Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

চিনের যুদ্ধক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভারত তো দূরঅস্ত আমেরিকার চুল খাড়া

ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় চিনের নৌবহর ও আকাশযুদ্ধের প্রস্তুতি ও একের পর এক মহড়া প্রচ্ছন্নভাবে ওয়াশিংটনকেই হুঁশিয়ারি

চিনের যুদ্ধক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভারত তো দূরঅস্ত আমেরিকার চুল খাড়া

ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকা হল বিশ্বের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ আর্থ-রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল।

শেষ আপডেট: 4 March 2025 13:38

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার উপর শুধু প্রত্যক্ষ বাণিজ্যযুদ্ধ চালানোই নয়, সামরিক দিক থেকেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'সর্বশক্তিমান' সরকারের বিরুদ্ধে সামরিক খবরদারিও শুরু করে দিয়েছে চিন। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় চিনের নৌবহর ও আকাশযুদ্ধের প্রস্তুতি ও একের পর এক মহড়া প্রচ্ছন্নভাবে ওয়াশিংটনকেই হুঁশিয়ারি বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকা হল বিশ্বের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ আর্থ-রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। যে অঞ্চলের শান্তিপূর্ণ ভাগ্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারতেরও ভবিষ্যৎ।

বেশ কিছুদিন থেকেই চিন অস্ত্র প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে চলেছে, বিশেষত আমেরিকার সঙ্গে। অত্যন্ত দ্রুত পিপলস লিবারেশন আর্মি বা লালফৌজ ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করে চলেছে। যা শুধু ভারতের পক্ষেই নয়, গোটা বিশ্বের পক্ষেই অত্যন্ত ভয়জনক। এই অঞ্চলটি হল ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের মিলিত এলাকা। এই এলাকায় বিশ্বের ৬৫ শতাংশ মহাসাগরীয় ও ২৫ শতাংশ ভূমিখণ্ড রয়েছে। এর থেকেও বড় কথা এই অঞ্চলেই বিশ্বের অর্ধেকের বেশি জনসংখ্যা রয়েছে এবং যার ৫৮ শতাংশই যুবশ্রেণি।

এই অঞ্চলই বিশ্বের ৬০ শতাংশ গড় উৎপাদন, ৬৫ শতাংশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং দুই-তৃতীয়াংশ আর্থিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। ভারতের কাছে এই অঞ্চলের শান্তি-সুস্থিতি থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইজরায়েল ও ব্রিটেন ছাড়া সব পরমাণু শক্তিধর দেশ এই অঞ্চলের মধ্যে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে চলতি দ্বিতীয় ঠান্ডাযুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমী জোটের সঙ্গে চিনের স্নায়ুর লড়াইয়ে এই অঞ্চলটিই লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি চিন আগ্রাসী মনোভাবে তাদের নৌ ও বায়ুসেনার শক্তি বৃদ্ধি করে চলেছে। যা এই অঞ্চলে চিরাচরিত মার্কিন প্রতিপত্তিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ঠুকে দিয়েছে। এর মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হল অনেক উঁচু দিয়ে উড়তে পারা ডব্লুজেড-৯ ড্রোন মোতায়েন এবং পরমাণু ক্ষমতাসম্পন্ন বিশাল জাহাজ নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা। ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের মতে, চিন গভীর সমুদ্রের উপযুক্ত নৌবহরে ক্ষমতাসম্পন্ন হয়ে উঠছে, যা সাধারণ উপকূলীয় শক্তির চেয়ে বহুগুণ বেশি।

