
অনেকদিন ধরেই পুরাতাত্ত্বিকদের অনুমান ছিল যে, রাখিগঢ়ীতে হরপ্পা যুগের একটি জলাধার থাকতে পারে।
শেষ আপডেট: 21 January 2025 15:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হরপ্পা সভ্যতার নিদর্শন হরিয়ানার রাখিগঢ়ীতে মিলল এক বিশালাকৃতির জলাধার। যা অন্তঃসলিলা বা বিলুপ্ত সরস্বতী নদীর বহতা ধারা সম্পর্কে গবেষণায় নতুন আলোর দিশারী হতে পারে। গত মাসে হরিয়ানার হিসার জেলার রাখিগঢ়ীতে হরপ্পা সভ্যতার এই আশ্চর্য নির্মাণকৌশলের হদিশ মিলেছে। যা সরস্বতী নদী সংক্রান্ত গবেষণায় কার্যকরী হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের অনুমান। কয়েক সপ্তাহ আগে দেশের পুরাতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল ও দেহাতি শ্রমিকরা একটি ১০ ফুট বাই ১০ ফুট পরিখা খনন করে এই মাটির তলায় ঘুমিয়ে থাকা এই অতল রহস্যের সন্ধান পান।
অনেকদিন ধরেই পুরাতাত্ত্বিকদের অনুমান ছিল যে, রাখিগঢ়ীতে হরপ্পা যুগের একটি জলাধার থাকতে পারে। কিন্তু, সেদিন মাটি ফুঁড়ে এই আবিষ্কার বেরিয়ে আসায় সব আশা ছাপিয়ে গিয়েছে। এক দৈত্যাকৃতি জলাধার যা গুজরাতের ধোলাবিরার পর সামনে এল। রাখিগঢ়ী হল হরপ্পা সভ্যতার অন্যতম বৃহত্তম শহর এলাকা ছিল ২৬০০ থেকে ১৯০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দের মধ্যে। প্রায় ৫০০ হেক্টর এলাকা জুড়ে ছিল এই জনবসতি, যা মহেঞ্জোদরোর থেকে আয়তনে ও বহরে প্রায় দ্বিগুণ।
গত ডিসেম্বরে এই রাখিগঢ়ীর মাটির নীচ থেকে সেই আমলের এক জটিল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং অত্যাধুনিক জল ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের মুখ বেরিয়ে আসে। এতদিন পর্যন্ত হরপ্পা ও মহেঞ্জোদরো সভ্যতার আশপাশ থেকে কূপ আবিষ্কার হয়েছে। রাখিগঢ়ী প্রত্নতত্ত্ব খননকার্যের ডিরেক্টর তথা এএসআইয়ের যুগ্ম অধিকর্তা সঞ্জয় মঞ্জুল ইংরেজি সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্টকে জানান, এখানে অনেকবার খোঁড়াখুঁড়ি হয়েছে। কিন্তু, এর তলায় যে এতবড় জলাধার রয়েছে তা আগে বোঝা যায়নি।
খননকার্যের পদ্ধতি অনুযায়ী কিছু জায়গাকে ঘিরে প্রত্নতাত্ত্বিক খোঁড়াখুঁড়ি হয়ে থাকে। তারই একটি অংশ মাউন্ড ৩-এ সাড়ে ৩ থেকে ৪ ফুট গভীর জলাশয় দেখা গিয়েছে। হরপ্পা সভ্যতার শিখর পর্ব থেকে হরপ্পা জমানার শেষের দিকে এইসব অঞ্চলের নদনদীগুলি মজে আসছিল। এই জলাধার সেই আমলে জল সঞ্চয়ের বিকল্প হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল মনে করা হচ্ছে। আনুমানিক ৩০০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দ থেকে সরস্বতী নদীর প্রধান শাখানদী দৃষাদ্যুতি নদী মজে আসতে শুরু করে। এই জলাধার সেই মরা নদীর বিকল্প হিসেবে গড়ে ওঠে। রিমোট সেন্সিং ডেটা থেকে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে যে, রাখিগঢ়ীর খননকার্য এলাকা থেকে মাত্র ৪০০ মিটার দূরে ছিল দৃষাদ্যুতির প্রাচীন শাখার সংযোগ।
বেদে লিখিত সরস্বতী নদীর খোঁজ দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে যাচ্ছেন গবেষকরা। গত ২০ বছরের মধ্যে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে যে, এই নদী বৈদিক যুগে অর্থাৎ আর্য আমলে বর্তমান ছিল। ঋগ্বেদে সরস্বতী নদীর নামোল্লেখ আছে। সরস্বতীর সঙ্গেই দৃষাদ্যুতিরও উল্লেখ রয়েছে ঋগ্বেদে। সরস্বতীর উৎপত্তিস্থল ছিল হিমালয়, মোহানা আরব সাগর। মঞ্জুলের মতে, এই নদী একসময় এই এলাকায় জীবনরেখা ছিল। তবে এই জলাধার মেসোপটেমিয়া এবং মিশরীয় সভ্যতার থেকেও বৃহৎ। ধাপে ধাপে এই জলাধার নামায় অনুমান, এখানে জল থিতিয়ে যাওয়ার জন্য রেখে দেওয়া হতো। প্রসঙ্গত, এর আগে হরপ্পা আমলের নিকাশি ব্যবস্থার আবিষ্কার হয়ে গিয়েছে, তখনও কেউ ভাবেননি তখনকার মানুষ কীভাবে জল ধরো জল ভরো পদ্ধতি প্রয়োগ করত।