
শেষ আপডেট: 14 March 2024 15:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জাতীয় নির্বাচন কমিশনে ফাঁকা পড়ে থাকা দুই পদে কমিশনার নিয়োগ হয়ে গেল। এই দুজন হলেন সুখবীর সিং সান্ধু এবং জ্ঞানেশ কুমার। বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত বৈঠক ছিল। সেই বৈঠকের পরই সংবাদমাধ্যমে এই দুজনের নাম জানিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন কমিটি এই কমিশনার নির্বাচন করে। সেই কমিটিতেই ছিলেন প্রধানমন্ত্রী মনোনীত একজন প্রবীণ মন্ত্রী এবং লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এই নাম এখনও পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়নি।
দেশে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার-সহ মোট তিন জন নির্বাচন কমিশনার থাকতে পারেন। এতদিন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমার এবং নির্বাচন কমিশনার অরুণ গোয়েল সব দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। এদিকে তৃতীয় পদটি ফাঁকা ছিল। তার মধ্যেই গত ৯ মার্চ আচমকা পদ থেকে ইস্তফা দেন অরুণ গোয়েল। তাঁর এই সিদ্ধান্তের পর আসন্ন নির্বাচন নিয়েই চিন্তা দেখা দেয়। তবে আগেই জানা গেছিল, চলতি সপ্তাহে দুই নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগ হয়ে যাবে। বৃহস্পতিবার প্যানেল বৈঠকের পর সেই দুজনের নাম সংবাদমাধ্যমে জানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী।
কী প্রক্রিয়ায় এই দুজনের নাম নির্বাচন হল, সেটাও জানিয়েছেন অধীর চৌধুরী। সংবাদমাধ্যমে তিনি জানান, বৃহস্পতিবার ভোরের কিছু আগে তিনি দিল্লি এসে পৌঁছেছিলেন। তাঁকে তখন ২১২ জনের নামের তালিকা পাঠানো হয়েছিল। দুপুরের মধ্যেই তাঁদের থেকে দুটি নাম বেছে নিতে হত। এত কম সময়ে কীভাবে এই নামগুলি থেকে মাত্র দুজনকে বেছে নেওয়া যায়, সেই প্রশ্ন তোলেন অধীর। যদিও বৈঠকের ঠিক আগে তাঁকে মাত্র ৬ জনের নামের তালিকা দেওয়া হয়। সেখান থেকেই দুজনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। অধীরের অভিযোগ, এই ৬ জনের প্রত্যেকেই সরকারের কাছের লোক। তাই আদতে যাকে সরকার চেয়েছে তাঁকেই কমিশনার পদে নিয়োগ করেছে।
আগে ঠিক ছিল ১৫ মার্চ সন্ধ্যা ৬টায় সেই বৈঠক হবে। কিন্তু, পরে সরকার ঠিক করে বৃহস্পতিতেই সেই নিয়োগ সেরে ফেলা হবে। এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ কমিটি থেকে দেশের প্রধান বিচারপতিকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে করা আবেদনের দ্রুত শুনানির আর্জি গ্রহণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার শুনানির দিন ধার্য করেছে সর্বোচ্চ আদালত। তার আগেই নতুন দুই নির্বাচন কমিশনারের নাম চূড়ান্ত হয়ে গেল।
হঠাৎ কেন পদত্যাগ করলেন অরুণ গোয়েল? কমিশন সূত্রের খবর, বিপুল দফা এবং হাজার হাজার আধা সেনা মোতায়েন নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন তিনি। বক্তব্য ছিল, বিপুল আধা সেনা মোতায়েন করা হলে হিতে বিপরীত হতে পারে। জওয়ানদের দাপাদাপিতে ভোটের পরিবেশ নষ্ট হতে পারে। এছাড়া এপ্রিম-মে মাসে গরমের কথা বিবেচনায় রেখে তিনি অল্প দফায় ভোট শেষ করার পক্ষপাতী ছিলেন। অন্যদিকে, এই দুই ব্যাপারে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমারের ভিন্ন মত ছিল।