
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও সপা নেতা অখিলেশ যাদব।
শেষ আপডেট: 5 June 2024 14:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটের ফলপ্রকাশের পর সরকার গঠনের তৎপরতা শুরু হয়ে গিয়েছে। কারা, কত আসন পেয়েছে ছবিটা পরিষ্কার। কিন্তু, দেশের কত শতাংশ মানুষের সমর্থন কোন দলের প্রতি আছে, সেটা কি জানা আছে? ভারতের গরিষ্ঠ মানুষের সমর্থন নিয়ে কি কোনও দল সরকার গঠন করতে পারবে, নাকি ফের মিলিজুলি সরকারের নড়বড়ে, টালমাটাল অবস্থায় চলবে দেশ!
পরিসংখ্যান বলছে, বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে উঠে এলেও নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতার ধারেকাছে পৌঁছায়নি পদ্মফুল। ভোটের হার ভূমিধসের মতো ধসে পড়েছে। অন্যদিকে, অপ্রত্যাশিত হলেও 'হারিয়ে যাওয়া' কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি ধূমকেতুর মতো আকাশে পুচ্ছ মেলে ধরেছে।
২০১৯ সালের প্রাপ্ত ভোট শতাংশের বিচারে বিজেপির এবারে বেশ কিছুটা ক্ষয় হয়েছে। গত লোকসভার থেকে বিজেপি এবারে বেশি সংখ্যক আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। তাদের প্রতি মাত্র ৩৬.৫৬ শতাংশ মানুষের রায় গিয়েছে। যা গতবছরের তুলনায় ০.৭৩ শতাংশ কম।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের প্রাপ্ত ভোট শতাংশ বেড়েছে ১.৭৪। কংগ্রেসের প্রতি ২১.১৯ শতাংশ মানুষের সমর্থন প্রতিফলিত হয়েছে। যার ফলে আসন সংখ্যাতেও বেড়েছে হাত প্রতীক। হিসাব বলছে, গত লোকসভায় কংগ্রেসের পকেটে ছিল মাত্র ১৯.৪৬ শতাংশ ভোট। গতবারের তুলনায় কংগ্রেস আসন সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে ৯৯-এ থেমেছে।
দেশের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের ভাগ্য ফিরিয়েছে রাজস্থান, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশ। যেখানে রাহুল গান্ধী-বান্ধব সমাজপার্টি পার্টির তরুণ তুর্কি নেতা অখিলেশ যাদব প্রায় দ্বিগুণ জনসমর্থন লাভ করেছেন। ২০১৯ সালে অখিলেশের হাতে ছিল মাত্র ২.৫৫ শতাংশ ভোট। এবারে বেড়ে তা হয়েছে ৪.৫৯ শতাংশ।
বিহারের সংযুক্ত জনতা দল, যাদের অবিসংবাদিত নেতা নীতীশ কুমার লোকসভা ভোটের কিছুকাল আগে পাল্টি খেয়ে ফের মোদী-শিবিরে ভিড়েছিলেন, তারা এবার পেয়েছে ১.২৫ শতাংশ ভোট। গতবার এটা ছিল ১.৪৫ শতাংশ। সামান্য হলেও কমেছে জনসমর্থন।
পশ্চিমবঙ্গের জননেত্রী তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার একাই প্রচারযুদ্ধে বিনাশ করেছেন বিজেপিকে। কিন্তু, প্রাপ্ত ভোটের শতাংশে দেখা যাচ্ছে ২০১৯ সালের ৪.০৬ শতাংশ থেকে এবার বৃদ্ধি হয়েছে ৪.৩৭ শতাংশ। মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টির ১.৫৮ শতাংশ ভোট কমে ২.০৪ শতাংশে পৌঁছেছে।
অরবিন্দ কেজরিওয়াল, যিনি বর্তমানে আবগারি দুর্নীতি মামলায় তিহার জেলে দিন কাটাচ্ছেন, তাঁর দল আম আদমি পার্টির প্রাপ্ত ভোট ছিল ০.৪৪ শতাংশ। এবার তা বেড়ে হয়েছে ১.১১ শতাংশ।
যদি দেশের দক্ষিণ অংশের দিকে তাকানো যায়, তাহলে দেখা যাবে বিজেপি বিরোধী ইন্ডিয়া জোট শরিক ডিএমকে-র ভোট কমেছে। ২০১৯ সালে তাদের হাতে ছিল ২.৩৪ শতাংশ, এবার কমে হয়েছে ১.৮২। অন্ধ্রপ্রদেশে সরকার গঠন করতে চলা চন্দ্রবাবু নাইডুর তেলুগু দেশম পার্টির খুব সামান্য ভোট কমে ২.০৪ থেকে ১.৯৮ শতাংশ হয়েছে। পাশাপাশি হেরে যাওয়া ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টির ভোটও কমেছে। পাঁচবছর আগে তাদের হাতে ছিল ২.৫৩ শতাংশ ভোট। এবার তা নেমে হয়েছে ২.০৬।