Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

বিমানের ভবিষ্যৎ কি বায়ু জাহাজ? দূষণমুক্ত আকাশপথের বিকল্পের খোঁজে বিজ্ঞানীরা

বিমান পরিবহণের ফলেও একটি বিরাট অংশের জলবায়ু প্রতি মুহূর্তে ঝুঁকির মধ্য দিয়ে চলেছে।

বিমানের ভবিষ্যৎ কি বায়ু জাহাজ? দূষণমুক্ত আকাশপথের বিকল্পের খোঁজে বিজ্ঞানীরা

প্রতীকী ছবি

শেষ আপডেট: 12 November 2024 17:15

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দূষণের প্রভাবে জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে ইদানীং বিশ্বজুড়ে জোর তৎপরতা চলছে। যার প্রথম কাজই হচ্ছে, জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নির্গত কার্বন প্রতিরোধ। প্রতিদিন পৃথিবী জুড়ে চলা সভ্যতার তাণ্ডবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জলবায়ু। তাই কোটি কোটি মানুষের এই আধুনিক সভ্যতা আজ চরম বিপদের সম্মুখীন। বিশ্বের তাবড় সরকার, বিজ্ঞানী, ইঞ্জিনিয়ার এবং সমাজকর্মীরা প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছেন কী করে এই দূষণ এড়িয়ে বিকল্প উদ্ভাবন করা যায়! যে গবেষণা থেকে বাদ নেই বিমান পরিবহণ শিল্পও।

বিমান পরিবহণের ফলেও একটি বিরাট অংশের জলবায়ু প্রতি মুহূর্তে ঝুঁকির মধ্য দিয়ে চলেছে। একেকটি বিমান থেকে বেরিয়ে আসা ধোঁয়ার রেখা দেখে যখন কোনও শিশু অবাক বিস্ময়ে আকাশে ওড়ার স্বপ্ন দেখে, তখন তার মধ্যেই যে লুকিয়ে আছে মারণ দুঃস্বপ্ন তা সে বোঝে না।

সমীক্ষায় বলছে, শুধুমাত্র বিমান পরিবহণেই ২০২২ সালে বিশ্বের জ্বালানি পোড়া কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ ছিল ২ শতাংশ। যা অতিমারি-পূর্ব স্তরের প্রায় ৮০ শতাংশ। সে কারণে বিমান কোম্পানিগুলিও চাইছে দূষণ রোধে একটি বিকল্প পথ খুঁজে বের করতে। জেট জ্বালানির উন্নয়ন ঘটানো অথবা পুরোপুরি বৈদ্যুতিক বিকল্পের খোঁজ চলছে বহুকাল ধরে। কিন্তু, ধাতব বিমানকে টেনে নিয়ে যাওয়ার মতো শক্তিশালী জ্বালানি এখনও উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়নি।

তাই বিমানের জায়গায় বায়ু জাহাজকে ভবিষ্যতের পরিবহণ ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে অনেকেই দেখতে শুরু করেছেন। একবিংশ শতকের গোড়া থেকেই এই ভাবনাচিন্তা শুরু হলেও বিমানের লাগাতার উন্নতি হতে থাকায় বায়ু জাহাজের আকাশে ওড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি। 

বায়ু জাহাজ আসলে কী?

বায়ু জাহাজ হল বিমানের ইঞ্জিন ও শরীরের চেয়ে হালকা পরিবহণ ব্যবস্থা। যা গ্যাস ভরে চালাতে হয়। বাতাসের চেয়ে হালকা গ্যাস ভরে অনেকটা গ্যাস বেলুনের মতো করে আকাশে উড়বে। এক বায়ু জাহাজ চালক অলিভার জায়েগার বিল্ট ইন-কে জানিয়েছেন, প্রযুক্তিগত ভাষায় বায়ু জাহাজ উড়তে পারে না, এটা বাতাসে ভাসে।

বায়ু জাহাজ কত রকমের?

