
শেষ আপডেট: 31 October 2018 11:54
চিরদিনই চিনে গন্ডার এবং বাঘের দেহের বিভিন্ন অংশের চাহিদা আকাশছোঁয়া। কারণ চিনের প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতিতে ওষুধ হিসেবে এগুলির ব্যবহার হয়ে আসছে। সেই প্রাচীনকাল থেকেই জ্বর, বাত, অনিদ্রা, মেনিনজাইটিস রোগে বাঘের দেহের বিভিন্ন অংশ ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। যৌনক্ষমতা বাড়ানোর জন্য গন্ডারের খড়গ চূর্ণ ব্যবহার করা হয়। যদিও এর সাফল্য প্রমাণিত নয়। শুধু ওষুধ হিসেবে নয়, এই দুটি প্রাণীর দেহাংশকে 'অ্যান্টিক' আখ্যা দিয়ে চিন জানিয়েছে , সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও গন্ডার এবং বাঘের দেহের বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এর জন্য লাগবে চিনের সংস্কৃতি মন্ত্রকের অনুমোদন। কিন্তু পৃথিবীর বন্যপ্রাণ রক্ষার নিয়ামক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ড ফান্ড চিনের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে জানিয়েছে, এই চিনের সিদ্ধান্ত ' ভয়াবহ পরিণাম' দিতে চলেছে। এবং এটা বন্যপ্রাণী রক্ষার আন্দোলনের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত এক আঘাত।
যদি এটি অ্যান্টিক বলে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা হয়েছে। তবুও বাঘ ও গন্ডারের দেহাংশের অবৈধ ব্যবসা ফুলেফেঁপে উঠবে। হাসপাতাল ও চিকিৎসক ছাড়াও প্রচুর মানুষের কাছে বাঘ ও গন্ডারের দেহাংশ পৌঁছে যাবে চোরাপথে। চোরা শিকার আর বন্যপ্রাণীর অবৈধ ব্যবসা নিয়ে লেখা, Poached: Inside The Dark World of Wildlife Trafficking বইটির লেখিকা রেচেল নুয়ার চিনের এই সিদ্ধান্তে হতবাক হয়ে টুইট করেছেন, "পৃথিবীতে ৩০০০০ গন্ডার আর ৪০০০ বাঘের খেলা শেষ"। রেচেল বলেছেন এরপর আইনত endangered species কে চিন বেআইনি ভাবে হত্যা করে আইনের ছাপ লাগিয়ে ব্যবসা করবে।
এমনিতেই বন্যপ্রাণী ও তাদের সংরক্ষণ নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে চিনের অনেক দুর্নাম আছে। চিন নাকি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্বেও লুকিয়ে বাঘের ক্লোনিং করে। চিনে নাকি বাঘের ফার্ম আছে। সেখানে শুয়োর মুরগির মতো বাঘের চাষ করা হয়, হাড় আর মাংস আর চামড়ার জন্য। সত্যি-মিথ্যা প্রমাণিত হবার প্রশ্নই নেই। কারণ চিনের দ্বার বাকি বিশ্বের মতো অবারিত নয়। কিন্তু গন্ডার আর বাঘের দেহাংশ নিয়ে ব্যবসার অনুমতি দিয়ে চিন সন্দেহের তীরটা নিজের দিকেই টেনে নিলো।