
পাক সাংসদের ভারত স্তুতি
শেষ আপডেট: 16 May 2024 11:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উন্নয়নে পাকিস্তানের পিছিয়ে পড়া নিয়ে হিন্দুস্থানের সঙ্গে তুলনা টেনে বিলাপ করা সে দেশের রাজনীতিকদের নয়া প্রবণতা। সাবেক পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, নওয়াজ শরিফেরা তো আছেনই পাকিস্তানের ছোট বড় অনেক দলই দেশের আর্থিক দুরবস্থা নিয়ে মুখ খুলে ভারতের অগ্রগতিকে তুলে ধরছেন। সেই তালিকায় যুক্ত হল নতুন নাম। পাক সাংসদ সৈয়দ মুস্তফা কামাল সে দেশের সংসদে দাঁড়িয়ে এই বলে আক্ষেপ করেছেন, ‘হিন্দুস্থান চাঁদে পৌছে গেল। সেখানে পাকিস্তান কোথায় দাঁড়িয়ে?’
পড়শি দেশের সাংসদ যখন এই কথা বলেছেন তখন ভারতে ভোটের ময়দানে পাকিস্তানকে ফের অস্ত্র করেছে বিজেপি। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কংগ্রেসকে পাকিস্তান প্রেমী হিসাবে তুলে ধরতে ব্যস্ত। এমন কথাও বলেছেন, পাকিস্তান রাহুল গান্ধীকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী করতে চাইছে। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, বিজেপি তথা মোদী কি পাক সাংসদের কথা ফেলে দেবেন, নাকি তাঁর প্রশংসার কৃতিত্ব দাবি করবে পদ্ম শিবির।
কোথায় দাঁড়িয়ে তাঁর দেশ? কী বলেছেন পাক সাংসদ? মুত্তাহিদা কৌউমি মুভমেন্ট দলের প্রধান এই সাংসদ বলেছেন, ‘যেদিন টিভিতে ভারতের চন্দ্রযানের সফল উৎক্ষেপণের খবর সম্প্রচার হচ্ছিল, সেদিনই কয়েক মুহূর্ত পর দেখানো হয় করাচির নালায় পড়ে এক শিশু মারা গিয়েছে। করাচি আমাদের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। এই শহরেই আছে পাকিস্তানের দুটি বন্দর, যেখান দিয়ে গোটা বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য চলে। সেই অর্থনৈতিক রাজধানীর এই তো অবস্থা।’
ক’দিন আগে খোদ পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দেশের শিল্পপতিদের সঙ্গে ঘরোয়া বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়নেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন। বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ কোথায় পৌঁছে গিয়েছে, আর আমরা কোথায়। বাংলাদেশের উন্নতি দেখে পাকিস্তানি হিসাবে আমার লজ্জা হয়।’ সেদিন পাক শিল্প মহল তাঁকে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেয়।
জেলে যাওয়ার আগে ভারত ও বাংলাদেশের সঙ্গে তুলনা টেনে নিজের দেশের দুরবস্থা নিয়ে সরব হয়েছিলেন ইমরান খানও। হালে নওয়াজ কন্যা তথা সে দেশের পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়মও হিন্দুস্থানের অগ্রগতির প্রশংসা করে জানান, আমার বাবা চান ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হোক।
লক্ষণীয় হল, পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব যখন কাশ্মীরের ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ বাতিল করা নিয়ে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে সরব তখন নিজেদের দূরবস্থার আত্মানুসন্ধান করতে গিয়ে হিন্দুস্থানকেই সাফল্যের দৃষ্টান্ত হিসাবে তুলে ধরছে।
পাক সাংসদ মুস্তাফা কামাল শুধু নিজের দেশে পিছিয়ে পড়া নিয়েই সরব হননি, নানা ক্ষেত্রে পাকিস্তান সরকারের দাবি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। বলেছেন, ‘দেশে ৪৮ হাজার স্কুল আছে বলে সরকার দাবি করে। অথচ ১১ হাজার স্কুলের কোনও অস্তিত্ব নেই। তাঁর কথায়, পাকিস্তানের দু’ কোটি ৬২ লাখ শিশু স্কুলে যায় না। এরমধ্যে ৭০ লাখ করাচির মতো বন্দর শহরে থাকে। এই শহরে বিশুদ্ধ পানীয় জলেরও তীব্র আকাল।’
প্রসঙ্গত, গত বছর অগাস্টে ভারতের চন্দ্রযান তিনের সফল উৎক্ষেপণ নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট করে পাক মিডিয়া। কয়েকটি পত্রিকায় তখনই পাক সরকারকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছিল, মহাকাশ বিজ্ঞান চর্চায় পাকিস্তান ও ভারত একই সঙ্গে যাত্রা শুরু করেছিল এবং গোড়ায় কয়েক বছর তারা এগিয়ে ছিল। সেই পাকিস্তানে মহাকাশ বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা বন্ধ হওয়ার জোগার।
প্রশ্ন হল, ভারতে ভোটের ময়দানে পাকিস্তানের নেতা-মন্ত্রী-সাবেক প্রধানমন্ত্রীদের প্রশংসার সুবিধা পাবে কোন দল? সরকারিভাবে এখনও কোনও দল প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে চন্দ্রযানের সফল উৎক্ষেপণের পরই এই ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী মোদীর দাবিতে ভাগ বসিয়েছিল কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা। সনিয়া গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়রা স্মরণ করিয়ে দেন মহাকাশ বিজ্ঞানে ভারতের ধারাবাহিক সাফল্য এবং দল নির্বিশেষে সব সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টার কথা।