপের সঙ্গে টিকে থাকার লড়াই শুরু করে।
১৯৯৫ সালে শেষবারের মতো লোভী কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আক্রমণ করে আদিম জনজাতিদের। সেই সময় এই রহস্যময় সুড়ঙ্গ-মানবের উপজাতি দলটি আক্রমণের মুখে পড়েছিল। আদিম জীবন যাত্রায় অভ্যস্ত দলটি ছোট হয়ে গিয়েছিল আগেই। মাত্র ৬ জন ছিল শেষ দলটিতে। পাঁচজনই মারা পড়ে, ভাগ্যবলে বেঁচে যায় সুড়ঙ্গ-মানব। সেই আদিম উপজাতির দলের শেষ প্রতিনিধি।
[caption id="attachment_87386" align="aligncenter" width="702"]
সম্প্রতি তোলা হয়েছে সুড়ঙ্গ-মানবের এই ছবি। এখনও বেঁচে আছে সে।[/caption]
১৯৯৫ সাল থেকে ২৪ বছর ধরে একা ভয়াল ভয়ঙ্কর আমাজন অরণ্যে একা বেঁচে আসছে মানুষটি। কখনও তাকে জঙ্গলের বাইরে আসতে দেখেনি কেউ। বছরের পর বছর জঙ্গলে পড়ে থেকেও ফটোগ্রাফাররা তার একটির বেশি ছবি তুলতে পারেনি। আর তুলেছে একটি ভিডিও। ভিডিও থেকেই ছবি বের করে গবেষণা চালাচ্ছেন গবেষকরা।
জঙ্গলের ভিতর ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সুড়ঙ্গ-মানবের তৈরি করা সুড়ঙ্গ[/caption]
এই কড়া নিষেধাজ্ঞার জন্য, কেউ জানে না মানুষটির নাম। তার গোষ্ঠীর নাম। কিন্তু একটা জিনিস জানা গেছে, মানুষটি আমাজন অরণ্যের ভিতর সুড়ঙ্গ কেটে রেখেছে। সুড়ঙ্গ-মানব জীবিত আছে কিনা জানতে রহস্যময় এলাকাটিতে গিয়েছিলেন FUNAI সংস্থাটির কিছু কর্মী। তাঁরা দেখেছেন বিরাট এলাকা জুড়ে কয়েকশো গভীর গর্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। গবেষকরা মনে করছেন গর্তগুলি পশু ধরার ফাঁদ।
মানুষটি খাদ্যের জন্য আদিম পদ্ধতিতে পশু শিকার করে চলেছে। অনেক গর্ত সুড়ঙ্গের মত অনেক দূরে চলে গেছে। বিপদের হাত থেকে বাঁচতে ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বসবাস করার জন্য, সুড়ঙ্গ-মানব সম্ভবত সেই সুড়ঙ্গগুলি বানিয়ে নিয়েছে।
[caption id="attachment_87360" align="aligncenter" width="660"]
ভিডিওতে ধরা পড়েছে সুড়ঙ্গ-মানবের কাজ করার ছবি[/caption]
ছোট্ট ঘাসে ছাওয়া কুঁড়ে ঘর বানিয়েছে সুড়ঙ্গ মানব, তবে থাকে সুড়ঙ্গেই[/caption]
বড় বড় গাছে শিম্পাঞ্জীর দক্ষতায় তরতরিয়ে ওঠে সে। পরনে বস্ত্র বলতে, এক চিলতে পশুর ছাল। FUNAI জানিয়েছে, কঠিন ও ভয়ঙ্কর পরিবেশে আদিম মানবের মতোই মানিয়ে নিয়েছে সুড়ঙ্গ-মানব। সংস্থার কর্মীরা ঘাসের কুঁড়েটির সামনে অসংখ্য হাতে তৈরি আদিম যন্ত্রপাতিও দেখতে পেয়েছেন। মানুষটির স্বাধীনতা ও তার বিচরণ এলাকা সুরক্ষিত রাখার জন্য FUNAI তার জন্য সংরক্ষিত এলাকার পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সেখানে প্রবেশ কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ।
সংরক্ষিত এলাকায় সাধারণের প্রবেশ কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে[/caption]
সুড়ঙ্গ-মানবের ছবি তুলতে পারলেই এখন কোটিপতি হওয়ার সুযোগ। সেই ভয়ও পাচ্ছে সংস্থাটি। একুশ শতকে এসেও হেলায় সভ্যতার আলো থেকে মুখ ফিরিয়ে আমাজনের অন্ধকারকে বেছে নিয়েছে সুড়ঙ্গ-মানব। ২০০০০ বছর আগে যে ভাবে বাঁচত তার পুর্বপুরুষ, ২০১৯ সালে সে ভাবেই বাঁচছে সুড়ঙ্গ-মানব।
সুড়ঙ্গ-মানব ভয় পায় না জাগুয়ার কিংবা অ্যানাকোন্ডাকে। তার ভয় সভ্য জগতের মানুষকে। যারা, তার বাবা-মা-ভাই-বোন-স্ত্রী এমনকী দুধের শিশুদেরও মেরে ফেলেছে। যে জমাট ব্যথা বুকে নিয়ে আমাজনের গভীরে ঘুরে বেড়ায় সুড়ঙ্গ-মানব,তা কোনও দিন সভ্য জগত জানতে পারবে না। এক বুক হতাশা আর অভিমান নিয়ে, আমাজন অরণ্যের জমাট অন্ধকারেই চিরতরে হারিয়ে যাবে নিঃসঙ্গ সুড়ঙ্গ-মানব।