এখনও পর্যন্ত তিন ধরনের বায়ু জাহাজ রয়েছে। প্রথম জাতটি হল অ-কঠিন ব্যারেজ বেলুন প্রকৃতির। দ্বিতীয়টি হল সেমি রিজিড এবং তৃতীয়টি রিজিড। তবে এগুলির সবই হল বুলেট আকারের হয়ে থাকে। যার পেটের মধ্যে থাকে হিলিয়াম অথবা হাউড্রোজেন গ্যাস। প্রধানত শোয়ানো ক্যাপসুল আকারের এই যানে পরিচালন ব্যবস্থাও থাকে। একবিংশ শতকের গোড়ার দিকে এই বায়ু জাহাজ প্রাথমিকভাবে ব্যবহার হতো বিলাসী ভ্রমণ, পণ্য এবং সামরিক সামগ্রী পরিবহণের কাজে। এখন বিজ্ঞাপন, ফটোগ্রাফি, পর্যটন এবং বায়ুপথে নজরদারি ও সম্প্রচারের কাজেও এই জাতীয় বেলুন ব্যবহার করা হয়।

বায়ু জাহাজ কাজ করে কীভাবে?

আগে হাইড্রোজেন গ্যাস ব্যবহার করা হতো। কিন্তু, তা অত্যন্ত ব্যয়সাপেক্ষ। তৈরি করা সহজ এবং সব থেকে হালকা হওয়া সত্ত্বেও হাইড্রোজেন অত্যন্ত পরিমাণে দাহ্য। তাই এখন হাইড্রোজেনকে বাদ দিয়ে হিলিয়াম গ্যাস ব্যবহার করার প্রচলন বেড়েছে। মাত্র এক কিউবিক মিটার গ্যাসে এক কেজি ভারী বস্তু তোলা যায়। যার খরচ পড়ে ৩৫ মার্কিন ডলারের কাছাকাছি।

এক প্রাক্তন বায়ু জাহাজ পাইলট এডউইন আলমানজার বলেন, একটি বায়ু জাহাজে কতটা পরিমাণে গ্যাস ভরা হয়েছে, তার উপর নির্ভর করে তার ভেসে ওঠা। তবে বিশেষজ্ঞদের বিশ্বাস সৌরশক্তি চালিত বায়ু জাহাজ অনেক বেশি কার্যকরী হতে পারে। যার ফলে আকাশপথে ভ্রমণের জন্য অনেক বেশি সাশ্রয়ী হবে এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড ছড়াবে না। জার্মানির এরলাঙ্গেন-নুরেমবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সমীক্ষা বলছে, খুব পাতলা সৌর প্যানেল দ্বারা নির্মিত বায়ু জাহাজ পরিবেশ দূষণ মুক্ত রাখতে অত্যন্ত সহায়ক বিকল্প। কারণ চলতে চলতেই এতে সৌরশক্তি তৈরি হতে থাকবে। আর সৌরশক্তি চালিত বায়ু জাহাজ চিরাচরিত বিমানের জ্বালানির থেকে অনেক কম খরচে হয়ে যাবে বলে তাঁরা অঙ্ক কষে জানিয়েছেন।

কী কী সমস্যা আছে বায়ু জাহাজ চালানোর ক্ষেত্রে?

ঝঞ্ঝা-বজ্রপাত ঠেকাতে সক্ষম নয়। খুব জোরে হাওয়া বইলে এটা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। বায়ু জাহাজ নির্মাণ, সংরক্ষণ ও চালানো খুবই ব্যয়বহুল। কারণ এ বহরে বিশাল এবং হাইড্রোজেন কিংবা হিলিয়াম গ্যাস ভরতে প্রচুর খরচ। বিমানের চেয়ে অনেক ধীরগতির যান। ফলে সময়ের মধ্যে কোথাও যাওয়া দুঃসাধ্য। তার মধ্যে ফরাসি ফ্লাইং হোয়েলস কোম্পানির বিজ্ঞানী-ইঞ্জিনিয়াররা ২০০ মিটার দীর্ঘ একটি ফ্লাইং ক্রেন নামে বায়ু জাহাজ নির্মাণ করেছেন। যা ৬০ টন পর্যন্ত ভারবহনে সক্ষম। একটি হেলিকপ্টারের তুলনায় ১০ শতাংশ কার্বন দূষণ ঘটায় এই বায়ু জাহাজটি।

অন্যদিকে, ব্রিটেনের হাইব্রিড এয়ার ভেহিকেলস একটি ডাবল ব্যারেলের বায়ু জাহাজ তৈরি করেছে এয়ারল্যান্ডার নামে। মহড়া মডেলটি প্রায় ১০০ জন যাত্রী, ১০ টন সামগ্রী নিয়ে আকাশে পাঁচদিন ধরে থাকতে পারে। ২০২৬ সালে এটি বাণিজ্যিকভাবে চলাচল করবে বলে কোম্পানি আশাপ্রকাশ করেছে। 


```