
শেষ আপডেট: 7 April 2020 05:27
লেক নেট্রন[/caption]
স্ট্যাচু হয়ে গেছে ‘মেছো ঈগল’[/caption]
বিস্ময়ের ঘোর কাটার পর নিক আবার তীর বরাবর হাটঁতে শুরু করেছিলেন। নিকের ক্যামেরায় ধরা পড়তে শুরু করেছিল ভয়াবহ কিছু ছবি। পাথর হয়ে যাওয়া বিভিন্ন পাখির ছবি। পাখিগুলির মধ্যে ছিল মেছো ইগল, মাছরাঙা, চড়াই, রাজহাঁস ও আরও কত শত নাম না জানা পাখি আর বাদুড়। কোনও ভাবে তারা এই খুনি হ্রদের জল ছুঁয়েছিল। ছোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবন্ত অবস্থাতেই পাথর হয়ে গিয়েছিল পুরাণের অহল্যার মত।
প্রত্যেকটি প্রাণীর দেহ এত নিখুঁতভাবে জমে গিয়েছি, মনে হবে, প্রকৃতির কর্মশালায়, কোনও অশরীরী ভাস্কর বুঝি পাথর খোদাই করে স্ট্যাচুগুলি বানিয়ে রেখেছেন। হ্রদের তীরে মুখ গুঁজে মরে থাকা গাছের প্রাণহীন ডালে, পাথর হয়ে যাওয়া পাখি ও বাদুড়দের বসিয়ে ছবি তুলেছিলেন নিক। অসহায়ভাবে প্রাণ হারানো প্রাণীগুলি ক্ষনিকের জন্য বুঝি মৃত্যুনদীর ওপার থেকে এপারে ফিরে এসেছিল।
[caption id="attachment_205657" align="aligncenter" width="800"]
আরেকটি হতভাগ্য পাখির পাথর হয়ে যাওয়া দেহ।[/caption]
নিক তাঁর বইয়ে এ প্রসঙ্গে লিখেছিলেন, “আমি ওদের কয়েক মিনিটের জন্য জীবন্ত করতে চেয়েছিলাম। ওরা হ্রদটির পাশে থাকা গাছের ডালে বা পাথরে যেভাবে বসে থাকত, সেভাবেই ওদের বসিয়ে দিয়েছিলাম। ছবি তুলেছিলাম। ক্যামেরার ভিউ-ফাইন্ডারে ওদের একেবারে জীবন্ত লাগছিল।" নিকের তোলা ছবিগুলি 'অ্যালাইভ এগেইন ইন ডেথ' শিরোনামে বিশ্ব জুড়ে সাড়া ফেলে দিয়েছিল।
নিক ব্র্যান্ডট[/caption]
প্রচুর সোডিয়াম ও কার্বোনেট যুক্ত ট্র্যাকাইট লাভা দিয়ে প্লিসটোসিন যুগে তৈরি হয়েছিল এই নেট্রন হ্রদের তলদেশ। ফলে লেকের জলে ক্ষারের পরিমাণ থাকে অস্বাভাবিক। হ্রদটিতে নেমে আসা জল দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে যায়। হ্রদের মধ্যে তরলাকারে পড়ে থাকে কেবল নেট্রন (সোডিয়াম কার্বোনেট ডেকাহাইড্রেট) আর ট্রনা (সোডিয়াম সেসকুইকারবোনেট ডাইহাইড্রেট) নামের রাসায়নিক যৌগ দুটি।
'নেট্রন' হ্রদের জলে বাস করে সায়ানোব্যাকটেরিয়া। লেকের জলে ক্ষারের মাত্রা যত বাড়ে, তত বংশবৃদ্ধি হয় সায়ানোব্যাকটেরিয়ার। এই ব্যাকটেরিয়ার শরীরে থাকা লাল রঞ্জক পদার্থের জন্য কখনও কখনও নেট্রন লেকের জল হয় রক্তের মতো লাল। পাড়ের দিকে জলের রঙ হয় হালকা গোলাপি।
[caption id="attachment_205667" align="aligncenter" width="900"]
স্ট্যাচু হয়ে যাওয়া বাদুড়।[/caption]
লম্বা লম্বা পা ফেলে লেকের জলে নির্ভয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে লেসার ফ্লেমিঙ্গোরা।[/caption]
ন্যাট্রন লেকের জলে ফ্লেমিঙ্গোদের স্ট্যাচু কিন্তু খুব বেশি খুঁজে পাওয়া যায় নি। তাই মনে করা হচ্ছে লেক ন্যাট্রনের খুনে চরিত্রটা তাদের জানা। তাই তারা লেকটির অগভীর জলে ঘুরে বেড়ায়। লেসার ফ্লেমিঙ্গোদের লম্বা লম্বা পা তাদের দেহকে জল থেকে অনেকটা ওপরে রাখে। ফলে হ্রদের জলে থাকা সোডা আর নুনের যুগলবন্দী এ পর্যন্ত খুব বেশি ফ্লেমিঙ্গো স্ট্যাচু বানাতে পারেনি।
খুনি হ্রদের পাথরে মমি হয়ে বসে আছে এক পাখি।[/caption]
বেশিরভাগ পাখি জলে আছড়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মারা গিয়েছিল। কোনও কোনও পাখি বা বাদুড় অতিকষ্টে হ্রদের জল থেকে উঠে এসেছিল পাড়ে। কিন্তু ভিজে শরীর যত শুকিয়েছিল, শরীর কামড়ে ধরেছিল সোডা আর নুন। মর্মান্তিক মৃত্যু যন্ত্রণা অনুভব করতে করতে, এক সময় জীবন্ত অবস্থাতেই প্রাণীগুলি স্ট্যাচু হয়ে গিয়েছিল, প্রকৃতির গ্যালারিতে।
ছবি- Nick Brandt