Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

লেক নেট্রন, যেখানে স্ট্যাচু হয়ে যায় জীবন্ত পাখিরা

রূপাঞ্জন গোস্বামী আফ্রিকায় ছবি তুলতে গিয়েছিলেন বিখ্যাত ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার নিক ব্রান্ড। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ছবি তুলে, তানজানিয়ায় এসেছিলেন 'ওল ডইনিও লেঙ্গাই' পর্বতের ছবি তোলার জন্য। লেঙ্গাই পাহাড়টি একটি সক্রিয় আগেয়গিরি। যেটি মূলত ‘নাইট

লেক নেট্রন, যেখানে স্ট্যাচু হয়ে যায় জীবন্ত পাখিরা

শেষ আপডেট: 7 April 2020 05:27

রূপাঞ্জন গোস্বামী
আফ্রিকায় ছবি তুলতে গিয়েছিলেন বিখ্যাত ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার নিক ব্রান্ড। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ছবি তুলে, তানজানিয়ায় এসেছিলেন 'ওল ডইনিও লেঙ্গাই' পর্বতের ছবি তোলার জন্য। লেঙ্গাই পাহাড়টি একটি সক্রিয় আগেয়গিরি। যেটি মূলত ‘নাইট্রোকার্বোনেট’ লাভার উদ্গীরণ ঘটায়। ক্যামেরা নিয়ে নিক উঠে গিয়েছিলেন লেঙ্গাই পাহাড়ে। আগেয়গিরিটির ওপর থেকেই তাঁর চোখে পড়েছিল একটি সুবিশাল হ্রদ। হ্রদের জলের অদ্ভুত রঙ, তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। পাহাড়ে সময় নষ্ট না করে, পাহাড় থেকে নেমে মন্ত্রমুগ্ধের মত এগিয়ে গিয়েছিলেন হ্রদটির দিকে। [caption id="attachment_205654" align="aligncenter" width="1000"] লেক নেট্রন[/caption]
হ্রদের কাছে পৌঁছে, তীর ধরে হাঁটতে গিয়ে চমকে উঠেছিলেন নিক
হ্রদের তীর বরাবর ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য পাখি আর বাদুড়ের স্ট্যাচু। কারা যেন নিঁখুতভাবে স্ট্যাচুগুলি তৈরি করার পর, নিতান্ত অবহেলায় সেগুলি ফেলে রেখে গেছে হ্রদের তীরে। একটি পাখির স্ট্যাচুকে হাতে তুলে নিয়েছিলেন নিক। স্ট্যাচুটি বেশ ভারি। স্ট্যাচু্টিকে খুঁটিয়ে দেখতে গিয়ে তাঁর মেরুদন্ড বরাবর যেন একটা হিমশীতল স্রোত বয়ে গিয়েছিল। নিক বুঝতে পেরেছিলেন যেটিকে তিনি স্ট্যাচু ভাবছেন, সেটি আদৌ কোনও স্ট্যাচু নয়। জীবন্ত অবস্থায় পাথর হয়ে যাওয়া একটি পাখির মমি। [caption id="attachment_205656" align="aligncenter" width="819"] স্ট্যাচু হয়ে গেছে ‘মেছো ঈগল’[/caption] বিস্ময়ের ঘোর কাটার পর নিক আবার তীর বরাবর হাটঁতে শুরু করেছিলেন। নিকের ক্যামেরায় ধরা পড়তে শুরু করেছিল ভয়াবহ কিছু ছবি। পাথর হয়ে যাওয়া বিভিন্ন পাখির ছবি। পাখিগুলির মধ্যে ছিল মেছো ইগল, মাছরাঙা, চড়াই, রাজহাঁস ও আরও কত শত নাম না জানা পাখি আর বাদুড়। কোনও ভাবে তারা এই খুনি হ্রদের জল