ডব্লুজেড-৯ ড্রোন ও আকাশপথে নজরদারির ভবিষ্যৎ

অন্যান্য সাধারণ ড্রোনের তুলনায় অনেক বেশি উচ্চতায় ওড়ার ক্ষমতাসম্পন্ন এই নজরদারি ড্রোন মোতায়েন করে অনেকেরই ঘুম কেড়ে নিয়েছে কমিউনিস্ট সেনাবাহিনী। এই অত্যাধুনিক ড্রোনে রয়েছে গুপ্তঘাতক, মারণাস্ত্রবাহী যুদ্ধবিমানকে চিহ্নিত করার সেন্সর। এই সেন্সরের সাহায্যেই আকাশপথে যে কোনও হামলা অনেক আগে থেকে চিনে ফেলা সম্ভব। আমেরিকার কাছেও আধুনিক প্রযুক্তির অনেক ড্রোন রয়েছে, যার ভরসায় তারা গুপ্ত তথ্য সংগ্রহের কাজ করে। কিন্তু, চিনের এই ড্রোন আমেরিকার সেই ড্রোনের পাল্লায় যে খামতি ছিল, তা পূরণ করে আরও কয়েক কদম এগিয়ে গিয়েছে।
একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ডব্লুজেড-৯ এবং ডব্লুজেড-৭ একযোগে বহু উচ্চতা থেকে আকাশপথ সুরক্ষায় কাজ করছে। এই দুই ড্রোনই মার্কিন ও তাদের জোটশক্তির যে কোনও আকাশপথে হামলা আগে থেকেই ট্র্যাক করে ফেলতে পারে। বিশেষত নিঃশব্দে চলা মারণাস্ত্রবাহী এফ-২২ ও এফ-৩৫ জাতীয় বোমারু বিমানেরও চলাচলের উপর শ্যেন নজরদারি করতে পারে। মার্কিন সমরবিভাগের সদর দফতর পেন্টাগনও চিনের এই ক্ষমতার কথা মেনে নিয়েছে। 

ডব্লুজেড-৯ দক্ষিণ চিন সাগরে ঘোরাফেরা করতে থাকায় তা জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং ফিলিপিন্সের পক্ষে গুরুতর দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে। কেননা, এই তিন দেশসহ অনেকেই মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের উপর নির্ভরশীল। একই সঙ্গে চিনের সমুদ্রশক্তি বৃদ্ধিতেও এই অঞ্চলের শক্তি ভারসাম্যে দোলাচল তৈরি করেছে। দ্য কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস নির্দিষ্ট করে জানিয়েছে, চিনের এই সামরিক শক্তিবৃদ্ধি কেবলমাত্র আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণ হাতে নেওয়ার জন্য নয়। বরং আন্তর্জাতিক মঞ্চে পশ্চিমী কর্তাদের সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানানোর লক্ষ্যে।

চিনের ক্রমবর্ধমান নৌশক্তি বৃদ্ধি

সম্প্রতি উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে আমেরিকা টের পেয়েছে চিন কীভাবে ভিতরে ভিতরে নৌবাহিনীতে বিশাল শক্তি সঞ্চয় করতে চলেছে। তারা বর্তমানে পরমাণু ক্ষমতাধর সুপার ক্যারিয়ার যুদ্ধ জাহাজ প্রকল্প নিয়ে কাজ দ্রুত এদিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমেরিকার সংবাদমাধ্যম এনবিসি জানিয়েছে, সেই যুদ্ধজাহাজের সম্ভাব্য নাম হতে পারে টাইপ ০০৪। যদি এই প্রকল্প সম্পূর্ণ হয়ে যায়, তাহলে তা আমেরিকার জেরাল্ড আর ফোর্ড ক্লাস জাহাজের সমকক্ষ হয়ে যাবে।

এই জাহাজে রয়েছে অত্যাধুনিক ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ক্যাটাপুল্ট লঞ্চ সিস্টেম। এর ফলে বিমানবাহী এই জাহাজ থেকে অত্যন্ত দ্রুত ভারী বিমান ওঠানামা করতে পারবে। যার মধ্যে স্টেলথ বোমারু বিমান ও ড্রোনও বয়ে নিয়ে যেতে পারবে। পরমাণু জ্বালানিচালিত এই নৌবহর মহাসাগরীয় যুদ্ধে অনেক দূর এবং অনেক বেশি সময় চলাচলের উপযোগী হয়ে উঠবে। আর সে কারণেই চিনের একযোগে আকাশ ও নৌসেনা বহরের প্রযুক্তিগত উন্নতিতে আমেরিকা পর্যন্ত গভীর উদ্বেগে পড়েছে।


```