
জয়ের ব্যবধান বাড়াতে পারবেন কি মোদী
শেষ আপডেট: 31 May 2024 10:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার বিকালে সপ্তম তথা শেষ দফার ভোটের প্রচারের অন্তিম দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ছিলেন পাঞ্জাবের হোশিয়ারপুরে। সেখান থেকে দিল্লি ফিরে তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্র বারাণসীর ভোটারদের উদ্দেশে একটি ভিডিও বার্তা রিলিজ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাতে তিনি বারাণসীবাসীর উদ্দেশে আর্জি জানিয়েছেন, সকাল সকাল ভোট দিতে। শনিবার ভোটের দিন বারাণসী-সহ গোটা উত্তর প্রদেশে তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রির কাছাকাছি থাকার কথা। স্বভাবতই মানুষ কতটা বুথমুখী হবেন তা নিয়ে সব দলেই সংশয় আছে।
বারাণসীতে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এবারও তেমন শক্ত প্রতিপক্ষ কেউ নেই। ২০১৪-থেকেই কংগ্রেসের প্রার্থী হচ্ছেন অজয় রাই। তিনিই বর্তমানে উত্তর প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি। রাহুল ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধী এবং অখিলেশ যাদব তাঁর হয়ে প্রচার করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বছরে একাধিকবার বারাণসী যান। ভোটের প্রচারে গিয়ে মূলত রোড শো করেছেন। এছাড়া সামাজিক মাধ্যমে বিশাল প্রচারের ব্যবস্থা করে দল। আগের দুটি লোকসভা ভোটের তুলনায় এবার প্রধানমন্ত্রীর প্রচারে আরও জৌলুস লক্ষ্য করা গেছে। গঙ্গার ঘাটগুলিতে বিগ স্ক্রিনে মোদীর হাত দিয়ে বারাণসীর রূপবদলের ছবি তুলে ধরেছে দল। এখন প্রশ্ন হল, জয়ের মার্জিনে প্রধানমন্ত্রী কি আগের দুটি ভোটের ফলকে ছাপিয়ে যেতে পারবেন। আরও একটি বিষয়ে দলে আলোচনা আছে। তা হল, জয়ের মার্জিনে মোদী কি দলের সেরা সাংসদদের তালিকায় স্থান করে নিতে পারবেন এবার।
গতবার দেশের ৫৪৩টি লোকসভা আসনের মধ্যে চারটিতে প্রার্থীরা ছয় লাখের বেশি ভোটের মার্জিনে জয়লাভ করেছিলেন। তাঁরা সকলেই ছিলেন বিজেপির প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে গুজরাতের নরসারী আসন থেকে ছয় লাখ ৮৯ হাজার ভোটের ব্যবধানে জেতেন পদ্ম প্রার্থী সিআর পাটিল। তিনি এখন গুজরাত বিজেপির সভাপতি।
সেবার বিজেপির ১৩জন পাঁচ থেকে ছয় লাখের ব্যবধানে জয়লাভ করেছিলেন। তাঁদের অন্যতম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি গুজরাতের গান্ধীনগর আসন থেকে সাড়ে পাঁচ লাখের বেশি ভোটে জয়লাভ করেন। এই তালিকাতেও নাম ছিল না নরেন্দ্র মোদীর। বারাণসীতে তাঁর জয়ের মার্জিন ছিল চার লাখ ৭৫ হাজার। ২০১৪-র তুলনায় মার্জিন সামান্য বেড়েছিল। বিজেপির ৩০৩ সাংসদের মধ্যে ৩৪জন চাঁর থেকে পাঁচ লাখ ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন। সেই তৃতীয় তালিকায় নাম ছিল নরেন্দ্র মোদীর।
মোদীর নেতৃত্বে বিজেপি এবার চারশোর বেশি আসনে জয়লাভের সংকল্প নিয়েছে। সেই সঙ্গে বারাণসীতে প্রধানমন্ত্রীর জয়ের মার্জিন বাড়ানোও দলের অন্যতম লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যপূরণে যথাসাধ্য করেছে দল। ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহ জোগানো সেই উদ্যোগেরই অঙ্গ।