ছুঁয়েছিল। ছোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবন্ত অবস্থাতেই পাথর হয়ে গিয়েছিল পুরাণের অহল্যার মত। প্রত্যেকটি প্রাণীর দেহ এত নিখুঁতভাবে জমে গিয়েছি, মনে হবে, প্রকৃতির কর্মশালায়, কোনও অশরীরী ভাস্কর বুঝি পাথর খোদাই করে স্ট্যাচুগুলি বানিয়ে রেখেছেন। হ্রদের তীরে মুখ গুঁজে মরে থাকা গাছের প্রাণহীন ডালে, পাথর হয়ে যাওয়া পাখি ও বাদুড়দের বসিয়ে ছবি তুলেছিলেন নিক। অসহায়ভাবে প্রাণ হারানো প্রাণীগুলি ক্ষনিকের জন্য বুঝি মৃত্যুনদীর ওপার থেকে এপারে ফিরে এসেছিল। [caption id="attachment_205657" align="aligncenter" width="800"] আরেকটি হতভাগ্য পাখির পাথর হয়ে যাওয়া দেহ।[/caption] নিক তাঁর বইয়ে এ প্রসঙ্গে লিখেছিলেন, “আমি ওদের কয়েক মিনিটের জন্য জীবন্ত করতে চেয়েছিলাম। ওরা হ্রদটির পাশে থাকা গাছের ডালে বা পাথরে যেভাবে বসে থাকত, সেভাবেই ওদের বসিয়ে দিয়েছিলাম। ছবি তুলেছিলাম। ক্যামেরার ভিউ-ফাইন্ডারে ওদের একেবারে জীবন্ত লাগছিল।" নিকের তোলা ছবিগুলি 'অ্যালাইভ এগেইন ইন ডেথ' শিরোনামে বিশ্ব জুড়ে সাড়া ফেলে দিয়েছিল।
নিকের জিপিএস ডিভাইস জানিয়ে ছিল খুনি হ্রদটার নাম 'নেট্রন'
তানজানিয়ার আরুশা এলাকার গ্রেগরি রিফটে, শিকারের অপেক্ষায় শুয়ে আছে এই ভয়াবহ হ্রদ 'নেট্রন'। নেট্রন লেকটি দৈর্ঘে ৫৭ কিমি ও প্রস্থে ২২ কিমি। জলের গভীরতা মাত্র ১০ ফুট। মধ্য কেনিয়া থেকে তানজানিয়ায় ঢুকে পড়া 'এওয়াসো নাইরো' নদীর জল এসে পড়ে নেট্রন হ্রদে। এছাড়াও আশেপাশের বিভিন্ন উষ্ণপ্রস্রবণ থেকে লেকে নেমে আসে জল, যা বিভিন্ন খনিজ পদার্থে ভরপুর। ফলে বছরের বেশিরভাগ সময় লেকের জলের তাপমাত্রা থাকে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। [caption id="attachment_205660" align="aligncenter" width="1280"] নিক ব্র্যান্ডট[/caption] প্রচুর সোডিয়াম ও কার্বোনেট যুক্ত ট্র্যাকাইট লাভা দিয়ে প্লিসটোসিন যুগে তৈরি হয়েছিল এই নেট্রন হ্রদের তলদেশ। ফলে লেকের জলে ক্ষারের পরিমাণ থাকে অস্বাভাবিক। হ্রদটিতে নেমে আসা জল দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে যায়। হ্রদের মধ্যে তরলাকারে পড়ে থাকে কেবল নেট্রন (সোডিয়াম কার্বোনেট ডেকাহাইড্রেট) আর ট্রনা (সোডিয়াম সেসকুইকারবোনেট ডাইহাইড্রেট) নামের রাসায়নিক যৌগ দুটি। 'নেট্রন' হ্রদের জলে বাস করে সায়ানোব্যাকটেরিয়া। লেকের জলে ক্ষারের মাত্রা যত বাড়ে, তত বংশবৃদ্ধি হয় সায়ানোব্যাকটেরিয়ার। এই ব্যাকটেরিয়ার শরীরে থাকা লাল রঞ্জক পদার্থের জন্য কখনও কখনও নেট্রন লেকের জল হয় রক্তের মতো লাল। পাড়ের দিকে জলের রঙ হয় হালকা গোলাপি। [caption id="attachment_205667" align="aligncenter" width="900"] স্ট্যাচু হয়ে যাওয়া বাদুড়।[/caption]
