শেষ আপডেট: 1 February 2020 09:50
শ্যামলেশ ঘোষ
আর একটু বড় হোন মেয়েরা। তার পর বিয়ে। চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই ঐকান্তিক চাওয়া ফুটে উঠেছে শনিবারের বাজেট প্রস্তাবে। বাজেট-বক্তৃতায় দেশের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন মেয়েদের বিবাহযোগ্য বয়স বাড়ানোর প্রস্তাব রেখেছেন। বিবাহযোগ্য বয়স হল, দেশের নাগরিকদের আইনগতভাবে বিয়ে করার অনুমতিপ্রাপ্তির নির্দিষ্ট বয়সসীমা। নির্মলা সীতারমন জানিয়েছেন, ১৯৭৮ পর্যন্ত মেয়েদের বিয়ের গড় বয়স ছিল ১৫। বর্তমানে তা ১৮ বছর। ১৮ বছর পূর্ণ হলেই চাইলে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে পারেন দেশের মেয়েরা। তবে আগামীতে মেয়েদের বিয়ের বয়সের সীমা বাড়াতে টাস্ক ফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন নির্মলা।
ইন্দিরা গান্ধির পর দেশের দ্বিতীয় মহিলা অর্থমন্ত্রী নির্মলা তাঁর দ্বিতীয় বাজেটে মহিলাদের জন্য কতটা দরাজহস্ত হন, সে দিকে চোখ ছিল মানুষের। কারণ, কেন্দ্রীয় সরকারের ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ প্রকল্পে প্রচারসর্বস্বতার অভিযোগ উঠেছে আগেই। বিরোধীদের অভিযোগ, প্রকল্পের ৫৬ শতাংশ টাকা শুধু প্রচারের পিছনেই খরচ করেছে সরকার। দেশজুড়ে মহিলাদের ওপর সংঘটিত ক্রমবর্ধমান অপরাধের নিরিখে সচেতন নাগরিকদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন, ‘বেটি বাঁচাও’ আদতে শুধু কথার কথা। ‘বেটি’ বাঁচাতে সরকার ততটা আন্তরিক নয়। অবশ্যি সমস্ত অভিযোগকে ‘বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা’ বলে চিহ্নিত করতে চেয়েছে সরকার।
যা হোক, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ১৯৫০-এ সংবিধান গ্রহণের পর দেশের বাল্যবিবাহ আইনে নানা সংশোধন হয়। ১৯৭৮-এ আইনি বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স মেয়েদের জন্য ১৮ এবং ছেলেদের ২১ বছর বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু কিছুদিন আগেই নরেন্দ্র মোদির সরকার পরিকল্পনা করেছে ছেলেদের বিয়ের বয়স ২১ থেকে কমিয়ে আনার বিষয়ে। তা নিয়ে বেশ চর্চাও হয়েছে নানা মহলে। এবার মেয়েদের বিয়ের বয়স বাড়াতে চায় সরকার। প্রশ্ন উঠেছে, একদিকে ছেলেদের বিবাহযোগ্য বয়স হ্রাসের পরিকল্পনা এবং অন্যদিকে মেয়েদের বিবাহযোগ্য বয়স বর্ধিত করতে চাওয়ার পিছনে যুক্তি ঠিক কী? বিয়ের বয়স বাড়লে মেয়েদের লাভটা কোথায়? খোলসা হয়নি।
না হোক, মহিলাদের কল্যাণে গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্পে ২৮,৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে এ বারের বাজেটে। অর্থমন্ত্রীর দাবি, ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ প্রকল্পে ‘অসাধারণ সাফল্য’ মিলেছে এবং কন্যারা যথেষ্ট লাভবান হয়েছে। প্রায় সব ক্ষেত্রেই ছেলেদের তুলনায় রেকর্ডসংখ্যক এনরোলমেন্ট হয়েছে মেয়েদের। সেই বেটিদের ভবিষ্যৎ সুবিধার কথা ভেবেই আগামীতে তাদের বিবাহযোগ্য বয়স ১৮ থেকে বাড়াতে চাইছে সরকার। পাঠকের জন্য তথ্য, আদিতে বিয়ের বাঁধাধরা কোনও বয়স নির্দিষ্ট ছিল না। মূলত বয়ঃসন্ধিকে বিবাহযোগ্য বলে অনুমোদন দিয়েছে সমাজ। আনুমানিক আঠেরো শতক থেকেই বিয়ের বয়সের রাষ্ট্রীয় সীমা নির্ধারণের শুরু। তবে অনেকেই মনে করেন, বিবাহযোগ্য বয়সকে আলাদা রাখা পুরুষতান্ত্রিক ধারণার সঙ্গে যুক্ত। সরকার কি সেই বাঁধ ভাঙতে চাইছে?