
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী।
শেষ আপডেট: 11 June 2024 22:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতির উঠোনে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল, পশ্চিমবঙ্গ থেকে জয়ী বিজেপির ১২ জন সাংসদের মধ্যে ৩ জন নাকি তৃণমূলে ফিরতে চাইছেন! তবে এসব জল্পনা নিয়ে এতদিন তৃণমূল চুপ ছিল। মঙ্গলবার তৃণমূল দাবি করল, বাংলা বিজেপির তিন সাংসদ তাদের সঙ্গে যোগাযোগে রয়েছেন। খুব শিগগিরি বিষ্ময়কর কিছু ঘটবে।
ক'দিন আগেও বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী দাবি করেছিলেন, লোকসভা ভোটের পর বাংলায় তৃণমূল ভাঙবে। এখন উলোটপুরাণের দাবি করছে তৃণমূল। চব্বিশের লড়াই যেন মৌসুমী বায়ুর মুখটাই ঘুরিয়ে দিয়েছে।
মঙ্গলবার তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ তথা মুখপাত্র সাকেত গোখেল টুইটে লিখেছেন, “বর্তমান হিসেবে এই মুহূর্তে লোকসভায় বিজেপির সাংসদ সংখ্যা ২৪০, ইন্ডিয়া জোটের ২৩৭। পশ্চিমবঙ্গের ৩ জন বিজেপি সাংসদ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং শীঘ্রই একটি চমৎকার খবর সামনে আসবে।” তারপর 'কী হবে' টুইটে সেই উল্লেখও করেছেন সাকেত। তাঁর কথায়, 'তখন বিজেপি এবং ইন্ডিয়া দুজনের সদস্য সংখ্যায় হবে ২৪০!'
As of today, the numbers in the Lok Sabha are
— Saket Gokhale MP (@SaketGokhale) June 11, 2024
BJP: 240
INDIA: 237
3 BJP MPs in West Bengal are in touch with us & there will be a nice surprise soon.
After that,
BJP: 240
INDIA: 240
Modi’s creaky coalition is a temporary structure which isn’t going to last very long.
সাকেত গোখেলের এই দাবির তাৎপর্য রয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। এমনিতে তিনি বাংলার মাটিতে রাজনীতি করেন না। দিল্লিই তাঁর বিচরণ ক্ষেত্র। তবে সাকেত অভিষেকের আস্থাভাজন বলে পরিচিত। অভিষেকই তাঁকে দলে এনেছেন। সাকেতকে রাজ্যসভার টিকিট দেওয়ার নেপথ্যেও অভিষেকের ভূমিকা ছিল।
তৃতীয়বার ক্ষমতায় বসে মোদীর স্লোগান 3.0 কে কটাক্ষ করে সাকেত আরও লিখেছেন, মোদীর এই অস্থায়ী জোট বেশিদিন টিকবে না। অতীতে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সাকেত। ২০২১ সালে তৃণমূলে যোগ দেন। সাকেতের টুইট সামনে আসতেই শোরগোল তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
ফল প্রকাশের পরই এনডিএ সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অতীতে দু'বার নাম কা ওয়াস্তে এনডিএ সরকার থাকলেও সেখানে শরিকদের কখনও গুরুত্ব দেওয়া হত না বলে অভিযোগ। সেখানে এবারে শরিকদের সঙ্গে নিয়ে মোদী কীভাবে সরকার চালাবেন তা নিয়ে সংশয় রয়েছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যেও।
এমন আবহে খোদ বাংলায় বিজেপির ঘরে ভাঙনের ইঙ্গিত সাকেত স্পষ্ট করতেই তীব্র কৌতূহল তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন হল, কোন তিনজন বিজেপি সাংসদ তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন? এ ব্যাপারে সাকেত স্পষ্ট করে কোনও নাম উল্লেখ করেননি।
তবে বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁকে নিয়ে এরই মধ্যে জলঘোলা শুরু হয়েছে। গতবার বাংলা থেকে ১৮টি আসনে জয়ী হয়েছিল বিজেপি। এবারে সেখানে ১২টি। খারাপ ফলের জন্য নাম না করে রাজ্যের একাংশ নেতৃত্বর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে তোপ দাগার পাশাপাশি সৌমিত্র দাবি করেছিলেন, তিনি তিনবারের সাংসদ, দলের যুব মোর্চার দায়িত্বও সাফল্যের সঙ্গে সামলেছেন। সৌমিত্রর কথায়, "বিষ্ণুপুরের মানুষ এবারে আমাকে জিতিয়েছেন মন্ত্রী হওয়ার জন্য। মন্ত্রিত্ব না পেলে ভেবে দেখব।" এও বলেছিলেন, "তৃণমূলের জেলার নেতাদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে।"
স্বভাবতই, বাংলার রাজনৈতিক হাওয়ায় ভাসছে সৌমিত্রর নাম। সঙ্গে বাকি দু'জন কারা? অপার কৌতূহল রাজনৈতিক মহলে।