
শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 23 May 2024 18:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব মেদিনীপুর: নন্দীগ্রাম থানায় ঢুকে পুলিশকে রীতিমতো ধমক দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি নেতার মায়ের খুনির সঙ্গে বৈঠক করেছেন থানার আইসি। আইসিকে মজা দেখাব বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তার আগেই বিজেপি কর্মীরা নন্দীগ্রাম থানায় ঢুকে তৃণমূলের পতাকা বেঁধে দেন। তাঁদের অভিযোগ, নন্দীগ্রাম থানা এখন আর থানা নেই তৃণমূলের পার্টি অফিসে পরিণত হয়েছে। বিজেপি মহিলা কর্মী খুনের পরবর্তীতে সোনাচূড়ায় যখন ধুন্ধুমার পরিস্থিতি, তখন খবর পেয়ে পুলিশ পৌঁছে তৃণমূলের সোনাচূড়া অঞ্চল সভাপতি দেবু রায়কে গ্রেফতার করে। একজন মহিলা তৃণমূল কর্মীকে আটক করা হয়। কিন্তু থানায় নিয়ে এসে তাদের খাতির অভ্যর্থনা করা হয়। এমন অভিযোগ তুলে বিজেপি কর্মীরা থানার মধ্যে ঢুকে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।
পরবর্তীতে থানায় আসেন শুভেন্দু অধিকারী। থানায় ঢুকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন পুলিশকে। বলেন, "খুনির সঙ্গে মিটিং করছে পুলিশ। গ্রেফতারের প্রশ্ন আসছে না। টিএমসির গুন্ডাদের পিটিয়ে সোজা করা দরকার।" ইতিমধ্যেই এই খুনের ঘটনায় বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের দিকে ইঙ্গিত করে নন্দীগ্রামের তৃণমূল নেতা শেখ সুফিয়ানের পাল্টা দাবি, নন্দীগ্রামে পিছিয়ে পড়ার ভয়েই স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী অশান্তি করাচ্ছেন। বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই রথীবালা খুন হন।
বুধবার গভীর রাতে নন্দীগ্রামে বিজেপির এক মহিলা কর্মীকে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। হামলায় জখম হয়েছেন আরও সাত জন। বিজেপি সূত্রের দাবি, সোনাচূড়ার মনসাপুকুর বাজার এলাকায় রাত পাহারা দিচ্ছিলেন বিজেপির কর্মী সমর্থকরা। তখনই বাইকে করে তৃণমূলের এক দল দুষ্কৃতী সেখানে পৌঁছে ধারালো অস্ত্র নিয়ে বিজেপি কর্মীদের ওপর চড়াও হয়। বাধা দেওয়ায় রতিবালা আড়ি নামে এক বিজেপি কর্মীকে এলোপাথাড়ি কোপ মারে দুষ্কৃতীরা। মাকে বাঁচাতে গিয়ে জখম হন রতিবালার পুত্র স্থানীয় বিজেপি নেতা সঞ্জয়।
এদিন বিকেলে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল নন্দীগ্রামের মনসাবাজারে পৌঁছলে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। ওই প্রতিনিধি দলে ছিলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, পার্থ ভৌমিক, তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যরা। এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাঁদের দিকে তেড়ে যান বাসিন্দারা। ক্ষুব্ধ জনতাকে বোঝানোর চেষ্টা করলে তাঁরা কথা শুনতে চাননি। বরং তৃণমূলের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে "গো ব্যাক" স্লোগান দিতে থাকেন।