
শেষ আপডেট: 29 March 2024 19:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত লোকসভা ভোটে ডায়মন্ড হারবার থেকে প্রায় ৩ লাখ ২১ ভোটে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি সন্দেশখালির সভা থেকে অভিষেক জানিয়েছিলেন, এবারে তাঁর জয়ের ব্যবধান ৪ লাখ ছাড়িয়ে যাবে। তবে ডায়মন্ড হারবার নিয়ে এখনও আশাবাদী আইএসএফ বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকী।
নওসাদের কথায়, "আশা করছি দু' একদিনের মধ্যেই ডায়মন্ড হারবারে দল প্রার্থী হিসেবে আমার নাম ঘোষণা করবে। সেক্ষেত্রে দল ভোটে লড়ার অনুমতি দিলে অভিষেককে ওখানে আমি প্রাক্তন করে দেব।"
কোন অঙ্কে প্রাক্তন করবেন, সেটা অনেক আগেই প্রকাশ্য সভা থেকে জানিয়ে দিয়েছিলেন নওসাদ। দলের এক প্রকাশ্য সভা থেকে কর্মীদের উদ্দেশে আইএসএফ বিধায়কের পরামর্শ ছিল, "দল আমাকে প্রার্থী করলে আমার মিছিলে হাঁটার দরকার নেই। তাতে টার্গেট হয়ে যাবেন। তাই বেশি করে তৃণমূলের মিছিলে হাঁটুন, ওদের সঙ্গেই থাকুন, শুধু ভোটকেন্দ্রে ঢোকার পর ভোটটা আমাকে দিলেই হবে!"
এদিন সেই সঙ্গে নওসাদের সংযোজন, "বাকিটা প্রার্থী হই, তারপর কর্মীদের বলব!"
একুশের বিধানসভা ভোটে বাম-কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়েই লড়েছিল আইএসএফ। সেই সূত্রে ভাঙড়ে জয় আইএসএফের। এবারে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জোটের কথা ঘোষণা না হলেও ডায়মন্ড হারবারে আইএসএফ প্রার্থী দিলে তাদের যে আপত্তি নেই, তা আগেই জানিয়ে রেখেছে সিপিএম। আসন সমাঝতার কথা মাথায় রেখে ওই আসনে প্রার্থী দেয়নি কংগ্রেসও। সেক্ষেত্রে আইএসএফ নওসাদকে প্রার্থী করলে বাম-কংগ্রেসের ভোটও তাঁর ঝুলিতে যেতে পারে। নওসাদের আশা, তৃণমূল এবং বিজেপির একটা অংশের ভোটও তিনি পাবেন।
তবে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার ২০ দিন পরেও এ ব্যাপারে আইএসএফ চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না পৌঁছনোয় দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সূত্রের খবর, নওসাদের নাম নিয়ে নেতৃত্বের একাংশের আপত্তি রয়েছে। তাঁরা এ ব্যাপারে নওসাদকে বোঝানোরও চেষ্টা করছেন। তবে গোড়া থেকেই এ ব্যাপারে অনড় নওসাদ। ফলে ডায়মন্ড হারবারে শেষ পর্যন্ত অভিষেক-নওসাদের মুখোমুখি লড়াই হয় কি না, তা নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে সব মহল।