
প্রধানমন্ত্রী মোদী ও শুভেন্দু অধিকারী।
শেষ আপডেট: 6 June 2024 21:38
দ্য ওয়াল ব্য়ুরো: লোকসভা ভোটের ফলাফলে আগের ৬টি আসন খুইয়ে বাংলায় এখন বিজেপির সাংসদ সংখ্যা ১২। পরাজিতর তালিকায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, সুভাষ সরকার থেকে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। অল্পের জন্য নিজের জয় টিকিয়ে রাখতে পেরেছেন বর্তমান রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।
এমন বিপর্যয়ের নেপথ্যে দলেরই একাংশের 'কলকাঠি' রয়েছে বলে ফল প্রকাশের পরই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ। স্বাভাবিকভাবে এমন ফলাফলের পর বিজেপির বঙ্গ ব্রিগেডের জন্য শীর্ষ নেতৃত্বর তরফে 'কী অপেক্ষা করে আছে' তা নিয়ে কৌতূহলও রয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
ইতিমধ্যে সাংবাদিক বৈঠক করে এই বিপর্যয়ের 'নৈতিক দায়' স্বীকারও করে নিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। দলের অন্দরে অবশ্য কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, ৪২টির মধ্যে অন্তত ২৮টি আসনে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর পছন্দের প্রার্থীদের টিকিট দেওয়া হয়েছিল। সেখানে মাত্র ২টি আসনে জয় এসেছে।
সেক্ষেত্রে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে শীর্ষ নেতৃত্ব কোনও পদক্ষেপ নেন কিনা, তা নিয়েও কৌতূহল রয়েছে বিভিন্ন মহলে।
সেবিষয়ে কী পদক্ষেপ করা হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে মোদীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে রাজ্য থেকে জয়ী বিজেপির ১২ জন সাংসদের পাশাপাশি আমন্ত্রণ পেয়েছেন বিরোধী দলনেতাও। শুভেন্দুর পাশাপাশি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এরাজ্য থেকে দলের রাজ্যসভা দুই সাংসদ অনন্ত রায় এবং শমীক ভট্টাচার্যকে।
দলের একটি সূত্রের দাবি, শুধু বাংলা নয়, সারা দেশেই বিজেপির ফলাফলে ধস নেমেছে। সেক্ষেত্রে বাস্তব পরিস্থিতি বিচার করে এখনই রাজ্য নেতৃত্বর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হবে না। বরং, উৎসাহ জোগাতে ১২টি আসন বিশিষ্ট বাংলার জন্য একাধিক মন্ত্রীপদও বরাদ্দ করতে পারে মোদী সরকার।
ওই সূত্রের দাবি, একুশের ফল খারাপের পর সেভাবে রাজ্য নেতৃত্বকে উৎসাহ না জোগানোয় আদতে রাজ্যে দলেরই সংগঠন ধাক্কা খেয়েছিল। তাই এবারে সবদিক দেখেই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
তবে এবারে একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা না থাকা এবং জোট সঙ্গীদের দাবি মিটিয়ে বাংলার জন্য শেষ পর্যন্ত দিল্লি আদৌ মন্ত্রিপদ বণ্টন করতে পারবে কি না, তা নিয়েও ধন্দ রয়েছে।