
নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 8 April 2024 12:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দক্ষিণ বিজয়ের লক্ষ্যে মরিয়া হয়ে উঠেছন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজ্যের ছয়টি আসনকে পাখির চোখ করে রাজ্যের শাসক দল ডিএমকে-কে ধরাশায়ী করতে মাটি কামড়ে থাকার পরিকল্পনা করেছেন তিনি। মঙ্গলবার থেকে টানা চারদিন প্রধানমন্ত্রী তামিলনাড়িতে থাকবেন। তাঁর কর্মসূচিতে আছে ১২টি জনসভা, রোড-শো, কর্মী সভা, নেতাদের সঙ্গে আলোচনা এবং তামিল সুশীল সমাজের সঙ্গে বৈঠক।
ওদিকে, হাত গুটিয়ে বসে নেই ডিএমকে প্রধান এমকে স্ট্যালিনও। ৭৪ বছর বয়সি মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন, বয়স দিয়ে আমাকে মাপার চেষ্টা ভুল। তামিলভূমিকে বিজেপির দখল মুক্ত রাখা আমার চ্যালেঞ্জ। সেই মতো সপ্তাহ দুই আগে থেকে পুরোদমে প্রচারে নেমে পড়েছেন স্ট্যালিন। তাৎপর্যপূর্ণ হল, অনেক মঞ্চেই স্ট্যালিনের পাশে থাকছেন ছেলে দয়ানিধিও।
বিজেপির পয়লা নম্বর টার্গেট অবশ্য দয়ানিধিই। মাস ছয় আগে সনাতন ধর্ম নিয়ে তাঁর বিতর্কিত মন্তব্যকে হাতিয়ার করে প্রচারে ঝড় তুলেছে পদ্ম শিবির। যদিও ডিএমকে নেতৃত্ব মনে করছে দ্রাবিড় জনতার মনের কথাই বলেছেন দয়ানিধি।
ডিএমকে নেতৃত্বের ব্যাখ্যা, উত্তর ভারতের সঙ্গে দক্ষিণ ভারত, বিশেষ করে তামিলনাড়ুর সনাতন ধর্মের ধারণার ফারাক আছে। বিজেপি সেটাই গুলিয়ে দিতে চাইছে। তামিলনাড়ুতে সনাতনপন্থী বলতে উচ্চবর্ণের গোড়া হিন্দুদের বোঝায়। তারা এখনও নিম্নবর্গের হিন্দুদের খাটো চোখে দেখে।
তামিলনাড়ুতে বিজেপির লড়াই নতুন নয়। এর আগে রাজ্যের দুই প্রধান দল ডিএমকে এবং এআইএডিএম-কের হাত ধরে ভোটে লড়াই করে তারা। এবার তুলনামূলকভাবে ছোট দল পিএমকে-র হাত ধরেছে দল। রাজ্যের ৩৯টি আসনের মধ্যে ২৩টি লড়ছে পদ্ম-শিবির। যদিও তারা পাখির চোখ করেছে ছয়টি আসন। সেগুলি হল, দক্ষিণ চেন্নাই, বৈল্লোর, পৈরমবলুর, কোয়েম্বাতুর, নীলগিরি ও বিরুদ্ধনগর। ওই ছয় আসনই বর্তমানে ডিএমকে’র দখলে।
স্বভাবতই, তামিলনাড়ুতে এতকাল ব্রাত্য বিজেপি এবার মোদীকে সামনে রেখে মরণ কামড় দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। পদ্ম শিবিরের ভাবনা হল, ওই ছয় আসন স্ট্যালিনের দলের হাত থেকে কেড়ে নিতে পারলে ২০২৬-এ বিধানসভা ভোটের লড়াইতেও অনেকটা এগিয়ে যাবে বিজেপি। বিজেপির এত আশাবাদী হওয়ার পিছনে আরও একটি কারণ হল, দলের রাজ্য সভাপতি কে আন্নামালাইয়ের রথযাত্রা। গোটা তামিলনাড়ু জুড়ে এই প্রথম বিজেপি রথযাত্রা করে। আন্নামালাইয়ের যাত্রা সফল হয়েছে, মানছে বিরোধীরাও। ফলে তামিলনাড়ুতে এবার লড়াই বিগত বছরগুলির মতো একপেশে হবে না বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।