খুনি হ্রদ নেট্রনই আবার জীবনে ফেরায় ফ্লেমিঙ্গোদের
অবাক হওয়ার মত আরেকটি ঘটনা ঘটে এই নেট্রন হ্রদেই। প্রায় ২৫ লক্ষ লেসার ফ্লেমিঙ্গো হ্রদটিকে ঘিরে বাস করে। কারণ এই লেকের অগভীর জলে মেলে প্রচুর নীলাভ-সবুজ শৈবাল। পৃথিবীর অনান্য জায়গায় বিপন্ন হয়ে পড়া লেসার ফ্লেমিঙ্গোরা এই শৈবাল খেয়ে বেঁচে থাকে। লম্বা লম্বা পা ফেলে তারা লেকের অগভীর জলে নির্ভয়ে ঘুরে বেড়ায়। কারণ, এই লেক ন্যাট্রনের খুনি চরিত্র ও চরম আবহাওয়া অনান্য শিকারী পশুপাখিদের লেকটি থেকে দূরে রাখে। ফলে লেসার ফ্লেমিঙ্গোরা নিশ্চিন্তে বংশবৃদ্ধি করতে পারে। পূর্ব আফ্রিকার লেসার ফ্লেমিঙ্গোদের সবচেয়ে বড় প্রজনন ক্ষেত্র এই লেক ন্যাট্রন। [caption id="attachment_205661" align="aligncenter" width="1024"] লম্বা লম্বা পা ফেলে লেকের জলে নির্ভয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে লেসার ফ্লেমিঙ্গোরা।[/caption] ন্যাট্রন লেকের জলে ফ্লেমিঙ্গোদের স্ট্যাচু কিন্তু খুব বেশি খুঁজে পাওয়া যায় নি। তাই মনে করা হচ্ছে লেক ন্যাট্রনের খুনে চরিত্রটা তাদের জানা। তাই তারা লেকটির অগভীর জলে ঘুরে বেড়ায়। লেসার ফ্লেমিঙ্গোদের লম্বা লম্বা পা তাদের দেহকে জল থেকে অনেকটা ওপরে রাখে। ফলে হ্রদের জলে থাকা সোডা আর নুনের যুগলবন্দী এ পর্যন্ত খুব বেশি ফ্লেমিঙ্গো স্ট্যাচু বানাতে পারেনি।
কিন্তু, কীভাবে স্ট্যাচু হয়ে গিয়েছিল পাখী ও বাদুড়গুলি!
কীভাবে এতগুলি প্রাণী জীবন্ত স্ট্যাচু হয়ে গিয়েছিল, তা কেউ জানে না বা দেখেনি। কিন্তু বিজ্ঞানীরা অনুমান করছেন, সূর্যের রশ্মি হ্রদের গাঢ় জল থেকে আয়নার মত প্রতিফলিত হয়েছিল। লেক থেকে ঠিকরে আসা সূর্যরশ্মি পড়েছিল লেকের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া পাখিদের চোখে। চোখ ধাঁধিয়ে বা বিভ্রান্ত হয়ে লেকের জলে আছড়ে পড়েছিল পাখি ও বাদুড়গুলি। লেকের জলে থাকা ঘন সোডা আর নুন প্রাণীগুলির শরীরে লেগে গিয়েছিল। [caption id="attachment_205663" align="aligncenter" width="900"] খুনি হ্রদের পাথরে মমি হয়ে বসে আছে এক পাখি।[/caption] বেশিরভাগ পাখি জলে আছড়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মারা গিয়েছিল। কোনও কোনও পাখি বা বাদুড় অতিকষ্টে হ্রদের জল থেকে উঠে এসেছিল পাড়ে। কিন্তু ভিজে শরীর যত শুকিয়েছিল, শরীর কামড়ে ধরেছিল সোডা আর নুন। মর্মান্তিক মৃত্যু যন্ত্রণা অনুভব করতে করতে, এক সময় জীবন্ত অবস্থাতেই প্রাণীগুলি স্ট্যাচু হয়ে গিয়েছিল, প্রকৃতির গ্যালারিতে। ছবি- Nick Brandt

```