
শেষ আপডেট: 10 December 2020 16:09
যদিও নাজমুল হাসান-দেবিকা রানির কীর্তি নিয়ে অশোক কুমার আলাদা মত প্রকাশ করেছিলেন পরে। অশোক কুমার বলেছিলেন নাজমুল হাসান দেবিকা রানিকে নিয়ে পালায়নি। ওটা গুজব ছিল। নাজমুল হাসানের কঠিন অসুখ করায় তাঁর পরিবর্তে অশোক কুমারের ভাগ্য খুলে যায়। তার পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে।
অশোক কুমার অভিনয় জীবন শুরু করেন বম্বেতে। ১৯৩৬ সালে তাঁর প্রথম অভিনীত ছবি ‘জীবন নাইয়া’। প্রায় তিনশোটি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। প্রথমে সুপারস্টার নায়ক, অভিনয় করেছেন টলিউডেও। তার পর চরিত্রাভিনেতার ভূমিকাতেও তিনি আইকনিক। 'চলতিকা নাম গাড়ি', 'মহল', 'কিসমত', 'অচ্যুত কন্যা', 'বন্ধন', 'পরিণীতা', 'হসপিটাল', 'পাকিজা', 'আরতি', 'বন্দিশ', 'চিত্রলেখা', 'হাটে-বাজারে', 'হাওড়া ব্রিজ', 'আনন্দ আশ্রম', 'খুবসুরৎ'-- সব ছবিতেই তিনি অসামান্য।
১৯৫৯ সালে সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি, ১৯৮৮-তে দাদাসাহেব ফালকে ও ১৯৯৮-এ পদ্মভূষণ পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। তবে অনেকেই জানেন না, অশোক কুমার অভিনয়ের পাশাপাশি একজন প্রতিভাময় চিত্রশিল্পী ও দক্ষ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকও ছিলেন। তাঁর হোমিওপ্যাথি ওষুধের টিপস নাকি ছিল অব্যর্থ। বহুজনকেই বিনি পয়সায় চিকিৎসা করে দিয়েছেন দাদামণি।
আর আঁকার হাত! দাদামণি অশোক কুমার যে কত ভাল চিত্রশিল্পী ছিলেন তা জানলে অবাক হতে হয়। অভিনয় করতে করতে যখন শ্রান্ত হয়ে পড়তেন, তখন অবসরযাপন খুঁজে নিতেন ছবি আঁকার মধ্যে দিয়ে। সেসব আঁকা ছবি এক একটি রত্নখচিত ক্লাসিক কালেকশন। বিশেষত জল রঙ দিয়েই ছবি আঁকা পছন্দ করতেন অশোক কুমার।
অশোক কুমারের ছবি আঁকা প্রসঙ্গে আর এক বলিষ্ঠ অভিনেতা ইফতেখারের কথা বলা প্রয়োজন। পুরো নাম সাইদানা ইফতেখার আহমেদ শরিফ হলেও তিনি ইফতেখার নামেই পরিচিত ও প্রচলিত। ইফতেখারের সঙ্গে অশোক কুমারের কলকাতায় আলাপ হয় টলি সম্রাজ্ঞী কানন দেবীর সূত্রে। ইফতেখার বম্বে শহরে যাওয়ার পরে 'বম্বে টকিজ'-এ অশোক কুমারের সঙ্গে দেখা করেন। বম্বে টকিজের ১৯৫০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মুকাদ্দার’ ছবিতে ইফতেখারকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় সুযোগ দেন অশোক কুমার।
যদিও ইফতেখার অশোককুমারের জুনিয়র ছিলেন। কিন্তু ইফতেখারকে তাঁর চিত্রগুরু মানতেন অশোককুমার। ইফতেখারের চিত্রনিদর্শন দেখা গেছিল অশোক কুমারের ভাই কিশোর কুমার পরিচালিত প্রযোজিত অভিনীত ছবি 'দূর গগন কি ছাঁও মে'-তে। অশোক কুমারের নির্দেশে এই ছবির টাইটেল কার্ডে ইফতেখারের আঁকা ছবি ব্যবহার করেছিলেন কিশোর কুমার।
একবার তাঁর ছবিগুলি নিয়ে প্রদর্শনীও করা হয়। অশোক কুমারের আঁকা ছবিগুলি দেখার পরে, বিখ্যাত চিত্রকর মকবুল ফিদা হুসেন বলেছিলেন যে এগুলি অপেশাদারের স্ট্রোক নয়, প্রাজ্ঞ চিত্রশিল্পীর সৃষ্টি এসব ছবি। স্রষ্টাকে কুর্নিশ জানিয়েছিলেন হুসেন। এ ঘটনা জানিয়েছিলেন অশোক কন্যা ভারতী জাফরি।
২০০১ সালের ১০ ডিসেম্বর, ৯০ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন কিংবদন্তি অশোক কুমার।