
শেষ আপডেট: 6 April 2024 11:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ নিয়ে বাংলায় তৃণমূল-বিজেপি বিবাদ লেগেই আছে। দেশের অন্যত্র একাধিক আঞ্চলিক দল এই আইনের বিরুদ্ধে সরব। অন্যদিকে, সংসদের ভিতরে-বাইরে এই আইনের বিরুদ্ধে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধীরা। অথচ দলের নির্বাচনী ইস্তাহারে সিএএ-র নামগন্ধ নেই।
কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদার ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রত্যাহার করে নিয়েছে মোদী সরকার। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও সংসদের ভিতরে বাইরে বারে বাসে সরব হয়েছে কংগ্রেস। লোকসভা ভোটের ইস্তাহারে নেই সেই প্রসঙ্গ।
দু’ বছর আগে থেকে রাহুল গান্ধী বলে আসছেন, ক্ষমতায় এলে সরকারি কর্মচারীদের জন্য পুরনো পেনশন ব্যবস্থা চালু করা হবে। অর্থাৎ পেনশন খাতে পুরো দাম সরকার নিজের কাঁধে নেবে। সেই অল্ড পেনশন স্কিম বা ওপিএস সম্পর্কেও নীরব কংগ্রেস।
বিগত কয়েকটি নির্বাচনের মতো এবারও কংগ্রেসের ইস্তাহার তৈরির দায়িত্বে ছিলেন প্রাক্তন অর্থ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদম্বরম। ওপিএস নিয়ে প্রাক্তন এই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্য, যে সময় কংগ্রেস পুরনো পেনশন স্কিম ফেরানোর কথা বলেছে তখনকার তুলনায় এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। কেন্দ্রীয় সরকার অর্থসচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গড়েছে পুরনো পেনশন স্কিম ফেরানোর বিষয়ে। সেই কারণেই ইস্তাহারে বিষয়টির উল্লেখ নেই। তবে দল ক্ষমতায় এলে অবশ্যই ওল্ড পেনশন স্কিম কেন্দ্রীয় সরকার এবং কংগ্রেস শাসিত রাজ্যগুলিতে বলবৎ করা হবে।
কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদার ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ বাতিল প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়া নিয়ে কংগ্রেস সরাসরি জবাব দেননি। চিদম্বরমের বক্তব্য, কংগ্রেস বারে বারে বলেছে, ক্ষমতায় এলে জম্মু-কাশ্মীরকে পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হবে। আসলে ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ বিলোপের সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি অনুমোদন করেছে। ফলে এখন আর নতুন করে এই ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সুযোগ নেই। তাছাড়া কংগ্রেস কখনই সরাসরি ৩৭০ বাতিলের বিরোধিতা করেনি। হাত শিবিরের বক্তব্য, জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভায় আলোচনা ছাড়া ৩৭০ প্রত্যাহার সঠিক কাজ হয়নি।
সিএএ-এর মতো একটি তাজা ইস্যু নিয়ে কেন নীরব কংগ্রেস? দলীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, ভোটের মুখে এই ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিতে পারে। আদালত সরকারের সিদ্ধান্তে শিলমোহর দিলে ভোটের প্রচারে অস্বস্তিতে পড়তে হবে। তাই আদালতের রায়ের জন্য দল অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলের এক প্রবীন নেতার কথায়, ইস্তাহারে না থাকলেও কংগ্রেস মোটেই সিএএ-কে লঘু করে দেখছেন না।