
শেষ আপডেট: 5 April 2021 15:13
সমুদ্রের ত্রাস সাদা হাঙর।[/caption]
হাঙরদের ত্রাস খুনে তিমি।[/caption]
বিচিত্র পদ্ধতিতে সাদা হাঙরদের হত্যা করে খুনে তিমিরা
খুনে তিমিদের হাঙর খুন করার ঘটনা, প্রথম নজরে এসেছিল ১৯৯৭ সালে। ফারালোনসের সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে একজন মৎসজীবী ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছিলেন। তিনি দেখেছিলেন এক জোড়া খুনে তিমি আক্রমণ করেছিল একটি অতিকায় সাদা হাঙরকে। যেটি তীরের কাছে একটি সি-লায়ন শিকার করে মহানন্দে ভোজ সারছিল।
মৎসজীবী দেখেছিলেন খুনে-তিমি দুটি প্রথমেই সাদা হাঙরের পেট তাদের ধারালো দাঁত দিয়ে ফাঁসিয়ে দিয়েছিল। তারপর হাঙরের দুপাশে দুটি তিমি চলে গিয়ে, দু’দিক থেকে পিষতে শুরু করেছিল সাদা হাঙরটিকে। পিছন দিক থেকে সামনের দিকে ক্রমাগত চাপ দিতে শুরু করেছিল। ঠিক যেরকমভাবে আমরা প্রায় ফুরিয়ে আসা টুথপেস্ট থেকে পেস্ট বার করি।
অল্পসময়ের মধ্যেই হাঙরটির পেটের ফেঁসে যাওয়া অংশ দিয়ে নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে এসেছিল। বেরিয়ে এসেছিল হতভাগ্য হাঙরটির লিভার, যার গন্ধ পেয়ে তিমি দুটি উন্মত্ত হয়ে উঠেছিল। হাঙরের প্রকাণ্ড লিভারটি তিমি দুটি ছিঁড়ে খুঁড়ে খেয়ে নিয়েছিল কয়েক মুহূর্তের মধ্যে। তারপর মৃত হাঙরটিকে ছেড়ে, বেরিয়ে পড়েছিল অন্য হাঙরের সন্ধানে। পেট ফাঁসা মৃত সাদা হাঙরটি ডুবে গিয়েছিল সমুদ্রের অতলে।
বিজ্ঞানী সালভাদর জরগেনসেন[/caption]
জরগেনসেনের টিম লক্ষ্য করেছিল, সাদা হাঙরদের সুখের জীবন ভয়াবহ হয়ে ওঠে, যখন এলাকায় প্রবেশ করে খুনে-তিমিরা। মূর্তিমান বিভীষিকা সাদা হাঙরের দল নিজেরাই আতঙ্কিত হয়ে এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। খুনে-তিমিদের মুখোমুখি হওয়ার সামান্যতম সম্ভাবনাও রাখতে চায় না সাদা হাঙরেরা। দুই মাইল দূর থেকে খুনে তিমির গন্ধ একবার পেলেই গন্ধের উৎসের উল্টোদিকে উল্কাগতিতে পালিয়ে যায়। সেই মরসুমে ওই এলাকায় আর ফিরে আসে না সত্যিই তো, কে এই পৃথিবীতে যেচে কে আর অন্যের মুখের গ্রাস হতে চায়।
বিজ্ঞানী জরগেনসেন গবেষণা করতে গিয়ে একটা অদ্ভুত তথ্য আবিষ্কার করেছিলেন। তিনি দেখেছিলেন, ফারালোনসের সমুদ্র এলাকায়, একটি সাদা হাঙর বছরে গড়পড়তা ৪০টি এলিফ্যান্ট সিল খায়। ২০০৯, ২০১০, ২০১৩, এই তিন বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছিল, ওই বছরগুলিতে খুনে তিমিরা এলাকায় আসায় সিলেদের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছিল। এর অর্থ, সিলেদের প্রধান খাদক সাদা হাঙরেরা খুনে-তিমিদের আতঙ্কে ওই বছরগুলিতে এলাকা ছাড়া হয়েছিল বলে সিলেদের সংখ্যা নির্বিঘ্নে বেড়েছিল।
[caption id="attachment_204302" align="alignnone" width="700"]
সমুদ্রতটে পড়ে আছে পেট ফাঁসা হাঙর।[/caption]
সে যাই হোক, ডাঙায় যতই গবেষণা চলুক, থামেনি সমুদ্রের অতলে খুনোখুনি। দক্ষিণ আফ্রিকার সমুদ্রতীরে ২০১৭ সালে পাঁচটা সাদা হাঙরের মৃতদেহ মিলেছিল। একটারও শরীরে লিভার ছিল না। খুনে তিমিরা সাদা হাঙরদের শরীরে নিখুঁতভাবে সার্জারি চালিয়ে কেটে নিয়েছিল লিভার। সমুদ্রের সবচেয়ে নৃশংসতম খুনি সাদা হাঙরেরা আজও অকাতরে খুন হয়ে যাচ্ছে আরও নৃশংস একদল খুনির হাতে। আসলে এর পিছনে আছে প্রকৃতির কারসাজি। সমুদ্রের জীববৈচিত্র,খাদ্যশৃঙ্খল ও বাস্তুতন্ত্রকে বাঁচাতে এই খুনোখুনি ছাড়া প্রকৃতির হাতে আর অন্য কোনও সমাধান নেই।