
চন্দ্রবাবু নাইডু, রাহুল গান্ধী, নীতীশ কুমার, নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 5 June 2024 10:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোটের ফল নিয়ে বুধবার দিল্লিতে বৈঠকে বসতে চলেছেন ইন্ডি জোটের নেতারা। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের বাড়িতে এই বৈঠক হতে পারে। তৃণমূলের তরফে সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকে যোগ দেবেন বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলায় ২৯টি কেন্দ্রে জিতে বিরোধী শিবিরে এবার তৃণমূলই আসন প্রাপ্তিতে দ্বিতীয় স্থানে আছে। ২০১৯-এর ভোটে তারা চতুর্থ স্থানে ছিল।
মঙ্গলবার বিকালে ফলাফলের প্রবণতা স্পষ্ট হতেই একদিকে, বিজেপি নেতৃত্ব এনডিএ শরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। অন্যদিকে, কংগ্রেসও কথা শুরু করে বিজেপি সঙ্গী একাধিক দলের সঙ্গে। তারমধ্যে অন্যতম হল জেডিইউ এবং তেলুগু দেশম পার্টি। অন্ধ্রপ্রদেশের বিজেপির সঙ্গে বোঝাপড়া করে টিডিপি ১৬টি আসনে জয়ী হয়েছে। অন্যদিকে, বিহারে নীতীশ কুমারের দল জেডিইউ জিতেছে ১২টিতে।
এনডিএ’র সঙ্গে ইন্ডিয়ার আসনের ফারাক ৬১টি। কংগ্রেস-সহ বিরোধী শিবিরের একাধিক দলের নেতারা মনে করছেন, এনডিএ’র শরিকদের কাছে টেনে সরকার গড়ার চেষ্টা করা দরকার। কারণ, নরেন্দ্র মোদীকে সরকার গড়ার সুযোগ দেওয়ার অর্থ দেশবাসীকে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া। মোদীকে গদি ছাডার করার কথা বলেই এবার বিরোধীরা ভোটে প্রচার চালিয়েছেয় তাছাড়া, বিজেপিও সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের লক্ষ্যে ইন্ডিয়া জোট এমনকী এনডিএ’র শরিকদেরও ভাঙিয়ে নিতে পারে। ফলে মোদীকে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখাই লক্ষ্য হওয়া উচিত। তাঁকে দল ভাঙানোর সুযোগ দেওয়া উচিত হবে না।
সরকার গড়ার বিষয়টি মঙ্গলবার কংগ্রেসের সাংবাদিক বৈঠকে উঠেছিল। রাহুল গান্ধী স্পষ্ট জবাব দেননি। বুধবারের বৈঠকে কথা হবে বলে জানান তিনি। একই কথা বলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড্গেও। তবে কংগ্রেস নেতারা একান্তে সরকার গড়ার বিষয়টি উড়িয়ে দেননি। প্রধানমন্ত্রিত্বের প্রশ্ন সামনে এলে দলের সভাপতি খাড়্গের নামে সিলমোহর পড়া অসম্ভব নয়। কারণ ইন্ডিয়া জোটের নেতারা রাহুলকে মানবেন না, জানাই আছে কংগ্রেস হাইকমান্ডের।
এক প্রবীণ কংগ্রেস নেতার কথায়, নীতীশ কুমারের হাতে ইন্ডিয়া জোটের জন্ম। তিনি নানা কারণে বিরক্ত হয়ে জোট ছেড়ে বিজেপির হাত ধরেছিলেন। কিন্তু তিনি মোটেই স্বস্তিতে নেই। তাঁকে মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছে বিজেপি। আগামী বছর বিহার বিধানসভার ভোট। বিজেপি তার আগে নিজেদের চালকের আসনে বসাতে চায়।
অন্যদিকে, লোকসভা ভোটে টিডিপির সঙ্গে বিজেপির বোঝাপড়া হলেও দুই দল অভিন্ন ইস্তাহার প্রকাশ করেনি। টিডিপির ইস্তাহারে মোদী, বিজেপির সংকল্পপত্রে চন্দ্রবাবু নাইডুর ছবি স্থান পায়নি। নীতীশ ও চন্দ্রবাবু অন্ধ্র্রপ্রদেশের জন্য উন্নয়ন প্যাকেজ পেলে শিবির বদলে রাজি হয়ে যাবেন বলেন মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও চান দিল্লিতে যারাই সরকার গড়ুক বাংলার বকেয়া মিটিয়ে দিক।
ইন্ডি জোটের একাধিক নেতার মতে, নীতীশ ও চন্দ্রবাবু নাইডুকে কাছে টানা গেলে আরও অনেক শরিক এগিয়ে আসবে। সেই সম্ভাবনা মাথায় রেখে বিজেপিও ঘুঁটি সাজাচ্ছে। দুই শরিক নেতা চন্দ্রবাবু এবং নীতীশকে উপ প্রধানমন্ত্রী করা হতে পারে।
তবে যা করার এক-দু’দিনের মধ্যেই করতে হবে। কারণ, একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসাবে বিজেপি রাষ্ট্রপতির কাছে দাবি পেশ করবে। বিলম্ব না করে বিরোধীদেরও পাল্টা প্রস্তাব দিতে হবে। তা না হলে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসাবে বিজেপিকে সরকার গড়তে ডাকবেন রাষ্ট্রপতি। এটাই সাংবিধানিক বিধি।