
শেষ আপডেট: 10 March 2024 20:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার-সহ মোট তিন জন নির্বাচন কমিশনার থাকতে পারেন। এতদিন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমার এবং নির্বাচন কমিশনার অরুণ গোয়েল সব দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। এদিকে তৃতীয় পদটি ফাঁকা ছিল। কিন্তু আচমকা পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন অরুণ গোয়েল। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে যা চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ একসঙ্গে দুটি পদ ফাঁকা। যদিও সূত্রের খবর, আগামী ১৫ মার্চের মধ্যেই সমস্যার সমাধান হবে।
নতুন আইন অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের কমিটি পাঁচজন অফিসারের প্যানেল থেকে নতুন কমিশনার বেছে নেবে। সূত্রের খবর, ১৩ অথবা ১৪ তারিখ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই বিষয় নিয়ে বৈঠক করতে চলেছেন এবং সব ঠিক থাকলে ১৫ তারিখই নতুন দুই কমিশনারের নাম ঘোষণা হতে পারে। এখন কমিশনে একমাত্র মুখ নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমারই আছেন। কারণ অরুণ গোয়েলের ইস্তফার আগে গত মাসে সুনীল চন্দ্র অবসর নিয়েছিলেন। তাই কমিশনারের একটি পদ ফাঁকাই ছিল।
প্রধানমন্ত্রী যে কমিটির সঙ্গে বৈঠক করবেন তাতে আছেন প্রধানমন্ত্রী মনোনীত একজন প্রবীণ মন্ত্রী এবং লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী। কমিটির সদস্যদের দেখলেই বোঝা যায়, কার্যত প্রধানমন্ত্রীর হাতেই কমিশনার নিয়োগের পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে। সেই নিয়োগই আগামী সপ্তাহে হয়ে যাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
কিন্তু হঠাৎ কেন পদত্যাগ করলেন অরুণ গোয়েল? কমিশন সূত্রের খবর, বিপুল দফা এবং হাজার হাজার আধা সেনা মোতায়েন নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন তিনি। বক্তব্য ছিল, বিপুল আধা সেনা মোতায়েন করা হলে হিতে বিপরীত হতে পারে। জওয়ানদের দাপাদাপিতে ভোটের পরিবেশ নষ্ট হতে পারে। এছাড়া এপ্রিম-মে মাসে গরমের কথা বিবেচনায় রেখে তিনি অল্প দফায় ভোট শেষ করার পক্ষপাতী ছিলেন। অন্যদিকে, এই দুই ব্যাপারে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমারের ভিন্ন মত ছিল।
যদিও প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এন গোপালস্বামী শুক্রবার দ্য ওয়াল-কে বলেছিলেন, একজন কমিশনার থাকলেও কমিশন পূর্ণাঙ্গ কমিশন হিসাবে কাজ করতে পারে। বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমার মনে করলে একাই লোকসভা ভোট পরিচালনা করতে পারবেন। কিন্তু এমনটা হলে বিরোধীরা যে ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে তা নিশ্চিত। তাই লোকসভা ভোটের আগে সমস্যার সমাধান করতে বদ্ধপরিকর মোদী সরকার। অবশ্য এরপরও একটা প্রশ্ন থেকে যায়, লোকসভা ভোটের নির্ঘণ্ট কবে ঘোষণা হবে। অনেকের মত, সেই ঘোষণা কমিশনার নিয়োগের পরই হবে। অর্থাৎ ১৫ মার্চের পর।